kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

টিকার প্রয়োগ শুরু বুধবার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



টিকার প্রয়োগ শুরু বুধবার

দেশে করোনার টিকা ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি আর পরিকল্পনা চলছে সমানতালে। একই সঙ্গে পাইলট রানের আওতায় যাঁদের টিকা দেওয়া হবে তাঁদের তালিকা তৈরির কাজও চলছে। উদ্বোধনী দিনে কারা টিকা নেবেন সেই তালিকাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর শিডিউল পাওয়ায় আগামী বুধবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে হবে দেশে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী আয়োজন। ওই দিন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির ২৫ জনকে টিকা দেওয়া হবে। পরদিন থেকেই ঢাকার পাঁচটি হাসপাতালে শুরু হবে পাইলট রান। সেখানে ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় টিকা দেওয়া হবে। পরে এক সপ্তাহ চলবে তাঁদের পর্যবেক্ষণ। ফল দেখে ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে টিকাদানের মূল কার্যক্রম।

শুরুতে টিকা পাবে ঢাকা বিভাগের মানুষ। এ ক্ষেত্রে আগামীকাল বা পরশুর মধ্যেই ভারতের সেরাম থেকে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কেনা তিন কোটি ডোজ টিকার প্রথম চালানে ৫০ লাখ টিকা দেশে আসবে। গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সূত্রগুলো।

এই পরিকল্পনা ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগে থেকে শুরু হওয়া প্রস্তুতি দু-তিন ধরে গতি পেয়েছে। আজ রবিবার ঢাকায় ডাকা হয়েছে সব কটি বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালকদের। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সারা দেশের সিভিল সার্জনকে ঢাকায় ডেকে এনে তাঁদের চূড়ান্ত প্রস্তুতির ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আজকের বিভাগীয় পরিচালকদের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বৈঠকে মন্ত্রণালয়েরও কারো কারো উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে সেরাম থেকে কেনা ৫০ লাখ টিকা ঢাকায় পৌঁছার পর যেকোনো সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো শুরু হবে। গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরার নেতৃত্বে টিকা নিয়ে পরিকল্পনার একটি বৈঠক হয়। সেখানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখা ও হাসপাতালের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক থেকে পুরনো পরিকল্পনা ধরেই নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সঙ্গে তথ্যগত কিছুটা পার্থক্য ছিল বলে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়। তবে আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুরো টিকা কার্যক্রমের চূড়ান্ত কর্মসূচি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন হবে বলে ওই বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, স্বাস্থ্যসচিব আগামী বুধবার কুর্মিটোলা হাসপাতালে এক নার্সকে প্রথম টিকা দেওয়া হবে বলে যে তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তা নিয়ে বৈঠকের কেউ আগে থেকে অবহিত ছিলেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, টিকা কার্যক্রমের ভার্চুয়াল উদ্বোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বুধবার সময় দিয়েছেন। সেদিন আগের পরিকল্পনা অনুসারেই কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। একই ভাবে উদ্বোধনী দিনে আগের পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২৫ জনকে টিকা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যসচিব (সেবা) মো. আব্দুল মান্নানও গতকাল রাজধানীর জাতীয় কিডনি অ্যান্ড ইউরোলজি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ওই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন বুধবার যাঁদের টিকা দেওয়া হবে তাঁদের মধ্য থেকে প্রথম টিকাটি নেবেন ওই হাসপাতালের এক নার্স। স্বাস্থ্যসচিব একই সময় জানান, ৮ ফেব্রুয়ারি পুরোদমে টিকা প্রয়োগ কর্মসূচি শুরু করা হবে।

এদিকে ঢাকায় বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপন গতকাল এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন দু-এক দিনের মধ্যেই দেশে আসবে ৫০ লাখ টিকা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. সামসুল হক বলেন, ‘এরই মধ্যে বাকি টিকা রাখার জায়গা প্রস্তুত করা হয়েছে। বেক্সিমকো তাদের পরিবহন দিয়ে আমাদের দেওয়া বিভিন্ন জেলার গোডাউনে টিকা পৌঁছে দেবে। এ জন্য বেক্সিমকো উপযুক্ত তাপমাত্রার নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা করেছে।’ তিনি জানান, ২৮ জানুয়ারি থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পালইট রানের আওতায় প্রায় ৫০০ স্বাস্থ্যকর্মীকে টিকা দেওয়া হবে পর্যবেক্ষণের জন্য। পরিচালক জানান, সুরক্ষা অ্যাপসের মাধ্যমে সবার জন্যই নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। উদ্বোধনী দিনসহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাঁদের টিকা দেওয়া হবে তাঁদের নিবন্ধনও করা হবে। এখন সেগুলোই প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যাপারে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত আছি, যখন আমাদের যে নির্দেশনা দেওয়া হবে, সেভাবেই আমরা আয়োজন করতে প্রস্তুত।’ তিনি বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছাড়াও পাইলট রানের জন্য আমার হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী মিলিয়ে ১০০ জনের একটি তালিকা চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে।

এদিকে ঢাকার বাইরেও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে সব জেলার টিকার গোডাউন ও টিকাদানকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের। প্রস্তুতি চলছে মাঠপর্যায়ের টিকাদানকর্মীদের প্রশিক্ষণেরও। এ ক্ষেত্রে যেখানে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে সেখানে ওই হাসপাতালেই থাকবে টিকাদানের মূল কেন্দ্র। পাশাপাশি সদর হাসপাতালেও টিকা দেওয়া হবে। উপজেলায়ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মশিউল আলম বলেন, এখন  জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরসহ তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গায় টিকা এলে তা সংরক্ষণ এবং যাঁরা টিকা দেবেন তাঁদের তালিকা প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান। গোপালগঞ্জে করোনা টিকা দেওয়ার জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে একটি বুথ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. সুজত আহমেদ। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির জানান, প্রথমে যাঁরা করোনার টিকা পাবেন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক এমন সাড়ে ছয় হাজার ব্যক্তির নামের তালিকা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস বলেন, ‘আমরা টিকা সংরক্ষণ, সম্ভাব্য টিকা গ্রহীতাদের নিবন্ধন ও টিকাদানের প্রস্তুতি সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ের প্রশিক্ষণ নিয়েছি।’

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা)

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা