kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ

এখনই শঙ্কা দেখছে না পোশাক রপ্তানিকারকরা

এম সায়েম টিপু   

২০ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এখনই শঙ্কা দেখছে না পোশাক রপ্তানিকারকরা

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রথম ঢেউ শেষ হতে না হতেই আবার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা লাগতে শুরু করেছে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে। ইউরোপের কোনো কোনো দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্য লকডাউনে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে করোনা প্রাদুর্ভাবের সময়ের মতো তৈরি পোশাক রপ্তানি নিয়ে শঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে। কারণ বড়দিন সামনে রেখে ওই সব দেশে এখন পোশাক রপ্তানি বেশি হওয়ার কথা। এরই মধ্যে পণ্য পাঠানোর গতি কিছুটা ধীর হওয়ায় শঙ্কার বিষয়টি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তবে রপ্তানিকারকরা বলছেন, তাঁরা এখনই শঙ্কার কোনো কারণ দেখছেন না। তা ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা চালু রাখার অভিজ্ঞতা থেকে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। তাঁরা বলছেন, মহামারি শুরু হওয়ার পর পোশাক খাতে ৩১৮ কোটি ডলারের পণ্যের ক্রয়াদেশ স্থগিত বা বাতিল হলেও পরে ৯০ শতাংশই ফিরে এসেছে।

অন্যদিকে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও মনে করছে, মৌলিক পণ্য সরবরাহে বাংলাদেশই সেরা। ফলে মন্ত্রণালয় শঙ্কিত নয়, বরং সতর্ক।

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সূত্রে জানা যায়, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে কোনো অংশে তাদের ক্রয়াদেশ কমেনি, বরং অনেকটা বেড়েছে। বিশ্বের অন্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে খরচ কম পড়ায় পণ্য জাহাজীকরণের সময় কিছুটা বেশি হলেও বাংলাদেশ থেকে পণ্য নেয় তারা।

ইউরোপের বড় একটি ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের সূত্র বলছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে পণ্য জাহাজীকরণে দু-তিন সপ্তাহ কিছুটা শ্লথ করা হয়েছে। তবে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বরং কিছুটা বাড়তি ক্রয়াদেশ আছে বাংলাদেশের অনুকূলে।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এরই মধ্যে ক্রেতারা পোশাক তৈরি বন্ধ এবং পণ্য জাহাজীকরণ স্থগিত রাখার কথা বলছেন। চলতি মাসে পণ্য না গেলে এবং বড়দিনের বাজার ধরা না গেলে আবারও দেশের পোশাক খাত বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।’

দেশের বণিক সমিতিগুলোর শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলছেন, এরই মধ্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে লকডাউন শুরু হয়েছে।

নিট পোশাক খাতের অন্যতম সংগঠন বিকেএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে পণ্য জাহাজীকরণে কিছুটা ধীরগতি হলেও এবার আমরা সরকারমুখী নয়, বরং চেষ্টা থাকবে লড়াই করে টিকে থাকতে। এ ছাড়া পণ্য স্থগিত কিংবা বাতিল হলে আমাদের আশা, প্রথম ঢেউয়ের মতো ক্রেতারা স্থগিত পণ্য ফিরিয়ে নেবেন।’ তিনি বলছেন, গত বছরের এই সময়ে তাঁরা যে পরিমাণ কাজ করেছেন, এবার তার চেয়ে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম কাজ করছেন।

বিজিএমইএ জনসংযোগ স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান খান মনিরুল আলম শুভ কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনার প্রথম ধাক্কায় চলতি বছরের ২৫ মার্চ থেকে পোশাক খাতের কারখানা বন্ধ হয়। এ সময় ৩১৫ কোটি ডলারের রপ্তানি আয় স্থগিত ও বাতিল হয়। তবে জুলাই-আগস্টে এসে প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্যই ক্রেতারা আবার ফিরিয়ে নেন।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে প্রধান রপ্তানি পণ্য পোশাক খাতে প্রবৃদ্ধি ১.২ শতাংশ কমেছে। এ সময় ওভেন পোশাকে আয় কম হয়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। তবে নিট পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।

সরকারের প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এলেও দেশের প্রধান রপ্তানিতে তেমন প্রভাব পড়বে না। বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে মৌলিক ও কম দামের পণ্য রপ্তানি করে। ফলে সাময়িক রপ্তানি স্থগিত হলেও করোনার প্রথম ধাক্কার মতো এবারও স্থগিত ও বাতিল পণ্য ক্রেতারা নিয়ে যাবেন। এর পরও তাঁরা আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে নজর রাখছেন এবং সতর্ক আছেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনার প্রথম ধাক্কার সময় চীনে লকডাউন থাকার ফলে রপ্তানি খাতের কাঁচামাল আমদানিতে সংকট হলেও এবার তেমন কোনো আশঙ্কা নেই। তবে এখনই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে কার্যকর করার পরামর্শ দেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা