kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৭ জুলাই ২০২১। ১৬ জিলহজ ১৪৪২

আরেকটি ‘রক্তাক্ত রবিবার’ মিয়ানমারে

► ৫০ বিক্ষোভকারীর মৃত্যু এক দিনে
► সামরিক আইনের পরিধি বৃদ্ধি
► সু চির শুনানি স্থগিত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরেকটি ‘রক্তাক্ত রবিবার’ মিয়ানমারে

ছবি: ইন্টারনেট

জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরুর পর সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন দেখল মিয়ানমারের মানুষ। গত রবিবার এক দিনে দেশটিতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এদিকে আধিপত্যের বিস্তার বাড়াতে আরো কয়েকটি জেলায় গতকাল সোমবার সামরিক আইন জারি করেছে জান্তা সরকার। এদিন বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে  অন্তত ১১ জন মারা গেছে।

জান্তা সরকারের পতন ঘটাতে এবং সু চিসহ শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে প্রায় দেড় মাস ধরে আন্দোলন চলছে মিয়ানমারের রাজপথে। আন্দোলন দমাতে গুলি ছুড়তেও পিছপা হচ্ছে না জান্তা সরকার। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) এক দিনে ১৮ জনের মৃত্যু হয়। তখন পর্যন্ত সেটিই ছিল এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।

বিক্ষোভ শুরুর পর গত রবিবার গণতন্ত্রকামীদের ওপর সবচেয়ে বেশি চড়াও হয় পুলিশ ও সেনা সদস্যরা। পরিণামে প্রাণ যায় প্রায় ৫০ বিক্ষোভকারীর। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয় দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে।

শুরুতে ইয়াঙ্গুনের দুটি জেলায় সামরিক আইন জারি ছিল, কিন্তু চীনা ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়ের আরো কয়েকটি জেলায় সামরিক আইন জারি করা হয়। অর্থাৎ এসব এলাকায় যারা বিক্ষোভ করবে, তাদের বিচার হবে সামরিক আদালতে।

বিক্ষোভকারীদের বিশ্বাস, জান্তা সরকারকে চীন সমর্থন দিচ্ছে। কিন্তু চীনা কারখানায় গত রবিবারের হামলায় কারা জড়িত, তা তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

গতকালও মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি শহরে যথারীতি গুলি চালিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মাইংইয়ান শহরে তিন  বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। অংলান শহরে মারা গেছে দুজন। আরেক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে মান্দালয় শহরে।

এদিকে গতকাল শুনানির জন্য ভার্চুয়ালি আদালতে তোলার কথা ছিল অং সান সু চিকে, কিন্তু ‘ইন্টারনেট সংযোগে ত্রুটি’ থাকায় শুনানি স্থগিত করা হয়।

গত নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সেনাবাহিনীর টানাপড়েন চলছিল। এর মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টসহ এনএলডি শীর্ষ নেতাদের। জারি করা হয় এক বছরের জরুরি অবস্থা। সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, এক বছর পর নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে। তবে সাধারণ মানুষ এই প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করছে না। সূত্র : বিবিসি।