kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

বিষয়টি তো এমন নয়, সুইচ টিপলেই সব হয়ে যাবে

মো. আবদুল মান্নান, সচিব (স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

১৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিষয়টি তো এমন নয়, সুইচ টিপলেই সব হয়ে যাবে

কয়েক মাস ধরে বারবার নেতিবাচক আলোচনায় উঠে আসছে দেশের স্বাস্থ্য খাত। একের পর এক ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। কোনো হাসপাতাল বা চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালালেই বের হয়ে আসছে বিস্তর অনিয়ম ও অবৈধ যোগসূত্র। সর্বশেষ রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নামের একটি নির্যাতনকেন্দ্রে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আবারও সামনে চলে এসেছে স্বাস্থ্য খাতের ভঙ্গুর দিক। কেন এমন ঘটনা ঘটছে, রোধ করাই বা যাচ্ছে না কেন—এসব বিষয় নিয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তৌফিক মারুফ।

 

কালের কণ্ঠ : স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে অনেক ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। এর পরও স্বাস্থ্য খাতে নানা ধরনের অঘটন ঘটে চলছে। এসব বন্ধ হচ্ছে না কেন?

সচিব : আমাকে বলুন তো কী ধরনের অঘটন?

 

কালের কণ্ঠ : সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, মানসিক চিকিৎসার নামে মোহাম্মদপুরে একটি ভুয়া স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা। এটাকে আপনি কী বলবেন?

সচিব : আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। যাদের নিবন্ধন ছিল না, তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই, প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান মেনে চলছে না, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাব্যবস্থা নেই, ডাক্তার নেই, যন্ত্রপাতি নেই, তার পরও সেগুলো চলছিল। চিকিৎসার নামে দেশের আনাচকানাচে এসব হচ্ছে। আমি আজও (গতকাল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বলেছি এগুলোর তালিকা করে ব্যবস্থা নিতে। এই যে পুলিশ কর্মকর্তা মারা গেলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের তো বৈধতাই ছিল না।

 

কালের কণ্ঠ : এ ধরনের অবৈধ হাসপাতাল কিভাবে চলছে?

সচিব : সেটা তো আমারও প্রশ্ন। অবশ্য এখানে অনেকগুলো বিষয় যুক্ত। এসব বিষয় দেখভালের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় জনবল নেই। ফলে সঠিকভাবে মনিটর করা যাচ্ছে না। আর মনিটর করা না গেলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবেই। এ ছাড়া এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সঠিক পরিসংখ্যানও নেই। এত বড় একটা সিস্টেম রাতারাতি পরিবর্তন করা কঠিন। বিষয়টি তো এমন নয়, সুইচ টিপলেই সব হয়ে যাবে।

 

কালের কণ্ঠ : কিন্তু যাঁরা দায়িত্বে আছেন তাঁরা কি মনিটর করছেন না? কোনো প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালালেই দেখা যাচ্ছে, সেটি অবৈধ কিংবা লাইসেন্স নেই, নিবন্ধন নেই। এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠান চলছে কিভাবে?

সচিব : আমি তো বলব, সরকারের একার পক্ষে এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করা কঠিন। এ জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতা দরকার। গণমাধ্যম এসব অনিয়ম দেখিয়ে দিলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব। কিন্তু সেটা তো দেখছি না। বরং আমরা যখন কোনো অভিযানে যাই, তখন গণমাধ্যম নানা ধরনের দুর্বলতা তুলে ধরে খবর প্রকাশ করে। আমরা যে ঘাটতিগুলো খুঁজে বের করি, মিডিয়া সেগুলোই ফলাও করে প্রচার-প্রকাশ করে। এ ক্ষেত্রে মিডিয়ার আরো বেশি ভূমিকা দরকার। আমরা মিডিয়ার দিকে তাকিয়ে আছি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা