kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

পাথরঘাটা পৌর নির্বাচন

আ. লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১০০

ওসির অবস্থা গুরুতর বিদ্রোহী প্রার্থী আটক

বরগুনা ও পাথরঘাটা প্রতিনিধি   

২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ. লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১০০

বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আহত হয়েছেন পাথরঘাটা থানার ওসিসহ অন্তত ২০ পুলিশ সদস্য। ওসির অবস্থা গুরুতর বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন। এ সময় দায়িত্বরত র‌্যাব ও ম্যাজিস্ট্রেটের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি শ্রমিক লীগের বহিষ্কৃত নেতা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পাথরঘাটা থানার সামনে এই ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  মো. তোফায়েল হোসেন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে পাথরঘাটা পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন আকনের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গতকাল সোহেল সমর্থকদের নিয়ে পাথরঘাটা শহরে মিছিল বের করলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাতে বাধা দেন। এ সময় পুলিশ উভয় পক্ষকে শান্ত করে দুই দিকে সরিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরেই তালতলা এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ নারী-পুরুষ ‘সোহেল ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে’ স্লোগান দিয়ে রামদা, রড, জিআই পাইপ, কাচের বোতল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে থানা ঘেরাও করতে এলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় তারা থানার ১০০ গজ দূরে শেখ রাসেল স্কয়ারে অবস্থান নেওয়া আওয়ামী লীগের লোকজন, পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে। আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও সোহেলের সমর্থকদের দিকে ইটপাটকেল ছোড়ে। তাদের মধ্যে ধাওয়াধাওয়িও হয়। পুলিশ ৫০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে পাথরঘাটা থানার ওসি শাহাবুদ্দিনসহ প্রায় ২০ পুলিশ সদস্য এবং উভয় পক্ষের ৮০ জনের মতো আহত হয়। এ সময় মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আহতদের পাথরঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সরকার জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনের হামলায় পাথরঘাটা থানার ওসি শাহাবুদ্দিনসহ ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। তিনি আরো জানান, ঘটনার সময় র্যাব-৮-এর গাড়িও ভাঙচুর করে সোহেল সমর্থকরা। তারা বিএফডিসি মার্কেট এলাকায় কর্তব্যরত ছিল। ঘটনাস্থলে কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেটের ওপরও তারা হামলা করে।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সুলতানা জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম এন জামিউল হিকমা তাঁর গাড়িতে বিএফডিসি এলাকায় কর্তব্যরত ছিলেন। তিনি র্যাবের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপের কথা শুনেছেন। র্যাবের পটুয়াখালীর দপ্তরে ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. আবুল ফাতাহ জানান, ওসি শাহাবুদ্দিনের অবস্থা গুরুতর। তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে তাঁকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন জানান, সোহেলকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না দেওয়া হলেও তিনি অবৈধ টাকার জোরে নির্বাচনে অবতীর্ণ হন। পরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এ বিষয়ে মো. আনোয়ার হোসেন আকনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

 

মন্তব্য