kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ মাঘ ১৪২৭। ২৬ জানুয়ারি ২০২১। ১২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিশেষজ্ঞ মত

সংস্কারের কারণে ধুলা হলে দায়িত্ব ঠিকাদারের

অধ্যাপক ড. শামসুল হক

৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সংস্কারের কারণে ধুলা হলে দায়িত্ব ঠিকাদারের

বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি করিডর বা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট হচ্ছে। সেখানে ধুলাবালির কারণে দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। নির্মাণকাজে কিছু নিয়ম আছে। কাজ করতে গিয়ে ধুলাবালি ছড়িয়ে যে দূষণটা হবে, ঠিকাদারকে তা প্রতিনিয়ত নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নির্মাণ উপাদানগুলোকে ঢেকে পরিবহন এবং পানি দিয়ে তাঁকে ধুলামুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। আমি জানি না সেখানে নির্দিষ্টভাবে টেন্ডারে কী কী শর্ত আছে, তবে এগুলো থাকার কথা।

টেন্ডারের শর্তে এ বিষয়গুলো থেকে থাকলে এই কাজটি যারা বাস্তবায়ন করছে—সড়ক ও জনপথ বিভাগ, তাদের কিন্তু দায়িত্ব ঠিকাদারদের নিয়ম মানতে বাধ্য করা, ধুলা নিয়ন্ত্রণ করা।

ধুলা যেমন মানুষকে অস্বস্তিকর পরিবেশের মধ্যে ফেলে, তেমনই স্বাস্থ্যের ঝুঁকি হয়। পাশাপাশি সেই এলাকায় যে ছোট বিনিয়োগকারীরা আছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আছেন, যে দোকানদাররা আছেন, তাঁরাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন। সেই এলাকার হোটেলগুলোতে খোলা যে খাবার পরিবেশন করা হয়, সেগুলোও স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে চলে আসে।

নির্মাণকাজের সময় ধুলা আসবে, সেটা জানাই আছে। করণীয়গুলোও কিন্তু লেখা আছে। সেগুলো আদায় করাটাই আসল কাজ। ঠিকাদার স্বাভাবিকভাবে সেটা করতে চাইবেন না। সে ক্ষেত্রে যারা বাস্তবায়নকারী সংস্থা, তাদেরই কিন্তু দায়িত্বের মধ্যে পড়ে সেটা আদায় করে নেওয়া। সেখানকার নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যে রাখা। যেখানে উন্নয়নকাজ হবে, সেখানকার আশপাশের মানুষের উন্নয়ন-যন্ত্রণা কিছুটা হবে। কিন্তু সেটা যতটা এড়ানো যায়, নিয়ন্ত্রণ করা যায়, স্বাস্থ্যঝুঁকি যতটা কমানো যায়, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত।

শব্দদূষণ হয়তো নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না, ট্রাক হয়তো নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না; কিন্তু ধুলা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সেটা নানাভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য। সেটা উৎস নিয়ন্ত্রণ করা যায়, পরিবহনের সময় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কাজ চলাকালে পানি ছিটিয়েও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সুতরাং করণীয়টা ঠিকাদারের কাছ থেকে আদায় করতে হবে। উন্নত বিশ্বে যে কারণে শব্দদূষণ ও বায়ুদূষণ হয়, সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করেই কিন্তু নির্মাণকাজ চলে। এটাই কিন্তু বিজ্ঞান। এটা চুক্তির সঙ্গেই গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অঙ্গাঙ্গিভাবে থাকে। সেটাকেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

লেখক : গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা