kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ইউএনওর বাসায় টাকা

বাদীসহ প্রশাসনের কর্তারা বলছেন অপপ্রচার

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাদীসহ প্রশাসনের কর্তারা বলছেন অপপ্রচার

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনা প্রতিনিয়ত নতুন মোড় নিচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা কী, এখনো কেউ তা স্থির করে বলতে পারছেন না। এদিকে নতুন করে আলোচনায় আসা ইউএনওর বাসায় টাকা পাওয়ার বিষয়টি অপপ্রচার বলে জানিয়েছেন মামলার বাদীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সর্বশেষ ঘটনা ঘটে গত বৃহস্পতিবার শেষ বিকেলে। ছয় দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয় প্রধান আসামি (পুলিশের ভাষ্যমতে) রবিউল ইসলামকে। রবিউল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন বলে চাউর হয়, কিন্তু পুলিশ নতুন করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলে তা আর হয়নি।

তার আগে গত বুধবার, বৃহস্পতিবার এবং গতকাল শুক্রবার এই তিন দিন ইউএনওর বাসায় ৪০ লাখ টাকা ছিল বলে প্রচারণা শুরু হয়। এ প্রচারণার সত্যতা খুঁজতে খোঁজ নেওয়া হয় প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগে। কিন্তু কেউ এর সত্যতা নিশ্চিত করেননি।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহানুর রহমানের উপস্থিতিতে ঘোড়াঘাট থানার ওসি আজিম উদ্দিন, পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল ইসলাম ও মামলার বাদী ওয়াহিদা খানমের ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন ইউএনওর বাসায় আলামত দেখতে যান। পরে খবর ছড়িয়ে পড়ে ইউএনওর বাসায় ৩৫ লাখ টাকা, পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার, স্বর্ণালংকার, ব্যাংকের চেক, জমির রসিদ ও দলিলপত্র পাওয়া গেছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহানুর রহমানের উপস্থিতিতে ইউএনওর বাসার আলমারিতে এসব টাকা ও অন্যান্য জিনিসপত্র পাওয়া যায়। পরে তা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মামলার বাদীর কাছে তুলে দেওয়া হয়।

এ নিয়ে কথা বলতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহানুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পুলিশ সুপারও এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।

তবে মামলার বাদী ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন মোবাইলে বলেন, ‘ঘটনার দিন এক কাপড়ে আমার বোন ও বাবাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিন আমি কিছু কাপড় ও কাগজপত্র নিয়ে গেছি। যারা টাকার গল্প লিখেছে তারা প্রমাণ করুক আমি টাকা নিয়ে গেছি। এসব গুজব ছাড়া কিছু নয়।’

ৃঘোড়াঘাট থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, দলিল, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও কাপড়চোপড় ইউএনওর ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। টাকার বিষয়টি অপপ্রচার। যারা লিখেছে তারা গল্প লিখেছে। এ গল্প কেন লিখেছে আমরা জানি না।’ 

গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ঘোড়াঘাটের ইউএনও এবং তাঁর বাবাকে নির্মমভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। ইউএনওকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদী হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা করেন। 

 

মন্তব্য