kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে

নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে জনগণের সম্পৃক্ততা চাই

এ এস এম আলী কবীর, চেয়ারম্যান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে জনগণের সম্পৃক্ততা চাই

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান এ এস এম আলী কবীর বলেছেন, ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। এই কমিশনের কাজ হচ্ছে নদী-খাল-বিল-জলাশয় রক্ষা, দূষণমুক্ত রাখা, পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। নদী দখল ও দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর সুপারিশের মাধ্যমে নাব্যতা রক্ষা ও নৌপথ গড়ে তোলাও এ কমিশনের কাজ। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়সাধনের মাধ্যমে এ কাজ জোরদার করা হবে। যেকোনো মূল্যে নদ-নদী দখল ও দূষণমুক্ত রেখে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রাখা হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মনোভাব ব্যক্ত করেন।

বিসিএস (প্রশাসন) ৭৯ ব্যাচের কর্মকর্তা ও সরকারের সাবেক সচিব এ এস এম আলী কবীর গত ১৫ জানুয়ারি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুসারে ২০১৩ সালে গঠিত এই কমিশনের দ্বিতীয় চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

গত বুধবার সকালে নিজ দপ্তরে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপকালে আলী কবীর বলেন, ‘খাল-বিল-নদী-জলাশয় রক্ষার জন্য সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, তার সংস্থা বিআইডাব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড রয়েছে; রাজধানীতে রাজউক আছে, সিটি করপোরেশন আছে, সারা দেশে জেলা প্রশাসন আছে। এই সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় করেই আমরা আমাদের আইনি দায়িত্ব পালন করব। কাজের মাধ্যমেই আমরা এই কমিশনের সক্ষমতা ও যোগ্যতা বাড়ানোর দিকে নজর দেব, যাতে আমাদের কাজ এগিয়ে নেওয়া আরো সহজ হয়, নির্ভুল হয়।’

আলী কবীর বলেন, ‘এই কমিশনের কাজের ক্ষেত্রে প্রথম হাতিয়ার হচ্ছে জাতীয় নদী কমিশন আইন ২০১৩। এ আইনকে এরই মধ্যে যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেটি হলে আমাদের শক্তি আরো বাড়বে। এর মধ্যেও দেশের নদ-নদী রক্ষার ক্ষেত্রে এ দেশের জনগণের যে বিপুল উৎসাহ ও সমর্থন রয়েছে, তা এই প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় আশীর্বাদ। জনগণকে সম্পৃক্ত করেই আমরা নদী দখল ও দূষণমুক্ত রাখার কাজটি এগিয়ে নিতে চাই।’

নদীকে কলকারখানার বর্জ্যের কবল থেকে রক্ষার জন্য কিছু পরিকল্পনার কথা জানান প্রশাসনের সাবেক এই চৌকস কর্মকর্তা। তিনি বলেন, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের কলকারখানার দূষিত পানি নদীতে ফেলবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ উদ্যোগেই দূষিত বর্জ্য পরিশোধন করতে হবে। তা না হলে তাদের পানির পাইপ জিও ব্যাগ দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে, যাতে ফেলে দেওয়া পানি তাদের কারখানায়ই ফিরে যায়। নদী দখল ও দূষণ—উভয়ই সমান অপরাধ। দূষণমুক্ত রাখার মাধ্যমে নদীর পানিকে সুপেয় পানির আধার হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

আলী কবীর আরো বলেন, ব্যাবহারিক কাজের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এ জন্য আইনের নির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ করে অচিরেই কিছু আদেশ জারি করা হবে, যাতে জেলা প্রশাসকদের কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা হয়।

নদী রক্ষা কমিশনকে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ব্যাপারে কমিশনের চেয়ারম্যান আলী কবীর বলেন, ‘এ ব্যাপারে সরকারের প্রতি আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সরকার নিশ্চয়ই ব্যাপারটি দেখবে। আমরাও কাজ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জন করতে চাই।’

 

মন্তব্য