kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

করোনাকালে ঘরে বসেই অনলাইনে পড়ালেখা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাকালে ঘরে বসেই অনলাইনে পড়ালেখা

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কিন্তু থেমে নেই পড়ালেখা। প্রযুক্তির সহায়তায় ঘরে বসে চলছে অনলাইনে পড়ালেখা। শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়, মফস্বলের শিক্ষার্থীরাও এখন নিয়মিতভাবেই অংশ নিচ্ছে অনলাইন ক্লাসে। মফস্বলে থেকেও শিক্ষার্থীরা ইউটিউবের মাধ্যমে রাজধানীর নামি-দামি শিক্ষকদের ক্লাস দেখতে পারছে। আবার মফস্বলের শিক্ষকরা ইউটিউবে তাঁদের ক্লাস আপলোড করে দক্ষতার প্রমাণ দেখাচ্ছেন। দেশে ফোরজি মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে সহজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সামনে এই সুযোগ অবারিত হয়েছে। বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে এক নতুন উচ্চতায়।

জানা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই এত দিন তথ্য-প্রযুক্তিতে খুব একটা দক্ষ ছিলেন না, কিন্তু করোনাকালে তাঁরা অনেকটাই দক্ষ হয়ে উঠেছেন। সাবলীলভাবে অংশ নিচ্ছেন অনলাইন ক্লাসে। জুমের মাধ্যমে পরিচালিত ক্লাসে একে অন্যের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষকদের প্রশ্ন করছে, শিক্ষকরাও উত্তর দিচ্ছেন। শিক্ষার সব ক্ষেত্রই এখন ইন্টারনেটের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি অনলাইনে চলছে কোচিং ও প্রাইভেটও। যারা আগে অনলাইন ক্লাসের কথা চিন্তাও করেনি, তারা এখন নিয়মিতভাবেই এই ক্লাস করছে। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ক্লাস করছে। উচ্চগতির মোবাইল ইন্টারনেট এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছে। করোনাকাল প্রমাণ করেছে, যেকোনো কাজ চাইলেই সম্ভব।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা সদরে অবস্থিত রাজারহাট সরকারি কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মো. এনামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এপ্রিল মাস থেকে আমরা অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছি। জুম অ্যাপে ক্লাসের পাশাপাশি ইউটিউব ও কলেজের ওয়েবসাইটে ক্লাস আপলোড করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও যথেষ্ট উৎসাহ নিয়ে ক্লাসে অংশ নিচ্ছে। প্রযুক্তির কল্যাণেই এই মহামারির সময়ও আমরা পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে পারছি।’

কুষ্টিয়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিলীমা বিশ্বাস বলেন, ‘করোনার প্রাদুর্ভাবের পর থেকেই খুলনা অনলাইন স্কুল নামে আমরা একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হই। সেখানে আমরা নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছি। শিক্ষার্থীরা লাইভ ক্লাস দেখার পাশাপাশি ইউটিউবে আপলোড করা ক্লাসও দেখছে। অনেক দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা আমাদের ক্লাস দেখছে। এত দিন আমরা যা চিন্তা করিনি, তা সবাই এখন আমরা করে দেখাচ্ছি।’

কুষ্টিয়ার স্কুল অব লরিয়েট ইন্টারন্যাশনালের শিক্ষার্থী মীম ইসলাম বলে, ‘আমরা নিয়মিতভাবেই অনলাইনে ক্লাস করছি। কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না।’

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ডা. ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আব্দুর রহমান সেলিম বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মহামারির এ সময়ে আমরা অনলাইনে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছি। অনেক শিক্ষার্থী এতে উপকৃত হচ্ছে।’

ওই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী লিজা আক্তার বলে, ‘আমরা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। তবে স্যাররা অনলাইন ক্লাস নেওয়ায় পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারছি।’

জাগো ফাউন্ডেশন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি সরাসরি স্কুলের পাশাপাশি পরিচালনা করছে আটটি ডিজিটাল স্কুল। দেশের দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইংলিশ ভার্সনের এসব স্কুল। প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকা থেকে দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষকরা পড়াচ্ছেন মফস্বলের শিক্ষার্থীদের। 

জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান করভী রাখসান্দ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, ডিজিটাল স্কুল অনেক বেশি উপকারী ও সাশ্রয়ী। ঢাকা থেকে শিক্ষক নিয়ে গিয়ে মফস্বলে রাখতে অনেক বেশি অর্থের প্রয়োজন এবং অনেকে মফস্বলে থাকতেও চান না, কিন্তু অনলাইনের মাধ্যমে একজন দক্ষ শিক্ষকের পক্ষে একাধিক স্কুলে পাঠদান করা সম্ভব। বর্তমান সময়ে করোনার কারণে অনলাইনে পড়ালেখার ব্যাপকতা বেড়েছে, কিন্তু আমরা অনেক আগে থেকেই ডিজিটাল স্কুল পরিচালনা করছি।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) মো. বেলাল হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা স্কুলগুলোকে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে বলেছি। তবে সংসদ টেলিভিশনে যে সময়ে ক্লাস প্রচার করা হয় ওই সময়ে অনলাইন ক্লাস না নেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বেশির ভাগ স্কুলই নিয়ম মেনে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে বলে আমরা জেনেছি।’

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া এবং কুড়িগ্রাম ও পটুয়াখালী প্রতিনিধি]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা