kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

যেভাবে প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি মিন্নি

বরগুনা প্রতিনিধি   

১ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেভাবে প্রধান সাক্ষী থেকে আসামি মিন্নি

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হয়। গতকাল বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রিফাত শরীফ হত্যা মামলার এজাহারে তাঁর স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল। কিন্তু রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ছেলের হত্যাকাণ্ডের জন্য পুত্রবধূকে দায়ী করেন। হত্যাকাণ্ডের ১৬ দিন পর গত বছরের ১৩ জুলাই সংবাদ সম্মেলন করে দুলাল শরীফ মিন্নির গ্রেপ্তার দাবি করেন। এরপর ঘটনা নতুন দিকে মোড় নেয়। পরদিন শ্বশুরের অভিযোগের জবাব দিতে সংবাদ সম্মেলন করেন মিন্নি। তিনি বলেন, তাঁর শ্বশুর প্রভাবশালীদের চাপে ও প্ররোচনায় তাঁকে জড়িয়ে বানোয়াট ও মিথ্যা বলছেন।

এরপর গত ১৬ জুলাই আসামি শনাক্তের কথা বলে মিন্নিকে তাঁর বাবার বাসা থেকে পুলিশ লাইনসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে টানা প্রায় ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে তাঁকে রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরের দিন ১৭ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষে মিন্নিকে গোপনে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। যদিও তাঁর বাবা মোজ্জাম্মেল হোসেন কিশোর দাবি করেন, জোরজবরদস্তি ও নির্যাতন করে তাঁর মেয়ের কাছ থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক মো. আছাদুজ্জামান বলেছেন, এ মামলার প্রধান সাক্ষী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ঘটনার শিকার রিফাত শরীফকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনায় তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের আগে রিফাত শরীফকে যখন অন্য আসামিরা কলার ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন মিন্নি তাঁদের পেছনে পেছনে ধীর পায়ে হেঁটে আসছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর প্রধান আসামি সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ে হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। যদিও মিন্নি বিষয়টি অস্বীকার করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুজিবুল হক কিসলু সাংবাদিকদের জানান, মিন্নি প্রথমে এ মামলার সাক্ষী ছিলেন, এটা সত্য। কারণ যখন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে সেখানে নিহত রিফাতের বাবা উপস্থিত ছিলেন না। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পুত্রবধূ মিন্নি। তখন সরল মনে রিফাত শরীফের বাবা দুলাল শরীফ পুত্রবধূকে এ মামলার ১ নম্বর সাক্ষী রাখেন। পরে যখন তিনি বুঝতে পারেন যে মিন্নির সঙ্গে হত্যাকারী নয়ন বন্ডের বিয়ে ও সখ্য ছিল এবং যখন তিনি এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে মিন্নির পূর্বপরিকল্পনার বিষয়টি বুঝতে পারেন তখনই তিনি সংবাদ সম্মেলন করে মিন্নিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

অ্যাডভোকেট কিসলু আরো জানান, এ হত্যাকাণ্ডে আগে ও পরে নয়ন বন্ডসহ হত্যাকারীদের সঙ্গে মিন্নির একাধিকবার যোগাযোগের বিষয়টি আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা