kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

নিহতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়াল মিয়ানমারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিহতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়াল মিয়ানমারে

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের হাতে নিহতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে শতাধিক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে গত তিন দিনে। তবে গ্রেপ্তার কিংবা মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে গণতন্ত্রের দাবিতে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। পাল্টা হামলার ঘটনাও ঘটছে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর। আছে আন্তর্জাতিক চাপও। কিন্তু ঘরে-বাইরে চাপের মধ্যে থাকলেও ক্ষমতা ছাড়ার ব্যাপারে কোনো নমনীয়তা এখনো জান্তা সরকারের মধ্যে দৃশ্যমান নয়।

স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স’ (এএপিপি) গতকাল নিশ্চিত করেছে যে গত দুই মাসে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৭০১ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। যদিও ধারণা করা হয়, প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হবে। তবে গত শুক্রবার জান্তা সরকার দাবি করেছে, তাদের হাতে এ পর্যন্ত ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত তিন দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরেছে বাগো শহরে। ইয়াঙ্গুন থেকে ৬৫ কিলোমিটার উত্তর-দক্ষিণে অবস্থিত ওই শহরটিতে গত শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৮২ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়। মিয়ানমারে অবস্থিত জাতিসংঘ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা বোগা শহরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সেখানে আহত অনেক বিক্ষোভকারীকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গতকাল ভোরে মান্দালয় ও মেইকতিলা শহরের রাজপথে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অনেক বিক্ষোভকারীর হাতে বিজয়ীর প্রতীক ইউজেনিয়া ফুল দেখা গেছে। এ ছাড়া গতকাল সন্ধ্যার পর সারা দেশে মশাল মিছিল করেছে গণতন্ত্রকামীরা।

গত শনিবার সহিংসতার সূত্রপাত ঘটে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তামু শহরে। ভারত-সীমান্তবর্তী ওই শহরে পাল্টা প্রতিরোধের মুখে পড়েন সেনা সদস্যরা। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুজনের মৃত্যুর পর আন্দোলনকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তারা বোমা নিক্ষেপ করলে সেনাবাহিনীর একটি ট্রাক উল্টে যায়। এতে নিহত হন ১৫ সেনা সদস্য। একই দিন সকালে শান প্রদেশের নাউংমন শহরের একটি থানায় হামলা চালায় আঞ্চলিক বিভিন্ন সশস্ত্র বাহিনীর একটি জোট। তাতে অন্তত ১৪ পুলিশ সদস্য নিহত হন। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া  এই জোটে আরাকান আর্মি, তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি ও মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স আর্মির নামও রয়েছে।

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সিলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উয়িন মিন্টসহ এনএলডির শীর্ষ নেতাদের। জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এক বছর পর নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছে না। সূত্র : এএফপি।