kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ট্রাম্প-বাইডেনের মাঝে সুপ্রিম কোর্ট

চলছে প্রথম বিতর্কের জোর প্রস্তুতি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ট্রাম্প-বাইডেনের মাঝে সুপ্রিম কোর্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর ৩৯ দিন বাকি। করোনাভাইরাসের তীব্র সংক্রমণের মধ্যেও জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা। চলছে প্রথম বিতর্কের জোর প্রস্তুতি। গতানুগতিক বিষয়গুলো ছাপিয়ে এবার রিপাবলিকান প্রার্থী বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের মধ্যে অনুষ্ঠেয় প্রথম বিতর্কের মূল বিষয় হয়ে উঠেছে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগের ইস্যুটি। ট্রাম্প এরই মধ্যে এ ব্যাপারে তাঁর নিজ দলের সর্বাত্মক সমর্থন পেয়ে গেছেন। আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ হাতে রেখে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘোর বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রেওয়াজ অনুসারে নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের মধ্যে তিনটি বিতর্কের আয়োজন করা হয়। বিতর্কগুলো ভোটের জয়-পরাজয় নিশ্চিত করতে না পারলেও এগুলো ভোটারদের প্রভাবিত করে। সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে ৯০ মিনিটের এই বিতর্কগুলো অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প-বাইডেনের তিন পর্বের এই নাটকীয় বিতর্কের প্রথম পর্ব ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করা হবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর। পরের দুটি যথাক্রমে ১৫ ও ২২ অক্টোবর।

প্রথম পর্বে পাঁচ ইস্যুতে যুক্তি ও পাল্টাযুক্তি উপস্থাপন করবেন ট্রাম্প ও বাইডেন। এর মধ্যে প্রথমটিই হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ। গত সপ্তাহে উদারপন্থী বিচারপতি রুথ বাডার গিন্সবার্গের মৃত্যু হলে এ পদটি শূন্য হয়। ট্রাম্প এরই মধ্যে জানিয়েছেন, তিনি আগামী শনিবার বিকেলেই (স্থানীয় সময়) এ পদের জন্য তাঁর মনোনীত ব্যক্তির নাম ঘোষণা করবেন। নিয়মানুযায়ী, প্রেসিডেন্ট তাঁর মনোনয়ন জানানোর পর সিনেট এ নিয়ে শুনানি ও ভোটাভুটির আয়োজন করে। রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেটে ট্রাম্পের মনোনয়ন পাসে বেগ পাওয়ার কথা না। তবে

১০০ আসনের সিনেটে ৫৩ আসনের নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকান পার্টির তিন সিনেটর এ ব্যাপারে নিজেদের অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার এ অস্বস্তিকে দূরে সরিয়ে দলে ট্রাম্পের সবচেয়ে সরব সমালোচক মিট রমনি তাঁর সমর্থনের ঘোষণা দেন। ফলে নিজ প্রার্থী পাস করিয়ে আনার ব্যাপারে ট্রাম্পের আর কোনো বাধাই থাকল না।

তবে এ মনোনয়ন সম্পন্ন হলে যুক্তরাষ্ট্রে যেকোনো আইনের ক্ষেত্রে শেষ বাক্যটি উচ্চারণ করা সুপ্রিম কোর্ট কট্টোর রক্ষণশীল হয়ে পড়বে। এ আদালতে মোট বিচারকের সংখ্যা ৯। আজীবনের এই পদে গিন্সবার্গের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের অনুপাত ছিল ৫:৪। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর দুই দফা তাঁর পছন্দের প্রার্থীকে বিচারকের পদে বসিয়েছেন। এবার তৃতীয়বার একই সুযোগ পেতে চলেছেন তিনি। সফল হলে অনুপাত দাঁড়াবে ৬:৩।

আর এ কারণেই বিষয়টির তীব্র আপত্তি জানাচ্ছে ডেমোক্রেটরা। তাদের যুক্তি, নির্বাচনের অল্প সময় বাকি রেখে এ ধরনের ভোটাভুটি ন্যায়সংগত নয়। তা ছাড়া এর আগে একই যুক্তিতে ট্রাম্পের পূর্বসূরি ডেমোক্রেট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় তাঁর মনোনীত বিচারকের শুনানি আটকে দেন বর্তমান সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককোনেল।

ফলে বিচারপতি নিয়োগ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে গরম হাওয়া বইছে। বিতর্কেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ ইস্যুটি। এ ছাড়া বিতর্কের আয়োজকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে কথা বলতে হবে দুই প্রার্থীকে। যুক্তরাষ্ট্রে এই মহামারিতে মৃতের সংখ্যা এরই মধ্যে দুই লাখ পার হয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার পেনসিলভানিয়া রাজ্যে নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের কারণেই মৃতের সংখ্যা দুই লাখে আটকে আছে, নয়তো এরই মধ্যে ২৫ লাখ ছাড়িয়ে যেত। যদিও সমালোচকরা বলছেন, ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের চরম অব্যবস্থাপনার কারণেই মৃতের সংখ্যা এত বেশি হয়েছে। তিনি শুরুর দিকে ভাইরাসের অস্তিত্বই স্বীকার করেননি।

এ ছাড়া ভোটের শুদ্ধতা, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বর্ণবাদ ও সহিংসতা এবং অর্থনীতি নিয়ে ট্রাম্প ও বাইডেন ১৫ মিনিট করে বিতর্ক করার সুযোগ পাবেন। বিতর্কের সঞ্চালনা করবেন ফক্স নিউজের উপস্থাপক ক্রিস ওয়ালেস। প্রেসিডেনশিয়াল ডিবেট কমিশন এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায়। জাতীয়ভাবে পরিচালিত প্রায় সব জরিপেই এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। ভালো প্রস্তুতি থাকলে বিতর্ক হয়তো তাঁকে আরো খানিকটা এগিয়ে দেবে। সূত্র : রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, এএফপি।

 

মন্তব্য