kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বাংলাদেশ

মত প্রকাশ ঠেকাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মত প্রকাশ ঠেকাতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ হচ্ছে

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার ব্যক্তির নামে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটক হয়েছে কমপক্ষে ৩৫৩ জন। এমন তথ্য তুলে ধরে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরা ও কভিড-১৯ (করোনা) মোকাবেলায় সরকারের নীতি সমালোচনাকারী সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন-হয়রানি বাড়ছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

অ্যামনেস্টির অভিযোগ, পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী অন্য সংস্থাগুলো অব্যাহতভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। কভিড-১৯ মহামারির মধ্যে নারীর ওপর সহিংসতাও বেড়েছে। গতকাল বুধবার প্রকাশিত অ্যামনেস্টির ২০২০-২১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের বাংলাদেশ অংশে এসব অভিযোগ রয়েছে।

সেখানে আরো অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন স্থবির হয়ে আছে। আদিবাসী কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতিরও অবনতির চিত্র ফুটে উঠেছে। স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের প্রতিবাদ, দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনসহ কাশ্মীরে নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে সরকারের নীতির বড় সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরোধী নাভালনিকে ধীরে ধীরে হত্যা করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কাও করেছে সংস্থাটি।

অ্যামনেস্টির মতে, বৈশ্বিক মহামারি ও ‘নিষেধাজ্ঞা’র বছর ২০২০-এ চিকিৎসাকর্মী, তাঁদের সহকারী, প্রবীণদের সেবা দেওয়া ব্যক্তিরাই ছিলেন প্রকৃত বীর। তাঁরাই দেখিয়েছেন ব্যতিক্রমী নেতৃত্ব।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি বলেছে, মহামারির সময় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের অধিকার পুরোপুরি সুরক্ষিত হয়নি। মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রেখেছে। তাদের নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে  সংঘটিত সামরিক অভিযানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, করোনার কারণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও অর্থনীতি মারাত্মক চাপে পড়েছে। গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুতই তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় বেশ চাপে পড়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও রপ্তানি—দুটোই কমায় অর্থনীতির ওপর ধাক্কা ছিল দ্বিগুণ। এই ধাক্কার শিকার হন দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ কর্মী, বিশেষ করে পোশাক খাত ও অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা। ত্রাণ বিতরণেও ছিল চরম অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি। আর এগুলো নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমগুলো হয়রানির শিকার হয়। করোনা মোকাবেলায় বিধি-নিষেধের কারণে মিছিল-সমাবেশ হতে পারেনি।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মতপ্রকাশ ও সমবেত হওয়ার স্বাধীনতা খর্ব হয়েছে—এমন বেশ কিছু উদাহরণ তুলে ধরেছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম প্রসঙ্গে অ্যামনেস্টি বলেছে, অন্তত ২২২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে। ওই ২২২ জনের মধ্যে ১৪৯ জন গ্রেপ্তার হওয়ার আগে হত্যার শিকার হয়েছে। ৩৯ জন হত্যার শিকার হয়েছে গ্রেপ্তার হওয়ার পর। অন্যরা নির্যাতন বা অন্য কোনো কারণে হত্যার শিকার হয়েছে।

অ্যামনেস্টি বলেছে, ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধে’ গত বছর অন্তত ৪৫ রোহিঙ্গা আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধে’ হাজারের বেশি ব্যক্তি বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছে বলে অ্যামনেস্টি অভিযোগ করেছে।

অ্যামনেস্টি বলেছে, গত বছর ৯ জনকে গুম হওয়ার তথ্য মিলেছে। এর মধ্যে একজন কলেজ শিক্ষক, একজন সম্পাদক, একজন ব্যবসায়ী, দুজন ছাত্র ও চারজন বিরোধী কর্মী। তিনজনকে পরে পুলিশ ‘পেয়ে’ আটক করেছে। সুধীসমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র আন্দোলনের মুখে একজন ছাত্রনেতা অচেনা আটককারীদের কাছ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর মুক্ত হয়েছেন। একজন রাজনৈতিক কর্মীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বছর শেষে চারজনের খোঁজ মেলেনি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা