kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রী বললেন

খাদ্য, বাসস্থান ও টিকায় প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাদ্য, বাসস্থান ও টিকায় প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার

দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সরকার মানুষের জীবিকা, খাদ্য, স্বাস্থ্য, গৃহায়ণ এবং কভিড-১৯ টিকার বিষয়টিকে প্রাধান্য দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ যেন খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসায় কোনো কষ্ট না পায় সে দিকটা দেখা। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন যেন বিঘ্নিত না হয় সে দিকে লক্ষ রাখা, যাতে করে জনগণ সহজভাবে জীবন-জীবিকা চালিয়ে যেতে পারে।’

গতকাল মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবরা রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী সাংবাদিকদের সামনে এসব তথ্য তুলে ধরেন।

সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন করোনাকালে সারা বিশ্বে যেখানে অর্থনীতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে, সেখানে আমরা যেভাবে অর্থনীতিকে চালু রেখেছি, সেটা বজায় রাখতে হবে। আমাদের এখন গুরুত্ব দিতে হবে খাদ্য উৎপাদন, মানুষকে খাদ্য সরবরাহ, সময়মতো ভ্যাকসিন দেওয়ার বিষয়টিতে; এ জন্য প্রয়োজনে আরো ভ্যাকসিন কেনা হবে, সে জন্য অর্থ সংস্থান রাখার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় যে বিষয়গুলো আছে, অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যাতে মানুষের খাদ্য সমস্যা না হয়, কৃষি উৎপাদন বিঘ্নিত না হয়।’ তিনি নদীভাঙন রোধে যেন শুষ্ক মৌসুমে কাজ করা হয় সে বিষয়ে নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি যথাসময়ে এবং যথাসম্ভব আইন-কানুন মেনে সব প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করার জন্য নির্দেশনা দেন।

সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট এক লাখ সাড়ে ৯৭ হাজার কোটি টাকা : পরিবহন খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এক লাখ সাড়ে ৯৭ হাজার কোটি টাকার সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই খাতে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার ২১২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ২৫ শতাংশ।

সংশোধিত এডিপির অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আসবে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থায়ন করা হবে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। তবে মূল এডিপির আকার ছিল দুই লাখ পাঁচ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭০ হাজার ৫০১ কোটি ৭২ লাখ টাকা খরচ ধরা হয়। তবে সংশোধিত এডিপি বা চূড়ান্ত এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা খাতে কমছে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। ফলে চূড়ান্ত উন্নয়ন বাজেট দাঁড়াচ্ছে এক লাখ সাড়ে ৯৭ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১১ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। ফলে সংশোধিত এডিপির মোট আকার দুই লাখ ৯ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে মোট প্রকল্প এক হাজার ৮৮৬টি। এর মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার ১০১টি প্রকল্প রয়েছে। সংশোধিত এডিপিতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার বেশি কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, মহামারি কভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ করা হয়েছে।

 

মন্তব্য