kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

মানদণ্ড ছাড়াই ইভিএম ব্যবহারে পৌরসভা নির্ধারণ

কাজী হাফিজ   

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মানদণ্ড ছাড়াই ইভিএম ব্যবহারে পৌরসভা নির্ধারণ

পৌরসভা নির্বাচনে ভোট নেওয়ার জন্য কোনটিতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার হবে আর কোনটিতে হবে না তা ঠিক করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতি বা মানদণ্ড অনুসরণ করছে না নির্বাচন কমিশন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ বিষয়ে স্বচ্ছতা দেখিয়ে কোন ছয়টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে তার জন্য লটারি করা হয়েছিল। পৌরসভার ক্ষেত্রে তেমন ব্যবস্থাও হচ্ছে না।

কমিশনের বক্তব্য, এটা দৈবচয়নের ভিত্তিতেই হচ্ছে। কারো তদবির বা সুপারিশ এ ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হচ্ছে না। তবে যেসব পৌরসভায় ইভিএম ব্যবহার করা হবে না বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, সেসব এলাকার অনেকেরই ধারণা, প্রভাবশালীদের সুপারিশেই এমনটা হচ্ছে। ব্যালটের ভোটে ব্যাপক অনিয়মেরও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কমলগঞ্জ পৌরসভার সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইভিএম নিয়ে চিন্তিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছিল; তবে যখন তফসিল ঘোষণা করে জানানো হলো যে সেখানে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না, তখন প্রভাবশালী প্রার্থীরা ‘চিন্তামুক্ত’ হয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন ইভিএম ব্যবহারের সুবিধা সম্পর্কে বলে আসছে যে এতে জাল ভোট দেওয়াসহ অন্যান্য অনিয়মের সুযোগ কম। ইভিএমে কম ভোট পড়ার কারণ হিসেবে ভোটারদের অনাগ্রহের পাশাপাশি বলা হয়ে থাকে যে জোর করে ব্যালট বাক্স ভরার সুযোগ না থাকায় এমনটা হচ্ছে।

গতবার এক দিনে নির্বাচন যোগ্য সব পৌরসভায় ভোট হলেও এবার চার ধাপে ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম ধাপে ২৮ ডিসেম্বর ২৫টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ হতে যাচ্ছে। এর সবই হবে ইভিএমে।

দ্বিতীয় ধাপে ৬১ পৌরসভায় ভোট হবে ১৬ জানুয়ারি। এর মধ্যে ২৯টি পৌরসভায় ইভিএমে ভোট গ্রহণ করা হবে। সেগুলো হলো সিরাজগঞ্জের কাজীপুর, নারায়ণগঞ্জের তারাব, মাগুরা, ঢাকার সাভার, দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, নওগাঁর নজিপুর, পাবনার ফরিদপুর, রাজশাহীর কাঁকনহাট, কুষ্টিয়ার কুমারখালী, বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর, পিরোজপুর, নেত্রকোনার কেন্দুয়া, মেহেরপুরের গাংনী, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, খাগড়াছড়ি, নীলফামারীর সৈয়দপুর, রাজশাহীর আড়ানী, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী, কুমিল্লার চান্দিনা, ফেনীর দাগনভূঞা, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর, বগুড়ার সান্তাহার, নোয়াখালীর বসুরহাট এবং বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট।

আর ৩২টি পৌরসভায় সাধারণ ব্যালটে ভোট হবে। সেগুলো হচ্ছে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও কমলগঞ্জ, কুষ্টিয়ার মিরপুর ও ভেড়ামারা, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, দিনাজপুর, গাইবান্ধা, দিনাজপুরের বিরামপুর, পাবনার ভাঙ্গুড়া, সাঁথিয়া, সুজানগর ও ঈশ্বরদী, সুনামগঞ্জ ও জেলার ছাতক, হবিগঞ্জের মাধবপুর ও নবীগঞ্জ, ফরিদপুরের বোয়ালমারী, বগুড়ার শেরপুর, রাজশাহীর ভবানীগঞ্জ, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ, রায়গঞ্জ ও বেলকুচি, নাটোরের গোপালপুর ও গুরুদাসপুর, বান্দরবানের লামা, কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার সব পৌরসভায় ইভিএমে ভোটগ্রহণের সামর্থ্য নির্বাচন কমিশনের ছিল। গড়ে প্রতিটি পৌরসভায় ভোটকেন্দ্র ১৫টি। দ্বিতীয় ধাপের ৬১টি পৌরসভায় ভোটকেন্দ্র এক হাজারের কম। নির্বাচন কমিশন গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এক দিনে দুই হাজার ৪৮৬ কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট নিয়েছে। তা ছাড়া ইভিএম ব্যবহারের সুবিধার জন্যই এবারের নির্বাচন একাধিক দিনে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পৌরসভার নির্বাচন যেহেতু শহর এলাকায়, সে ক্ষেত্রে এর ব্যবহারে প্রতিকূলতাও কম। কিন্তু হঠাৎ নির্বাচন কমিশন সব পৌরসভায় ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।

এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়টি আসনের সব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের কয়েকটি আসনের উপনির্বাচন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কয়েকটি নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী (অব.) গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, একসময় ইভিএম ব্যবহারে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়েছিল। এখন সেই সহায়তা নেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন নিজেদের সক্ষমতা অনুযায়ী যতটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে ততটা পৌরসভায় ইভিএম ব্যবহার করতে যাচ্ছে। সে কারণে সব পৌরসভায় ইভিএম ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। একসঙ্গে ৩০টির বেশি পৌরসভায় ইভিএম ব্যবহারের সক্ষমতা বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নেই। তবে পর্যায়ক্রমে সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে। কোন পদ্ধতি বা মানদণ্ডের বিচারে ইভিএমে ভোট হবে এমন পৌরসভাগুলো নির্ধারণ করা হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তেমন কোনো ক্রাইটেরিয়া নেই। এটা অনেকটা দৈবচয়নের মাধ্যমে করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেন, যোগাযোগ সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে এটি নির্ধারণ করা হচ্ছে। কারো তদবির এ ক্ষেত্রে কাজ করছে না।

কমলগঞ্জ থেকে আমাদের প্রতিনিধি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রথম দফায় ২৫টি পৌরসভার নির্বাচন ইভিএমে নেওয়ার সিদ্ধান্তের খবর শুনে সেখানেও একইভাবে ভোট হবে কি না সেটা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। ইভিএমে ভোটগ্রহণের সুবিধা-অসুবিধা কী হতে পারে, সেটা নিয়েও দুই ধরনের আলোচনা চলে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যালটে ভোট হবে শুনে সম্ভাব্য প্রভাবশালী প্রার্থীরা বলছেন, এখন আর তাঁদের তেমন চিন্তা নেই।

কমলগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী মো. জুয়েল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ইভিএম আর ব্যালট, যে প্রক্রিয়ায়ই হোক, ভোটাররা তাঁদের ভোট দেবেন। তবে ব্যালটে হলেও কোনো সমস্যা নয়।

একই দলের আরেক সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা তো ইভিএম দেখলাম না, তাহলে সুবিধা বা অসুবিধা কী বুঝব, তবে ব্যালট পেপারে সবাই ভোট দিয়ে অভ্যস্ত।’

উপজেলা বিএনপির সদস্য আবুল হোসেন বলেছেন, ইভিএমে ভোট হলে ভালো হতো।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর গোলাম মুগ্নি মুহিত বলেন, ইভিএমে ভোটগ্রহণের কথা প্রথমে শুনে চিন্তা ছিল। কারণ ভোটারদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই, তারা কিভাবে ভোট দেবে। তবে এখন অতিরিক্ত চিন্তা নেই।

২ নম্বর ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী যুবলীগ নেতা মোশাহিদ আলী বলেন, ব্যালটে ভোট হওয়ায় ভোটারদের সুবিধা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা