kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

জিডিপিতে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ এগিয়ে

সাধুবাদ জানিয়েছেন ভারতের বিশ্লেষকরাও

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাধুবাদ জানিয়েছেন ভারতের বিশ্লেষকরাও

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের বিশাল অর্জনকে সাধুবাদ জানিয়েছে ভারত। আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি এ বছর প্রথমবারের মতো ভারতের মাথাপিছু জিডিপিকে ছাড়িয়ে যাবে। এই প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক নিয়ে ভারতে বেশ আলোচনা হয়েছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় অনেক বিশ্লেষক সব দৃষ্টিকোণ থেকে আইএমএফের পূর্বাভাসগুলো ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন।

কভিড-১৯ মহামারির কারণে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ফলে প্রায় সব বড় অর্থনীতির সামগ্রিক পতনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে আইএমএফের প্রতিবেদনে। আইএমএফের ধারণা, ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ১০ শতাংশ কমে দুই হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৮৭৭ ডলার হবে এবং বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ৪ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৮৮৮ ডলারে উন্নীত হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের অগ্রগতি, যা শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের পর দেশটিকে দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় ধনী দেশ হিসেবে গড়ে তুলেছে এবং বাংলাদেশের এই অগ্রগতিকে বেশির ভাগ ভারতীয় বিশ্লেষকই আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে ওই প্রতিবেদন ভারতীয় বিশ্লেষক মহলে বেশ আলোচনা ও বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে; যদিও অর্থনীতির সংকোচনের বিষয়টি অবশ্যই ভারতের জন্য উদ্বেগের, তার পরও ভারতীয়রা দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাফল্যের উচ্চকিত প্রশংসা করতে পিছপা হয়নি। অর্থনীতি, সামাজিক সূচক বা খেলাধুলা—বাংলাদেশ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে নতুন নতুন মানদণ্ড স্থাপন করছে, তা স্বীকার করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী এই বছরের শুরুর দিকে দক্ষতা বৃদ্ধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ক্ষমতায়ন এবং ক্ষুদ্রঋণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জনের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছিলেন। গত জুলাই মাসে বাংলাদেশকে ১০টি ব্রড গেজ লোকোমোটিভ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর সব আর্থ-সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির প্রশংসা করেছিলেন।

যেকোনো উদীয়মান অর্থনীতি ভালো করলে তা সুসংবাদ। অনেক ভারতীয় বিশ্লেষক ইঙ্গিত করেছেন, বাংলাদেশের এই উন্নতি বিশেষত ভারতের জন্যও অত্যন্ত সুসংবাদ। ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করা কৌশিক বসুর মতে, ভারতীয়রা এটিকে দেখছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্ধারণ করা সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকারের কারণেই বাংলাদেশের এই অগ্রগতি।

বিশিষ্ট সাংবাদিক স্বাতী নারায়ণ তাঁর এক কলামে গত দশকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের প্রশংসা করেছেন। শিশুমৃত্যুর হার থেকে টিকাদান, অর্থনীতিতে নারীর অন্তর্ভুক্তি থেকে শুরু করে মৌলিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পর্যন্ত বিভিন্ন সামাজিক বিকাশের সূচকে বাংলাদেশ একটি ধারা তৈরি করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলো জনসেবায় টেকসই বিনিয়োগ এবং সামাজিক ও জেন্ডার ব্যবধানগুলো দূর করার মাধ্যমে দেশের বৈষম্যগুলো বিলোপ করার ক্ষমতা।

তবে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এই বছরটি ভারতের জন্য কঠিনভাবেই শুরু হয়েছিল। তবু জিডিপির পূর্বাভাস দিয়ে ভারতের অর্থনীতিকে মাপা উচিত হবে না। এসবিআইয়ের সামষ্টিক সূচকগুলোতে ভারতের অনেক ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ ভোক্তা শহুরে ভোক্তার তুলনায় অনেক বেশি এবং মোটরবাইক ও ট্রাক্টর বিক্রিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আইএমএফ চলতি বছরের শুরুর দিকে পণ্য ও সেবা কর (জিএসটি) প্রবর্তন, মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা এবং ‘ইনসলভেন্সি ও দেউলিয়া কোডসহ’ গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য ভারতের প্রশংসা করেছিল। সব প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ভারত সরকার তার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্য অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় ভারতের কভিডের ফলে সৃষ্ট মন্দার বিরূপ প্রভাব প্রশমিত করার অনেক শক্তি রয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা