kalerkantho

রবিবার। ৩ মাঘ ১৪২৭। ১৭ জানুয়ারি ২০২১। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

১২ চিকিৎসক ৫ কোচিং সেন্টার মিলে চক্রে ৫০

এস এম আজাদ   

১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



১২ চিকিৎসক ৫ কোচিং সেন্টার মিলে চক্রে ৫০

মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর প্রেসের মেশিনম্যান আব্দুস সালাম খানের সহায়তায় তাঁর খালাতো ভাই জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া মুন্নু গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের হাত হয়ে পাঁচটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক, ১২ জন চিকিৎসক, কোচিং সেন্টারের মালিক, এনজিও কর্মকর্তা, আবাসন ব্যবসায়ী ও ছাত্রনেতাসহ অন্তত ৫০ জন জড়িয়ে পড়েন চক্রে। তাঁদের মাধ্যমে অন্তত ২০০ শিক্ষার্থী ফাঁস করা প্রশ্ন পেয়ে মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছেন। আর বঞ্চিত হয়েছেন অনেক মেধাবী।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার মামলায় কয়েক মাস আগে গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্ত এবং কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এই তথ্য। গ্রেপ্তারকৃত জসিমের ডায়েরিতে মিলেছে লেনদেন ও ওই কারবারে যোগাযোগের তথ্য, যা এসেছে কালের কণ্ঠ’র হাতে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পরও কয়েকজন আছেন বহাল তবিয়তে। নাম আসায় কেউ আবার গাঢাকাও দিয়েছেন। তবে একপর্যায়ে থমকে গেছে মামলাটির তদন্ত। নেই গ্রেপ্তার অভিযান।

তাঁদের কয়েকজন আগেও প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু জামিন নিয়ে বেরিয়ে যান। এবারও জামিন পেতে ব্যাপক চেষ্টা চালাচ্ছেন সিন্ডিকেট সদস্যরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় জড়িতদের সামনে নিয়ে আসা হলেও এই মামলায় নেই সেই ধরনের কার্যক্রম। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৬ সাল থেকেই মেডিক্যালে ভর্তির প্রশ্ন ছাপাখানা থেকে ফাঁস করে পাঁচটি কোচিং সেন্টারসহ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ঢাকার প্রাইমেট, ফেইম, থ্রি ডক্টরস এবং টাঙ্গাইলের এভিস ও ওমেকা মেডিক্যাল ভর্তি কোচিং সেন্টার থেকে প্রশ্ন বিক্রি হয়েছে। চক্রের হোতা জসিমের ডায়েরি, যোগাযোগ, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব প্রতিষ্ঠান এবং ডাক্তারদের নাম উঠে এসেছে। টাঙ্গাইলের ওমেকা কোচিং সেন্টারে ডা. ইমরুল কায়েস হিমেল, ডা. মেহেদী এবং হিমেলের বাবা (শিক্ষক) কুদ্দুস সরকার শিক্ষার্থীদের হাতে টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন দেন। একই এলাকার এভিস কোচিং সেন্টারের ডা. হাবিবুর রহমান হাবিব, উজ্জল সরকার ও নারায়ণগঞ্জের কাউসার আহমেদ করেন কারবার। 

টাঙ্গাইলের চক্রের মাধ্যমে প্রশ্ন পেয়েছেন এমন দুজন ছাত্রী সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের শেষ বর্ষে পড়ছেন। পরিচয় প্রকাশ না করা এবং নিরাপত্তার শর্তে তাঁরা বলেন, ডা. হিমেল তাঁদের বাসায় গিয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন দেওয়ার চুক্তি করেন। শেষে হিমেলের শ্বশুরের বাসায় লেনদেন হয়। তাঁদের চার-পাঁচজন বন্ধুও একইভাবে ভর্তি হয়েছেন। তাঁরা মেধাবী হলেও ভর্তি নিশ্চিত হতেই এই ফাঁদে পা দেন বলে দাবি করেন।

জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের মিঠাছড়া জেনারেল হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন ডা. হিমেল। তাঁর দুটি মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে দেখা গেছে সেগুলো বন্ধ। তবে সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

২০১৭ সালের ৮ অক্টোবর প্রশ্ন ফাঁসসহ মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর ডা. সোলায়মান হোসেন মেহেদীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। জসিমের চক্রে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্যও মিলেছে। আগের অভিযোগ চাপা দিয়ে বিসিএস সরকারি চিকিৎসক হিসেবে তিনি এখন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। শনিবার কলের কণ্ঠ’র পক্ষ থেকে জানতে চাইলে ডা. সোলায়মান মেহেদী বলেন, ‘আমি দিনাজপুরে লেখাপড়া করেছি। কোনো চক্রের সঙ্গে আমি জড়িত না। এটা হয়তো অন্য কেউ।’

দিনাজপুর মেডিক্যালের ২০০৬ সালের ব্যাচের ডা. মেহেদী যুক্ত ছিলেন ওমেকা কোচিং সেন্টারের প্রশ্ন ফাঁস বাণিজ্যে। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এই চিকিৎসক এখন চীনে অবস্থান করছেন।

২০১৫ সালে ঢাকায় যখন জসিমরা গ্রেপ্তার হন, তখনই ২২ সেপ্টেম্বর রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. জিল্লুর হাসান রনিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। রংপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান পাভেলের ‘এ ওয়ান কোচিং সেন্টার’ থেকে প্রশ্ন বিক্রির অভিযোগে ধরা পরলেও আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যান ডা. রনি। জসিমের ডায়েরি ও আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী সিন্ডিকেটে জড়িত তিনিও। বর্তমানে ডা. রনি ঢাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু) সার্জন। বক্তব্য জানতে রবিবার বিকেল থেকে কয়েকবার মোবাইল ফোনে কল করার পর রাত ৮টায় ফোন ধরে বলেন, ‘রোগী দেখছি। পরে কথা বলব।’

ঢাকার গ্রিন রোডের ফেইম কোচিং সেন্টারের মালিক ডা. ময়েজ উদ্দিন প্রধান একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক। সিন্ডিকেটের দুই হোতা গ্রেপ্তারের খবরে অন্যতম সদস্য ডা. ময়েজ গাঢাকা দিয়েছেন। রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারে তাঁর ছয়তলা বাড়িতে গিয়ে জানা গেছে, তিনি কিছুদিন বাড়িতে নেই। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কথা বলতে রাজি হয়নি।

আসামিদের জবানবন্দিতে একাধিকবার উঠে এসেছে গ্রিন রোডের থ্রি ডক্টরস কোচিং সেন্টারের নাম। এই কোচিংয়ের খুলনা শাখা থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী মেডিক্যালে চান্স পাওয়ার খবরও বেরিয়েছে। কোচিং সেন্টারটির পাশের একটি অ্যাডমিশন সেন্টারের মালিক জহির উদ্দিন আহমেদ বাপ্পী চক্রের হোতা জসিমের ঘনিষ্ঠ। তাঁর মাধ্যমে এই কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের ক্রেতা বানানো হতো। সেন্টারটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঢাকা মেডিক্যালের চিকিৎসক ডা. বশিরুল হকের সঙ্গে চক্রটির আরো কয়েকজনের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে তিনি রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি তো থ্রি ডক্টরস ছেড়ে দিয়েছি। সময় দিতে পারি না। এখন অন্য পরিচালকরা চালায়।’ অভিযোগ আগের জানালে তিনি বলেন, ‘আগে খুলনার পরিচালকসহ আমাদের পুলিশ জিজ্ঞেস করেছিল। এগুলো এখন আর জানি না।’ বাপ্পী সম্পর্কে ও জবানবন্দির ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি বাপ্পীকে চিনি না।’

প্রশ্ন ফাঁস চক্রে জসিমের সহযোগী উত্তরার আবাসন ব্যবসায়ী সানোয়ার ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে বলেছেন, ২০১৩ সালে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার আগের রাত ৪টার দিকে মিরপুরের প্রশিকা ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে জসিম তাঁকে ৬২টি প্রশ্ন দেন। সেই প্রশ্ন পরদিন হুবহু মিলে যায়। সানোয়ার এই প্রশ্নচক্রের সদস্য যশোরের রওশন আলী হিমু, দিনাজপুরের এনজিওর মালিক শেখ আলমাস নয়ন ও কলেজ শিক্ষক আল মাসুদ সাজ্জাদকে সরবরাহ করেন। এই সূত্র ধরে পাওয়া গেছে দিনাজপুরের বিরামপুরের বিএম কলেজের শিক্ষক সাজ্জাদকে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘২০১৫ সালে আমার এক ভাগ্নের জন্য প্রশ্ন কিনতে যশোরের হিমুর মাধ্যমে ঢাকায় যাই। ওই দিনই জসিমরা গ্রেপ্তার হয়। এ ছাড়া ওদের সঙ্গে আমি আর কাজ করিনি।’ সানোয়ারে কাছ থেকে প্রশ্ন কেনার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

জবানবন্দি ও ডায়েরিতে থাকা যশোরের রওশন আলী হিমু একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বলেছেন, ২০০৬ সালেও জসিমের মাধ্যমে মেডিক্যাল ভর্তির প্রশ্ন পেয়ে সেগুনবাগিচার একটি বাসায় তিন ভর্তীচ্ছুকে পড়ান, যারা বিভিন্ন মেডিক্যালে চান্স পায়। সেলিম ও পঞ্চগড়ের সুজন নামের দুজনের কথা বলেন তিনি। ২০১০ সালেও ৩২ জন শিক্ষার্থীকে চান্স পাইয়ে দিয়ে জসিমকে ১৬ লাখ টাকা দেন হিমু।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করা ডা. জেড এম এ সালেহীন শোভন ও ডা. রুবেল এই চক্রের অন্যতম সদস্য। মুগদা জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার শোভন কয়েকটি কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত। নাম আসার পরই গাঢাকা দিয়েছেন তিনি। নোয়াখালীর ডা. রুবেলের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যায়নি।

প্রাইমেট কোচিং সেন্টারের দিনাজপুরের রাশেদ ফারুক ও সাভারের আবু রায়হান জসিম সিন্ডিকেটের প্রশ্ন বিক্রি করেছেন। ডা. সোহেল হায়দার নামের একজনের তথ্য পাওয়া গেছে, যিনি ফাঁস হওয়া প্রশ্নে ভর্তির পর নিজেই কারবারে জড়ান।

সূত্রগুলো জানায়, প্রশ্ন বিক্রিতে ডা. হেলাল উদ্দিন ও ডা. ইব্রাহিম নামের আরা দুই চিকিৎসক জড়িত বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পঞ্চগড়ের কলেজ শিক্ষক সুজন, কোচিং ব্যবসায়ী আকতারুজ্জামান তুষার, ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোহাতার, টিঅ্যান্ডটির সাবেক কর্মকর্তা সাদেক, সৈয়দপুরের যুবলীগ নেতা মাহবুব, একটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক তারেক, উত্তরার মুনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজের কর্মকর্তা লতিফ, সৈয়দপুরের মাহবুব, আইপ্যাকের কর্মকর্তা মঞ্জু, গাড়িচালক মাসুদ, কর্মচারী মমিন, নিতাই প্রকাশ, ভাড়াটে-সহযোগী রউফ, সুজন, রাশেদ ২, সোহাগ, জামিল, লিটন, কাইয়ুম, শাহাদাৎ মননসহ ৫০ জনের নাম এসেছে।

প্রশ্ন ফাঁস কারবারে তাঁরা কোটিপতি

ব্যাংক হিসাব যাচাই করে ১১ জনের ৪৯ কোটি ছয় লাখ ৪৮ হাজার টাকার লেনদের তথ্য পেয়েছেন সিআইডির তদন্তকারীরা। মিলেছে জমি, ফ্ল্যাটসহ অঢেল সম্পদের হিসাবও। এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। ৬০০ টাকা বেতনে যোগ দেওয়া সালামের ২০১৬ সাল পর্যন্ত সর্বসাকুল্যে বেতন ছিল ২৮ হাজার টাকা। অথচ তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দুই কোটি ৮৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। সিঙ্গাইরের তালেবপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ শতাংশ জমির একটি বাগানবাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর এক হাজার শতাংশ জমির তথ্য মিলছে। মিরপুরে জসিমের আছে ‘শাম্মী ভিলা’ ও ‘পৃথ্বী ভিলা’ নামের ছয়তলা দুটি বাড়ি। দারুসসালাম রোড, মুক্ত বাংলা মার্কেটে দেড় কোটি টাকার সাতটি দোকান ও তিনটি ফ্ল্যাট আছে তাঁর। ৩৮টি ব্যাংক হিসাবে ২১ কোটি ২৭ লাখ পাঁচ হাজার টাকার লেনদেনের তথ্যও মিলেছে তাঁর। এই লেনদেন হয়েছে মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার আগে ও পরে। তাঁর স্ত্রী শিল্পীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে তিন কোটি ৭৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রায় এক হাজার ৪০০ শতাংশ জমি আছে জসিম ও তাঁর স্ত্রীর নামে।

এ ছাড়া পারভেজের হিসাবে প্রায় দুই কোটি, মীরার হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি, দীপুর এক কোটি, সানোয়ারের ভাই সালামের হিসাবে প্রায় তিন কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে। জসিমের ৩১টি জমির দলিল উদ্ধার হয়েছে। ডা. ময়েজ উদ্দিনের ব্যাংক হিসাবে ১৫ কোটি ৩৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মিলেছে। পূর্ব রাজাবাজারে ছয়তলা বাড়ি এবং গ্রিন রোডে চক্ষু হাসপাতালসহ তার প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। জানতে চাইলে সিআইডির সিনিয়র এএসপি জুয়েল চাকমা বলেন, ‘জসিম, সালামসহ যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের ব্যাপারে মানি লন্ডারিং মামলা করতে অনুসন্ধান চলছে। অন্য কারো নাম এলে তার ব্যাপারেও অনুসন্ধান হবে।’

গ্রেপ্তার নেই, থেমে গেছে অভিযান

২০১৭ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন ফাঁস তদন্তের সূত্রে মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁসের তথ্য পায় সিআইডি। গত ২০ জুলাই মিরপুর থেকে চক্রের মূল হোতা জসিমসহ পাঁচজন এবং পরবর্তী সময়ে সালামসহ আরো ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মাত্র পাঁচজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন ফাঁস ধরা পড়লে সিআইডি ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করে, যার মধ্যে ৪৬ জনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। ১২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার আগে ও পরে কর্তৃপক্ষ ৮৭ শিক্ষার্থীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। তবে মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁসে একই রকম জালিয়াতির তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলেও নেই সে ধরনের কোনো উদ্যোগ। মূল হোতা জসিম ও সালাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। এরই মধ্যে আসামিরা জামিনে ছাড়া পেতে মরিয়া। আড়ালে চলে যাচ্ছেন জালিয়াতি করা নেপথ্যের কারিগররা।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনমতো সিআইডিকে সহায়তা করছি। ঘটনাটি অনেক আগের, তবু আমরা এখন নতুন কিছু খোঁজখবর নিতে শুরু করেছি। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় প্রেস থাকায় সেখান থেকেও আলাদা কার্যক্রম চলছে।’

বর্তমান মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা, সিআইডির অ্যাডিশনাল এসপি খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘এই মামলার তদন্ত চলছে। প্রধান আসামিরা ধরা পড়েছে। তদন্ত করে আরো কারা জড়িত তা দেখা হচ্ছে।’

 

মন্তব্য