kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

বিশেষজ্ঞ মত

করোনা থেকে জীবন রক্ষায় তিন করণীয়

ডা. ফাহিম ইউনুস

১৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা থেকে জীবন রক্ষায় তিন করণীয়

বিশ্বজুড়ে দীর্ঘায়িত হচ্ছে করোনা সংক্রমণ। সাধারণ মানুষের হাতে দ্রুত সময়ে ভ্যাকসিন পৌঁছে দিতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। করোনা নিয়ে গবেষণায় বেরিয়ে আসছে অনেক অজানা তথ্য। আতঙ্কিত না হয়ে ভাইরাসটি সম্পর্কে সচেতন হতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। ডা. ফাহিম ইউনুস আমেরিকার মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সংক্রামক রোগ ক্লিনিকের প্রধান। বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস নিয়ে তিনি ২০ বছর ধরে কাজ করছেন। করোনা নিয়ে তিনি টুইটারে অনেক তথ্য তুলে ধরছেন। এক টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা কত মাস বা কত বছর কভিড-১৯-এর সঙ্গে থাকব, তা কেউ জানি না। এই অজানা সময়কে অস্বীকার করার যেমন দরকার নেই, তেমনি আতঙ্কিত হওয়ারও প্রয়োজন নেই। কভিড ভাইরাস পর্যবেক্ষণ করে আমরা বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত যা বুঝেছি তাতে বলা যায়, আমাদের জীবনকে অহেতুক কঠিন করার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের সুখে থাকা দরকার। এ জন্য দরকার করোনা নিয়ে সত্য কথাগুলো জানা।’

করোনা থেকে জীবন রক্ষায় ডা. ফাহিম ইউনুসের পরামর্শগুলো নিচে তুলে ধরা হলো—

কভিড থেকে বাঁচার তিনটি উপায় আছে। মাস্ক পরা, হাত ধোয়া এবং ১.৮ মিটার দূরত্ব বজায় রাখা। এই তিনটি কাজ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার সেরা পদ্ধতি।

গ্রীষ্মে ভাইরাসটির প্রভাব হ্রাস পায় না। ভারত, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় গ্রীষ্মকালে ভাইরাসটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

লিটার লিটার গরম পানি পান করে কোনো লাভ নেই। কারণ সেল ওয়ালে ঢুকে যাওয়া ভাইরাসকে পান করা গরম পানির উষ্ণতা কোনো ক্ষতি করতে পারে না।

যদি আপনার বাড়িতে কভিড-১৯ রোগী না থাকে তাহলে বাড়ির মেঝে, দেয়াল, উপরিভাগের সব কিছু জীবাণুমুক্ত করার কোনো দরকার নেই, এতে কোনো লাভ নেই।

কার্গো প্যাকেজ, শপিং ব্যাগ, পেট্রল পাম্প, শপিং কার্ট বা ব্যাংকের এটিএম মেশিন সংক্রমণ সৃষ্টি করে না। আপনার হাত ধুয়ে নেবেন বারবার এবং যথারীতি আপনার জীবন যাপন করুন।

কভিড-১৯ কোনো খাদ্যে সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ানো রোগ নয়। এটি ফ্লুর সংক্রমণের মতো হাঁচি-কাশির ফোঁটাগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্ডার করা খাবার থেকে কভিড-১৯ সংক্রমণ হওয়ার কোনো প্রমাণিত ঝুঁকি পাওয়া যায়নি। আপনার অর্ডার করা খাবার চাইলে আপনি মাইক্রোওয়েভে কিছুটা গরম করে নিতে পারেন।

অনেকে মনে করেন, সুয়ানা ভাপ নিলে গরম বাষ্প শরীরে প্রবেশ করে কভিড-১৯ ভাইরাসকে ধ্বংস করবে, কিন্তু আসলে তা না। যে ভাইরাস কোষে প্রবেশ করেছে তাকে কোনো প্রকার উষ্ণতা ধ্বংস করতে পারবে না। তা পানি বা অন্য বাষ্প যা-ই হোক।

অ্যালার্জি এবং অন্য ভাইরাল সংক্রমণ হলেও অনেকে গন্ধ অনুভূতি হারাতে পারেন। গন্ধ না পাওয়া কভিড-১৯-এর একটি অনির্দিষ্ট লক্ষণ, সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নয়।

বাইরে থেকে বাড়ি ফিরে সঙ্গে সঙ্গে জামাকাপড় পরিবর্তন করা কিংবা গোসল করার দরকার নেই। গোসল পরিচ্ছন্নতার কাজ হলেও কভিড-১৯ ঠেকাতে এটির প্রয়োজন নেই।

কভিড-১৯ ভাইরাসটি বাতাসে ভেসে বেড়ায় না। এটি একটি ড্রিপ সংক্রমণ। এর জন্য ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন। তাই আপনি খোলা পার্কের নির্মল বাতাসে, অন্য মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে ঘুরে আসতে পারেন।

কভিড-১৯ জাতি বা ধর্ম বুঝে মানুষকে আক্রমণ করে না। যেকোনো ধরনের, যেকোনো জাতির মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারে।

অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল বিশেষ সাবান ব্যবহার না করে কভিড-১৯-এর বিপরীতে যেকোনো সাধারণ সাবান ব্যবহার করাই যথেষ্ট। ভাইরাস কোনোভাবেই ব্যাক্টেরিয়া নয়।

আপনার জুতার মাধ্যমে কভিড-১৯ বাড়িতে নিয়ে এসে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কার কথা দিনে বারবার আপনার মনকে অশান্ত করে তোলে। আমি ২০ বছর ধরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে চলেছি। এটা বুঝেছি, ড্রপ সংক্রমণ কখনো জুতার মাধ্যমে ছড়ায় না।

ভিনেগার, সোডা, আদার রস, বিভিন্ন ভেষজের রস পান ভাইরাস থেকে আপনাকে রক্ষা করবে না। এর বৈজ্ঞানিক কোনো প্রমাণ নেই।

সারাক্ষণ গ্লাভস পরে থাকা একটি ভুল ধারণা। ভাইরাসটি গ্লাভসে জমে থাকতে পারে এবং পরে আপনি মুখ স্পর্শ করলে সহজেই সংক্রমণ হতে পারে।

রেস্টুরেন্টকর্মীরা একটি গ্লাভস পরে সব খাদ্য স্পর্শ করেন। এটি কিছু সময় পর পর বদলানো দরকার। আর সাধারণ মানুষের জন্য গ্লাভসের পরিবর্তে বারবার হাত ধোয়া জরুরি।

লেখক : ডা. ফাহিম ইউনুস, মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা