kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ফের ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের’ কার্ড খেলছেন ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফের ‘শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের’ কার্ড খেলছেন ট্রাম্প

নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য গলাবাজি। আর তিনি তাঁর ভোটারদের খুব ভালো বোঝেন। জানেন, তাঁরা কী শুনতে চান। আর সে কারণেই পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা নিয়ে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভের মধ্যেও তিনি শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি সমর্থন জানাতে খুব বেশি দ্বিধান্বিত নন। কট্টোরপন্থার প্রতি সমর্থন, অতিকথন, প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত এবং কুরুচিপূর্ণ আক্রমণ করে এর আগে ২০১৬ সালে সাফল্য পেয়েছেন তিনি। রিপাবলিকান প্রার্থী আবারও তাঁর সেই পুরনো চালেই খেলতে শুরু করেছেন।

এর সবচেয়ে বড় প্রদর্শনীটি হয়ে গেল গত মঙ্গলবার প্রেসিডেনশিয়াল প্রথম বিতর্কে। বর্ণবাদী দাঙ্গাগুলোর জন্য শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বকে দায়ী করে তাদের নিন্দা জানাতে বলা হলে জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘নিন্দা করব। তবে আমি লক্ষ করেছি, এসব দাঙ্গার জন্য রক্ষণশীলরা নয়, বরং বামপন্থীরা দায়ী।’ এরপর আবারও একই অনুরোধ করা হলে তিনি বলেন, ‘কারো নাম বলেন যাদের নিন্দা জানাতে হবে।’ এ সময় তাঁর ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী ‘প্রাউড বয়েজের’ নাম বললে ট্রাম্প তাদের নিন্দা না করে বলেন, ‘আমি তাদের উদ্দেশে বলব, অপেক্ষা করো।’ এই গোষ্ঠী প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে লুফে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের বক্তব্যকে নিজেদের লোগো হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।

পুরো বিষয়টি নিয়ে ওই দিন থেকেই গণমাধ্যমে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। আবারও গত বুধবার একই ইস্যুতে প্রশ্ন করা হয় প্রেসিডেন্টকে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এই গোষ্ঠীকে আমি চিনি না। তাদের পরিচয় দিন। তাদের উচিত সতর্ক থাকা। আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি এ মুহূর্তে আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ট্রাম্পের এ বক্তব্যের পর এসংক্রান্ত আলোচনা পালে হাওয়া পায়। সিএনএন এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে জানায়, এ দফাও সরাসরি উগ্রবাদের নিন্দা জানানো থেকে বিরত থাকলেন প্রেসিডেন্ট। একে প্রচ্ছন্ন সমর্থনও বলা যায়। এর আগে ২০১৭ সালে শার্লটসভিলে এক শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদী উদারপন্থীদের এক সমাবেশে গাড়ি তুলে দিলে বেশ কয়েকজন নিহত হয়। পরে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই উগ্রবাদীর প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন ট্রাম্প। গত নির্বাচনের আগেও স্পষ্টভাবে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্বের পক্ষেই ছিলেন তিনি। এর কারণও স্পষ্ট। ট্রাম্পের মূল ভোট ব্যাংক এই শ্বেতাঙ্গরাই। তবে এর মধ্যেও ভাগ আছে। যারা কখনোই কলেজের মুখ দেখেনি—এমন শ্বেতাঙ্গরাই তাঁকে সমর্থন করে। কম শিক্ষিত, ধর্মীয়ভাবে গোঁড়া, কিছুটা নারী বিদ্বেষী। যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি লবিও মূলত ট্রাম্পের সমর্থক। এদের ভোটেই রাজনীতিতে বহিরাগত হওয়ার পরও তিনি আজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

ফলে বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করে নিন্দা জানানো তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়, সে চেষ্টাও তিনি করেননি। বরং পুরনো কৌশলেই এগোচ্ছেন। শ্বেতাঙ্গদের অহংয়ে হাওয়া দিচ্ছেন। নির্দিষ্ট নীতি-কৌশল-ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নয়, বরং তাঁর মূল লক্ষ্য, প্রতিপক্ষকে ব্যক্তিগত আক্রমণে ধরাশায়ী করার। বিতর্কই প্রমাণ, তা তিনি করছেন। বাইডেনের ছেলেদের পেশা-স্বভাব নিয়ে এরই মধ্যে খোঁটা দিয়েছেন তিনি। বাইডেনকে ‘বুদ্ধিমান নয়’ এমনকি ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো মেজাজ বাইডেনের স্বভাবে নেই’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

তবে এসব রণকৌশল এবার তাঁকে সাফল্য দেবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। পরিস্থিতি পাল্টেছে। করোনাভাইরাসে দুই লক্ষাধিক মার্কিনির মৃত্যু এবং দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ শুরুর শঙ্কায় অস্তিত্ব সংকটে অনেকেই। আর এর জন্য ট্রাম্পের অব্যবস্থাকেই দায়ী করা হচ্ছে। অর্থনীতির স্ফীতি ভাইরাসের কারণে আগের মতো নেই। পুলিশের হেফাজতে নিরস্ত্র কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হওয়ার পর বর্ণবাদ নিয়েও তীব্র আন্দোলন চলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিতর্কে ট্রাম্পের বেপরোয়া আচরণ। বিতর্ক নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের নির্ণায়ক না হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি ট্রাম্পের পক্ষে নেই। নির্বাচনের মাত্র তিন সপ্তাহ হাতে রেখে হাওয়ার গতিপথ ট্রাম্প কতটা পাল্টাতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে।

মন্তব্য