kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

জনরোষের মুখে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফেরানোর ঘোষণা

আজিজুল পারভেজ   

৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




জনরোষের মুখে সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফেরানোর ঘোষণা

৫ মার্চ, ১৯৭১। দেশের শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বাঙালির অসহযোগ আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। মিছিল আর প্রতিবাদের আরেক নাম হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। পঞ্চম দিনেও বিক্ষোভে-বিদ্রোহে উত্তাল ছিল সারা বাংলা। জনতার ওপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে সারা দেশে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়। বাড়তে থাকে হতাহতের সংখ্যা।

এদিন হরতাল পালনের সময় সশস্ত্র বাহিনীর গুলিতে টঙ্গী শিল্প এলাকায় চারজন শ্রমিক শহীদ হন এবং ২৫ জন শ্রমিক আহত হন। প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম ও যশোরে। রাজশাহী ও রংপুরে পুনরায় সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে। এ সংবাদে ঢাকায় জনসাধারণের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সামরিক প্রশাসনের টনক নড়ে। জনরোষের মুখে সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর সিলেটসহ বাংলাদেশের অন্যান্য স্থানে মিলিটারি নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষ, শ্রমিক, কৃষক ও ছাত্রদের হত্যা করছে। নির্বিচারে নিরস্ত্র মানুষকে এভাবে হত্যা করা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ছাড়া আর কিছুই নয়।’

সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ছিল হরতাল। এরপর দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জরুরি লেনদেনের জন্য ব্যাংক খোলা রাখার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু তা এদিন থেকে কার্যকর হয়। ‘বিকেলে ব্যাংক খোলা—ভাবতে মজাই লাগছে। শেখের একেকটা নির্দেশে সব কেমন ওলটপালট খেয়ে যাচ্ছে।’ ‘একাত্তরের দিনগুলি’তে লিখেছেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। পূর্ব পাকিস্তানের সব কিছুই পরিচালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। তাঁর নির্দেশ ছাড়া অফিস, দোকানপাট, ব্যাংক-বীমা কিছুই চলছিল না।

মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজের পর শহীদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদসভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর স্বাধিকার আন্দোলনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিকেলে কবি সাহিত্যিক ও শিক্ষকরা মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। শহীদ মিনারে ড. আহমদ শরীফের সভাপতিত্বে এক সভায় স্বাধীনতার শপথ নেওয়া হয়। ছাত্রলীগ ও ডাকসুর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম থেকে লাঠি মিছিল বের করা হয়। প্রবীণ সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ আবুল মনসুর আহমদ পাকিস্তান সরকারের খেতাব ও তকমা বর্জনের আহ্বান জানান।

সার্বিক পরিস্থিতি, গতি-প্রকৃতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৫১ পুরানা পল্টনের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়।

পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জেড এ ভুট্টো রাওয়ালপিন্ডির প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা করেন।

অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আসগর খান বিকেলে করাচি থেকে ঢাকায় পৌঁছান। তিনি রাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ধানমণ্ডির বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদেশি বেতারে প্রচারিত ‘শেখ মুজিব জনাব ভুট্টোর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগ-বাটোয়ারা করতে রাজি আছেন’ সংক্রান্ত সংবাদকে ‘অসদুদ্দেশ্যমূলক’ ও ‘কল্পনার ফানুস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

পূর্ব পাকিস্তানের নবনিযুক্ত গভর্নর ও সামরিক আইন প্রশাসক লে. জেনারেল টিক্কা খান ঢাকায় পৌঁছেন।

 

 

মন্তব্য