kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

উদ্ধার করা জায়গায় দ্রুত স্থাপনা গড়ে তোলা হবে

মো. সাঈদ নূর আলম
চেয়ারম্যান, রাজউক

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উদ্ধার করা জায়গায় দ্রুত স্থাপনা গড়ে তোলা হবে

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নিয়ে একটা সময়ে অনেক নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হলেও তাতে পরিবর্তন আসছে। সেবার মান যথেষ্টই উন্নত হয়েছে। আর নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে কোনো টেবিলে ফাইল আটকে না রেখে দ্রুততার সঙ্গে কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আবার দখল এড়াতে রাজউকের কোনো জায়গা উদ্ধারের পর দ্রুততার সঙ্গে সেখানে স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রাজউক চেয়ারম্যান মো. সাঈদ নূর আলম সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে এসব কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক জহিরুল ইসলাম। তাতে উঠে এসেছে রাজউকের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও। সাক্ষাৎকারটি সবিস্তারে নিম্নে তা তুলে ধরা হলো—

কালের কণ্ঠ : রাজউক চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন প্রায় এক বছর। এই সময়কালে প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রমে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে আপনি মনে করেন?

সাঈদ নূর আলম : রাজধানীর উন্নয়ন ও পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রাজউক। কর্মজীবনের শুরু থেকেই আমি একটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছি—কোনো কাজ আটকে না রাখা। রাজউকে আসার পর কখনোই আমার টেবিলে কোনো ফাইল আটকে রাখিনি। দিনের ফাইল দিনে শেষ করার চেষ্টা করেছি। অল্প কথায় বলতে গেলে, দ্রুত কাজ করা গেলে স্বচ্ছতা বাড়ে। রাজউকের কার্যকর আধুনিকায়নে অভ্যন্তরীণ কাজ করা হচ্ছে। আর আধুনিকায়নের শুরুতেই জনসম্পৃক্ততা বেশি থাকা বিভাগ অগ্রাধিকার পাবে। আমাদের এস্টেট শাখার কর্মকাণ্ড আধুনিকায়ন বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

কালের কণ্ঠ : ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র দেওয়া সহজ করার ক্ষেত্রে কোনো উদ্যোগ নেবেন কি না?

সাঈদ নূর আলম : এরই মধ্যে আমরা বিষয়টি যথেষ্ট সহজ করেছি। আরো সহজ করতে গেলে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে জনবল। ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের কাজটি করেন মূলত ডেপুটি টাউন প্ল্যানাররা। আমাদের মাত্র দুজন প্ল্যানার রয়েছেন। এই দুজনকেই আটটা জোনে কাজ করতে হয়। এর বাইরেও কিছু ইস্যু আছে। জনবল বাড়ানো গেলে পরবর্তী বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করা যাবে। এরই মধ্যে আমরা জনবলের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি।

কালের কণ্ঠ : রাজউকের সেবা কার্যক্রম নিয়ে অনেকের নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। এ ব্যাপারে কী বলবেন?

সাঈদ নূর আলম : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করে। সে কারণে কিছুটা হয়রানির বিষয় সামনে আসে। সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যায়। এটা হয় কাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণে। আমরা চেষ্টা করছি, বিলম্ব না করে দ্রুত কাজ করার জন্য। চেয়ারম্যান দপ্তরে দ্রুততার সঙ্গে ফাইল নিষ্পত্তি করা হয়। তা সবাইকে অনুসরণ করানোর চেষ্টা করছি।

কালের কণ্ঠ : বেদখল হওয়া ভূমি-সম্পদ উদ্ধার বিষয়ে রাজউকের সিদ্ধান্ত কী?

সাঈদ নূর আলম : বেদখল হওয়া জায়গার বিষয়ে আমাদের কয়েকটি বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে। প্রকৌশল বিভাগকে বলা আছে, জায়গা উদ্ধারের পরপরই যেন উন্নয়নবিষয়ক পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কেননা কোনো জায়গা উদ্ধার করে খালি ফেলে রাখলে আবার বেদখল হয়ে যায়। এ কারণে বেদখলকৃত জায়গা উদ্ধারের পরই পরিকল্পনা তৈরির বিষয়ে বলা আছে। মতিঝিলে রাজউকের বড় একটি জায়গা রয়েছে, যেখানে পার্কিং ও কমার্শিয়াল স্থাপনা তৈরির বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

কালের কণ্ঠ : করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে কার্যক্রম পরিচালনা কতটা কঠিন ছিল?

সাঈদ নূর আলম : করোনা সংক্রমণ শুরুর দিকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়াটা সত্যিকার অর্থেই বেশ কঠিন ছিল। সবার মধ্যেই এক ধরনের ভয়মিশ্রিত প্রতিক্রিয়া ছিল। তার পরও রাজউকের দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি সচল ছিল। আমি নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়েছি এবং তখনো সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অফিসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে হয়েছে। অফিসের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দু-তিনজন মারাও গেছেন। এখনো অনেকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

কালের কণ্ঠ : রাজউকের সেবাগ্রহীতাদের উদ্দেশে কিছু বলুন।

সাঈদ নূর আলম : রাজউক মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে চলেছে। তার পরও কিছু মানুষের কারণে অভিযোগ উঠছে। এই মানুষগুলোকে শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে রাজউকের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হবে। নগরবাসীও খুব সহজে সর্বোচ্চ সেবা পাবে। এর জন্য আমরা দুটি বিষয় মাথায় নিয়ে কাজ করছি। একটি হচ্ছে রাজউকের আধুনিকায়ন, দ্বিতীয় হচ্ছে রাজউকের দুর্নামে ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণ করা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা