kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

আর বাকি ৪ দিন

আবারও চমকের অপেক্ষায় ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আবারও চমকের অপেক্ষায় ট্রাম্প

ছবি: ইন্টারনেট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটনটির নাম সম্ভবত ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতির অংশ না হয়েও ২০১৬ সালের নির্বাচনে তিনি হেভিওয়েট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করেন। হিলারির তুলনায় ডেমোক্রেটিক পার্টির এবারের প্রার্থী অনেকটাই ম্রিয়মাণ। সাতাত্তরের বাইডেন একটু জবুথবু, করোনাভাইরাসের আতঙ্কে খানিকটা যেন জড়সড়। এবার সেই বাইডেনের সঙ্গেই পেরে উঠছেন না ট্রাম্প। সব জাতীয় জরিপেই পিছিয়ে আছেন তিনি। যে রাজ্যগুলোতে গতবার হেসেখেলে জয় পেয়েছেন, সেগুলোতেই প্রায় হাড্ডাহাড্ডি অবস্থান। তাহলে কি শেষ হতে যাচ্ছে ‘টাম্প জাদু’? বিশ্লেষকরা এখনই এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে নারাজ। তাঁরা রীতিমতো হিসাব কষে দেখিয়ে দিচ্ছেন, জরিপ যা-ই বলুক, ট্রাম্প এবারও লালের (রিপাবলিকান পার্টির রং) সুনামি ঘটিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।

শুধু যদি নির্বাচনী প্রচারকে বিবেচনায় আনা হয়, তাহলে ট্রাম্প রীতিমতো ‘মত্ত হস্তী’। দাবড়ে বেড়াচ্ছেন দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে। দিনে তিন থেকে চারটি জনসভা করছেন। বিপরীতে বাইডেন বন্দি করোনাভাইরাসের বিধি-নিষেধের বেড়াজালে। নির্বাচনের আর মাত্র চার দিন বাকি। এরই মধ্যে কয়েক কোটি আমেরিকান আগাম ভোট দিয়ে ফেলেছেন, যাঁদের বেশির ভাগই নিবন্ধিত ডেমোক্রেটিক ভোটার। এর মানেই কি বাইডেনের সম্ভাবনা বাড়ছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ এতটা সরল পথে চলে না। গতবার প্রায় ৩০ লাখ ভোটে এগিয়ে ছিলেন হিলারি। কিন্তু ইলেকটোরাল কলেজের হিসাবে হোয়াইট হাউসের দরজা খুলে যায় ট্রাম্পের জন্য। এবারও প্রায় নিশ্চিতভাবেই বলে দেওয়া যায়, ভোটের হিসাবে এগিয়ে থাকবেন বাইডেন। মূল খেলা হবে ইলেকটোরাল কলেজের হিসাবে। ট্রাম্পের দৃষ্টি ও মনোযোগও সেই খেলার দিকেই।

এ এক অদ্ভুত ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের মোট ইলেকটোরালের সংখ্যা ৫৩৮। ৫০টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে ইলেকটর বরাদ্দ করা হয়। সঙ্গে থাকে রাজ্যপ্রতি দুজন করে সিনেটর। রাজ্যগুলোর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার ইলেকটরের সংখ্যা সর্বাধিক ৫৫। এরপর আছে টেক্সাস ৩৮, ফ্লোরিডা ও নিউ ইয়র্কে ২৯ জন করে এবং পেনসিলভানিয়ায় ২০ জন। মাইনে ও নেব্রাস্কা বাদ দিয়ে যে রাজ্যে যে প্রার্থী জয় পান সব ইলেকটোরাল ভোট তাঁর খাতায় চলে যায়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে গেলে ২৭০ ইলেকটোরালের ভোটের প্রয়োজন হয়।

এবার আসা যাক রাজ্য প্রসঙ্গে। কিছু রাজ্য আছে যেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে কোনো না কোনো দলের ঘাঁটি। এসব রাজ্যে প্রচার না চালালেও ভোট নির্দিষ্ট দলের প্রতীকেই পড়ে। হাতে গোনা কয়েকটি রাজ্যের আচরণ সুনির্দিষ্ট নয়। সেগুলোতে ভোটারদের পছন্দ প্রায় প্রতি নির্বাচনেই বদলায়। প্রার্থীরা মূলত প্রচার চালান এই রাজ্যগুলোতেই। নির্ধারিত রাজ্যগুলোর হিসাবে ট্রাম্প নিশ্চিতভাবেই পাচ্ছেন ১৬৩ ইলেকটোরাল ভোট। আর মিশিগান ও উইসকনসিন জিততে পারলে বাইডেনের নিশ্চিত ভোটের সংখ্যা ২৬০। গতবার এই দুটি রাজ্যে ট্রাম্প জিতেছিলেন।

ওহাইও রাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক সিনেটর ক্যাপ্রি কাফারো বলেন, ‘ট্রাম্প গতবার যে রাজ্যগুলোতে জিতেছিলেন এবার সেই তালিকা থেকে যদি মিশিগান ও উইসকনসিন বাদও দেওয়া হয়, তবু জিতবেন ট্রাম্প। অবশ্য তাঁকে পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, আরিজোনা ও ফ্লোরিডা অবশ্যই ধরে রাখতে হবে।’ আমেরিকান ইউনির্ভাসিটির আবাসিক নির্বাহী কাফারো আরো বলেন, ‘এটুকু রক্ষা করতে পারলেই ২৭০-এর ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছে যাবেন ট্রাম্প।’

রাজনৈতিক খবর পরিবেশনকারী ওয়েবসাইট রিয়েলফিগারপলিটিকস (আরসিপি) জানিয়েছে, পেনসিলভানিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা, আরিজোনা ও ফ্লোরিডায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এই রাজ্যগুলোতে দুই প্রার্থীই একে অন্যের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন।

এ কারণেই এই রাজ্যগুলোতে প্রার্থীদের ছোটাছুটিও বেশি। পেনসিলভানিয়ার তিন স্থানে গত সোমবার সভা করেছেন ট্রাম্প। মহামারিকালে বাইডেনকে নিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টি ঝুঁকি নিতে চাইছে না তা স্পষ্ট। এ কারণেই পেনসিলভানিয়ায় তারা পাঠিয়েছে দলের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে। দফায় দফায় সভা করেছেন তিনি। টুইটার, ভিডিও বার্তা, ফেসবুক—এমন কোনো মাধ্যম নেই, যা ব্যবহার করে তিনি ট্রাম্পের নিন্দা করেননি, বাইডেনের হয়ে ভোট চাননি। মার্কিন গণমাধ্যমে এমন একাধিক নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে মন্তব্য এসেছে, ওবামার মতো এত চমত্কারভাবে আর কেউ ট্রাম্পের সমালোচনা করতে পারেননি। ওবামার ভূমিকা বাইডেনের ভোট বাড়াবে সন্দেহ নেই। তবে রাজ্য বাঁচাতে পারে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

কেননা দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে কোনো ধরনের সুযোগ নিতে চাইছেন না ট্রাম্প। এয়ারফোর্স ওয়ানে চেপে প্রতিটি রাজ্য চষে ফেলছেন তিনি। এমনকি নেব্রাস্কা ও মাইনের মতো রাজ্য, যেখানে ইলেকটোরাল ভোটের সংখ্যা যথাক্রমে মাত্র পাঁচ ও চার, সেগুলোতেও গিয়েছেন ট্রাম্প। এই দুটি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে ইলেকটোরাল ভোট ভাগ হয় পপুলার ভোটের অনুপাতে। এর মধ্যে নেব্রাস্কা পাবেন ট্রাম্প। মাইনেতে হয়তো বাইডেনই আসছেন।

এই দোদুল্যমান রাজ্যগুলোতে ভোটের আরেকটি হিসাবও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই রাজ্যগুলোতে শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী শ্রেণির বাস বেশি। আর কখনোই কলেজে না যাওয়া এই শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী শ্রেণিকে বলা হয় ট্রাম্পের ভোটব্যাংক। মজার বিষয় হচ্ছে, বিশের দশকে এরা একসময় কট্টর ডেমোক্র্যাট ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সমর্থন দেওয়ার পরও দল তাদের জন্য বিশেষ কিছু না করায় ধীরে ধীরে রাজনৈতিক রং পাল্টায় তারা। আশির দশকে এদের নাম দেওয়া হয় ‘রিগ্যান ডেমোক্র্যাট’ (রোনাল্ড রিগ্যান রিপাবলিকান পার্টি থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট)। নব্বইয়ের দশকে এসে দুই দলের মধ্যে এদের সমর্থন প্রায় সমান সমান ছিল। কিন্তু গত ১০-১৫ বছর থেকে অবস্থা দ্রুত পাল্টাতে থাকে। ২০১৬ সালে ট্রাম্পের নানামুখী অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিশ্রুতিতে তাঁর দিকে পুরোপুরি ঝুঁকে পড়ে শ্বেতাঙ্গ শ্রমিক শ্রেণি। বলা হয়ে থাকে, এদের প্রয়োজনের দিকগুলো, এদের ভাষা পড়তে পেরেছেন ট্রাম্প। এই অংশের ভোট একচেটিয়া পেলে বিশ্ব হয়তো আবার দেখবে ‘ট্রাম্পের চমক’। সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা