kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

চার ভাঙায় ভাড়া বাড়ল চার গুণ

ঢাকা থেকে ১৪ ঘণ্টায় পঞ্চগড়ের বাড়ি

মো. লুৎফর রহমান, পঞ্চগড়   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




চার ভাঙায় ভাড়া বাড়ল চার গুণ

কঠোর ‘লকডাউন’ আজ বুধবার থেকে। তাই ঢাকা ছেড়ে সরকারি চাকরিজীবী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ছুটছে গ্রামে। দূরপাল্লার বাস না চললেও চুক্তিতে মাইক্রোবাস কিংবা প্রাইভেট কার নিয়ে ঘরে ফিরছে তারা। ঢাকা থেকে পঞ্চগড় ফিরতে সময় লেগে যাচ্ছে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা। ভাড়া গুনতে হচ্ছে নিয়মিত ভাড়ার প্রায় চার গুণ। ৬০০ টাকার ভাড়া এখন নেওয়া হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। কখনো আবার ভেঙে ভেঙে আসতে হচ্ছে। তাই দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হচ্ছে ঘরমুখী মানুষকে।

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের রামগঞ্জ বিলাসী নগরপাড়া এলাকার গৃহবধূ সালমা বেগম সম্প্রতি ঢাকায় গিয়ে আটকা পড়েন। ছিলেন গাজীপুরে ভাইয়ের বাড়িতে। সেখান থেকে দুই সন্তানসহ ছয়জনে মিলে ৯ হাজার টাকায় একটি মাইক্রোবাস ভাড়া করে সৈয়দপুর পর্যন্ত আসেন তিনি। সৈয়দপুর থেকে জনপ্রতি ৬০ টাকা ভাড়া দিয়ে থ্রি হুইলারে (পাগলু) করে আসেন নীলফামারী। নীলফামারী থেকে জনপ্রতি ২০০ টাকা ভাড়ায় ইজি বাইকে আসেন দেবীগঞ্জে। দেবীগঞ্জ থেকে জনপ্রতি ১০০ টাকা ভাড়ায় ইজি বাইকে করে বাড়ি পৌঁছান তিনি। গাজীপুর থেকে সোমবার রাত ৯টায় রওনা দিয়ে তিনি গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পৌঁছান বাড়িতে ।

তিনি বলেন, আগে যেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় ঢাকা থেকে বাড়িতে আসা যেত, সেখানে একজনকেই ভাড়া গুনতে হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। এর পাশাপাশি ভেঙে ভেঙে আসতে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। তাঁর মতো ঢাকাফেরত কমবেশি সবার অভিজ্ঞতা ছিল এমনই। ‘লকডাউন’ ঘোষণা হওয়ায় চার গুণ ভাড়ায় বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছে তারা।

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রনিকস বিভাগের ছাত্র ফারহান শাহরিয়ার তুষার বলেন, ‘আমার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় আমি প্রাইভেট কারে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে ফিরেছি। সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় রওনা দিই। ঢাকার ফার্মগেট থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত পৌঁছতেই চার ঘণ্টা লেগে যায়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় পঞ্চগড়ে পৌঁছি। আমার সঙ্গে বড় ভাই ছিলেন। আমাদের মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা।’

নাসিরুল হক নাসির নামের এক যাত্রী জানান, তিনি ঢাকায় সরকারি চাকরি করেন। অফিস বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরছেন তিনি। স্ত্রী-সন্তানসহ চারজনের জন্য ১০ হাজার টাকায় একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে বাড়ি ফিরছেন তিনি।

ট্রাকচালক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মানুষ পাগলের মতো ঢাকা ছাড়ছে। ট্রাক, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কারে করে, আবার কেউ ভেঙে ভেঙে বাড়ি ফিরছে। ট্রাকে মানুষ বহন করলেই হাইওয়ে পুলিশ আমাদের জরিমানা করছে।’

মাইক্রোবাসচালক সোহাগ ইসলাম বলেন, ‘আমরা চুক্তিতে যাত্রী পরিবহন করছি। বাস না চলায় নিরুপায় মানুষ পাঁচ-ছয়জন মিলে চুক্তিতে মাইক্রোবাস ভাড়া করে বাড়ি ফিরছে। বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত জ্যাম থাকছে। বাকি পথে তেমন জ্যাম নেই।’

 

 



সাতদিনের সেরা