kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

অর্থনীতির সূচকে উন্নতি

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে লড়ছেন উপদেষ্টা মসিউর রহমান

বিশেষ প্রতিনিধি   

১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে লড়ছেন উপদেষ্টা মসিউর রহমান

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বের অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত, তখন একটির পর একটি প্রণোদনা ও আর্থিক সহযোগিতার ঘোষণা এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের শিল্পপতি, ছোট-বড় ব্যবসায়ী, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দৃঢ় মনোবল নিয়ে এই কঠিন অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় লড়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর এ কাজে সঠিক পরামর্শ ও পরিকল্পনা দিয়ে তাঁকে সহযোগিতা করছেন তাঁর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। সঙ্গে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।    

করোনাভাইরাস সংকট কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন প্যাকেজে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করে তা বাস্তবায়ন করছে আওয়ামী লীগ সরকার। এর বাইরেও সরকার অসংখ্য উদ্যোগ নিয়েছে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ, হতদরিদ্র জনগণ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান রক্ষায়। যা অনেক দেশের কাছে বর্তমানে দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। তারা বাংলাদেশকে অনুসরণ করছে। নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে উঠে এসেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নে তাঁর উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। 

ড. মসিউর রহমান ২০০৯ সাল থেকে তিন মেয়াদে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া এই কৃতী ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রেকর্ডসংখ্যক মার্ক নিয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। শুধু একাডেমিক পরীক্ষা নয়, সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায়ও সমগ্র পাকিস্তানে নিজেকে গৌরবোজ্জ্বল স্থানে নিয়ে যান ড. মসিউর রহমান। ইআরডি সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ড. মসিউর রহমান ১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য তাঁর কর্মজীবনকে আরো সমৃদ্ধ করেছে।

এ সম্পর্কে গত ১৫ আগস্ট ‘বঙ্গন্ধুর স্মৃতি’ শিরোনামে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে একটি কথোপকথনের উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রীর (পরে রাষ্ট্রপতি) একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করা নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ছিল তাঁর এই কথোপকথন। জাতির জনক মেধাবী সিএসপি অফিসার ড. মসিউর রহমানকে তাঁর পিএস হিসেবে নিতে চান জানিয়ে বলেন, ‘তোমার দ্বিমত আছে?’ এ প্রসঙ্গে ড. মসিউর রহমান ওই নিবন্ধে লিখেছেন, ‘তাঁর এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কঠিন। বাংলাদেশে এমন কেউ ছিল না, যে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসার এবং তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলে নিজেকে ধন্য মনে করত না। আমি কোনো রকম থতমতভাবে বললাম : আপনার সঙ্গে কাজ করা আমার সৌভাগ্য, আমার ওপর আপনার আস্থা থাকলে আমি অবশ্যই আপনার সঙ্গে থাকব। এর উত্তরে বঙ্গবন্ধুর উত্তর স্নেহসিক্ত : না জেনেশুনে কি আমি তোমাকে পছন্দ করেছি?’ ড. মসিউর রহমান ওই নিবন্ধে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে থেকে নানা বিষয়ে সমৃদ্ধ হওয়ার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। ওই নিবন্ধের শেষে ড. মসিউর রহমান বলেন, ‘আমার সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছি; আবার শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হলে তাঁর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। যে আদর্শ ও উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল, সেই আদর্শ ও উদ্দেশ্য অর্জন প্রচেষ্টায় অংশ নেওয়ার সৌভাগ্য অতি বিরল। আমার সেই সৌভাগ্য হয়েছে।’

বিএনপির শাসনামল ২০০১ সালের অক্টোবরে ড. মসিউর রহমানকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক উপদেষ্টার পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদেরও সদস্য।

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সুগন্ধী গ্রামের এই কৃতী সন্তান দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের অভূতপূর্ব উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ মোংলা সমুদ্রবন্দর ড্রেজিং ও উন্নয়ন, রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপন, তেরখাদার দীর্ঘদিনের অভিশপ্ত ভূতিয়ার বিলের জলাবদ্ধতা নিরসন, ইখড়ি বিদ্যুেকন্দ্র, নর্থ খুলনা ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, চিত্রা ও আঠারোবেকী নদী খনন, খুলনা ওয়াসার ২৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দে ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা