kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

প্রশাসনকে গণমুখী করতে বড় ভূমিকায় এইচ টি ইমাম

বিশেষ প্রতিনিধি   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রশাসনকে গণমুখী করতে বড় ভূমিকায় এইচ টি ইমাম

ষাটের দশকে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক অবস্থা তাঁকে ক্ষুব্ধ করে। সরকারের উচ্চ পদে অধিষ্ঠিত থাকায় তাঁর চোখে পাকিস্তান মুসলিম লীগ ও সামরিক প্রশাসকদের শোষণ, বৈষম্য, বঞ্চনার রূপ প্রকট হয়ে ওঠে। তিনি হোসেন তৌফিক ইমাম, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এইচ টি ইমাম নামে তিনি বেশি পরিচিত।

একাত্তরের ভয়াল পঁচিশে মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদারদের নৃশংসতার সংবাদ পাওয়ার আগেই দেশের সংকটজনক পরিস্থিতির কর্মপন্থা নির্ধারণ করে রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংকট মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধকালে ১৯৭১ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের আহ্বানে পূর্বাঞ্চলের আঞ্চলিক প্রশাসনের পদ থেকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদসচিব পদে যোগদান করেন। এইচ টি ইমাম ১৯৭৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত এই পদে ছিলেন। এরপর তাঁকে বরখাস্ত করে বঙ্গবন্ধুর খুনিচক্র কারগারে পাঠায়। ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।

এইচ টি ইমাম ছাত্রজীবনে প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছিলেন ঢাকসুর কমনরুম সেক্রেটারি। অর্থনীতির এই ছাত্র কর্মজীবনের শুরুতে রাজশাহী কলেজে প্রভাষক হিসেবে প্রায় দুই বছর শিক্ষকতা করেন। এরপর পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান দখল করে সিএসপি হন। মন্ত্রিপরিষদসচিব ছাড়াও তিনি রাজশাহী জেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, নওগাঁর এসডিও, ঢাকার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, পাকিস্তানের তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র মন্ত্রী খাজা শাহাবুদ্দীনের একান্ত সচিব, পূর্ব পাকিস্তান সরকারের অর্থ বিভাগের উপসচিব, সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব, প্ল্যানিং ডিভিশনের সচিব, প্ল্যানিং কমিশনের সদস্য, পিএটিসির প্রকল্প পরিচালক, যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষের কার্যনির্বাহী পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৯৯৬-২০০১ সরকারের শাসনামলে তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের বিপর্যস্ত প্রশাসনব্যবস্থা সচল করে তোলা এবং দেশ পুনর্গঠনের কাজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অন্যান্য সহকর্মী ও মন্ত্রীদের সঙ্গে তিনি নিয়োজিত ছিলেন। এই দায়িত্বে সাড়ে চার বছরে তিনি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের নতুন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, করপোরেশন ইত্যাদির রূপরেখা তৈরি ছাড়াও পাকিস্তান আমলের পুরনো নিয়ম-কানুন ও পদ্ধতির আমূল সংস্কারে মুখ্য ভূমিকা রাখেন।

আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ করেন। ২০১৪ সালে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও এইচ টি ইমামকে তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। ২০০৮, ২০১৪ এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন এইচ টি ইমাম।

২০০৬ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। পরের বছর অর্থাৎ ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ওই একতরফা নির্বাচন আয়োজনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগের থিংকট্যাংক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এইচ টি ইমাম। শেষ পর্যন্ত ফখরুদ্দীন আহমদকে নতুন প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ দিয়ে রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ২২ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা