kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সিআইডির তথ্য

বিদেশি দুই এয়ারলাইনসও মানবপাচারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদেশি দুই এয়ারলাইনসও মানবপাচারে

বাংলাদেশ থেকে মানবপাচারে বিদেশি দুটি এয়ারলাইনসের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডিপ্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের সাত কর্মকর্তাকে সিআইডি সদর দপ্তরে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁরাও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি ওই দুই এয়ারলাইনসের নাম প্রকাশ করেননি।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির প্রধান এসব তথ্য জানান। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে মানবপাচারের মামলায় পলাতক ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের সন্ধান চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।

রেড নোটিশে নাম ওঠা ওই ছয়জন হলেন মিন্টু মিয়া, তানজিমুল ওরফে তানজিদ, জাফর ইকবাল, নজরুল ইসলাম মোল্লা, শাহাদাত হোসেন ও স্বপন। এর মধ্যে নজরুলের বাড়ি মাদারীপুরে, শাহাদাতের বাড়ি ঢাকায়, বাকি চারজনের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। তানজিমুল বর্তমানে ইতালিতে রয়েছেন।

সিআইডিপ্রধান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে মানবপাচারের সঙ্গে বিদেশি দুটি এয়ারলাইনস জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। যাদের দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে, তাদের সবাইকেই ভিজিট ভিসা বা কনফারেন্স ভিসায় নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এসব ভিসায় কেউ কোনো দেশে গেলে তাদের রিটার্ন টিকিট থাকার কথা। কিন্তু ওই ব্যক্তিদের কেউ রিটার্ন টিকিট নেয়নি। এটা এয়ারলাইনসের ত্রুটি। তাঁদের কর্মকর্তারা জড়িত। পাচার হওয়া বেশির ভাগ ব্যক্তি এই দুটি এয়ারলাইনসে গেছেন।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা এয়ারলাইনস দুটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছি।’ এয়ারলাইনস দুটির কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব তদন্তেও ‘বিষয়টি দেখতে পেয়েছে’ জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁরাও বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

সিআইডিপ্রধান বলেন, ‘গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ পুলিশ ইন্টারপোলের কাছে ছয় মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তারে সহায়তা চায়। ২৭ নভেম্বর ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করে। এখন পর্যন্ত ছয়জনকে চিহ্নিত করা গেছে, যাদের সংশ্লিষ্টতা আছে। আরো কেউ বিদেশে তাদের মতো আছে কি না, তাও আমরা খতিয়ে দেখছি।’ তিনি বলেন, ২০১৯ সালের মে মাস থেকে বিভিন্ন সময় ৩৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে লিবিয়ায় পাচার করা হয়। তাদের ইতালি ও স্পেনে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ার বেনগাজিতে নিয়ে যাওয়া হয়। মুক্তিপণের জন্য গত ২৬ মে নির্বিচারে গুলি করে ২৬ জনকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মানবপাচারের অভিযোগে সারা দেশে ২৬টি মামলা হয়। এর মধ্যে সিআইডি বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। বাকিগুলো ভুক্তভোগীদের পরিবার করে।

প্রসঙ্গত, ওই ২৬ বাংলাদেশি হত্যার ঘটনার পর মানবপাচারের ২৬ মামলার মধ্যে ২৫টি মামলা তদন্ত করছে সিআইডি। এখন পর্যন্ত ১৭১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হবিগঞ্জে দায়ের করা একটি মামলার অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে ৪২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা