kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শেখ রাসেলের জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের ভবিষ্যৎ রচনায় কাজ করে যাচ্ছে সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিশুদের ভবিষ্যৎ রচনায় কাজ করে যাচ্ছে সরকার

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শেখ রাসেলের জীবনীর ওপর প্রকাশিত বই ‘শেখ রাসেল আমাদের আবেগ, আমাদের ভালবাসা’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন। ছবি : পিআইডি

ছোট ভাই শেখ রাসেলের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা আর যাতে না ঘটে, সে জন্য তাঁর সরকার শিশুদের জন্য একটি ভবিষ্যৎ রচনায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

গতকাল রবিবার জাতির পিতার কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে শেখ রাসেলের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহীদ শেখ রাসেলের ‘ম্যুরাল’ উন্মোচন এবং ‘শহীদ শেখ রাসেল ভবন’ উদ্বোধন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শেখ রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক সেটাই আমরা চাই। জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন। এই স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেক ঘরে পৌঁছবে এবং প্রতিটি শিশু লেখাপড়া শিখে আগামী দিনে এ দেশের কর্ণধার হবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘আজকে রাসেলের জন্মদিন। ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর রাসেলের জন্ম। কিন্তু তার জীবন শেষ হয়ে যায়, একটি ফুল কুঁড়িতেই শেষ হয়ে যায়, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে তাকে নির্মমভাবে চিরবিদায় নিতে হয়।’

ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শহীদ শেখ রাসেলের ওপর নির্মিত এনিমেটেড ডকুমেন্টারি ‘বুবুর দেশ’-এর প্রদর্শনী এবং শেখ রাসেলের জীবনীর ওপর প্রকাশিত বই ‘শেখ রাসেল আমাদের আবেগ’ এবং ‘স্মৃতির পাতায় শেখ রাসেল’ শীর্ষক দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

শেখ রাসেল শিশু-কিশোর সংসদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে প্রচারিত ‘শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের কার্যক্রমসংক্রান্ত ভিডিওচিত্র অবলোকন, এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান এবং দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ল্যাপটপ বিতরণসহ অন্যান্য কার্যক্রমে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানটির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন, শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণ এবং বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র সংযুক্ত ছিল। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন পুরস্কার ও বৃত্তি প্রদান করেন। শেখ রাসেল অনলাইন দাবা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার এবং সংগঠনটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তিনি ল্যাপটপও বিতরণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজ শেখ রাসেলের স্কুলের সব শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী যে উদ্যোগটা নিয়েছেন, সেখানে রাসেল আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু এই স্কুলের ছাত্রছাত্রী যারা যুগ যুগ ধরে পড়াশোনা করবে তারা এটুকু শিখবে, এটুকু জানবে যে একটি ছোট্ট শিশু ছিল এই স্কুলে, যে শিশুটিকে বাঁচতে দেওয়া হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘আমি শিশুদের জন্য বলব, আমাদের শিশুরা দেশপ্রেমিক হবে, মানুষের মতো মানুষ হবে, মানুষের সেবা করবে এবং নিজেদের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। আধুনিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় করোনাভাইরাসকালীন সতর্কতা হিসেবে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধান এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে স্কুল খুললেই সবাই আবার শ্রেণি কার্যক্রমে যথাযথভাবে অংশ নিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি লক্ষ রাখার পাশাপাশি তাদের মধ্যকার সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ এবং খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়ারও আহ্বান জানান।

‘রাসেল’ নামকরণটি তাঁর মা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছার করা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি বলেন, ‘আব্বা বার্ট্রান্ড রাসেলের খুব ভক্ত ছিলেন, রাসেলের বই পড়ে মাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। মা রাসেলের ফিলোসফি শুনে শুনে এত ভক্ত হয়ে যান যে নিজের ছোট সন্তানের নাম রাসেল রাখলেন।’

 

মন্তব্য