kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি আমিরাত-বাহরাইনের

ক্রমে একা হচ্ছে ফিলিস্তিন?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি আমিরাত-বাহরাইনের

ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও বাহরাইন। আরব দেশ দুটির সঙ্গে ইহুদি রাষ্ট্রটির এই সম্পর্ক স্থাপন ফিলিস্তিনিদের ক্রমে একা হয়ে পড়ার দিককে সামনে নিয়ে এলো। এ পটভূমিতে নিজেদের পক্ষে বন্ধুত্বের পাল্লা ভারী রাখতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।  

স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনি জনগণের সাত দশকের লড়াই-সংগ্রামকে পাশ কাটিয়ে করা এ চুক্তির বিষয়ে তাঁরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে আরব দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটাবে। ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কৌশলগত সখ্য আরো স্পষ্ট হলো। ইরান নিয়ে সুন্নিপ্রধান আরব দেশগুলোর পাশাপাশি ইসরায়েলের মধ্যে সমান ‘ভীতি’ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ইউএইর পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল লতিফ আল জায়ানি নিজ নিজ দেশের পক্ষে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’ নামের এই চুক্তিতে সই করেন। যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হোয়াইট হাউসে চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ট্রাম্প গতকাল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে টুইট করেছেন, ‘আরেক ঐতিহাসিক মুহূর্ত আজ!’ আর এর আগের দিন সোমবার ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মঙ্গলবার হবে আরবদের ইতিহাসের কালো দিন।’ ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন দ্য প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) এক বিবৃতিতে বলেছে, এই চুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর আরেকটি বিশ্বাসঘাতকতার ছুরিকাঘাত।

এই চুক্তির মাধ্যমে তৃতীয় ও চতুর্থ আরব দেশ হিসেবে ইউএই ও বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করল। এর আগে ১৯৭৯ সালে মিসর এবং ১৯৯৪ সালে জর্দান শান্তিচুক্তি সই করে ইসরায়েলের সঙ্গে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনিদের তীব্র বিরোধিতা ও প্রতিবাদের মুখে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্থাপনের ঘোষণা ট্রাম্পের অভাবনীয় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এই চুক্তি আগামী ৩ নভেম্বর হতে যাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইসরায়েলপন্থী খ্রিস্টানদের ভোট টানতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতে জয় নিশ্চিত করতে এই ভোটারদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।

ইউএই ও বাহরাইনের জন্যও এ চুক্তির গুরুত্ব অনেক, বলছে বিশ্লেষকদের একাংশ। এর মধ্যে দিয়ে দেশ দুটি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তার এবং তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিকাশ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করল। ইরান শুরু থেকেই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে।

গত সোমবার রাতে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার এক বিবৃতিতে বলেন, অতীতের সংঘাতের দিকে নজর না দিয়ে মানুষ এখন অন্তহীন সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দিকে নজর দিচ্ছে। ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকার স্বামী কুশনারই ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশ দুটির চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেন। তিনি অন্যান্য আরব দেশকেও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে একই ধরনের চুক্তিতে নিয়ে আসতে চেষ্টা করছেন। হোয়াইট হাউস এখন ওমানকে রাজি করাতে চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে দেশটির সুলতানের সঙ্গে ট্রাম্পের টেলিফোনে কথা হয়েছে।

গত মাসে প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ইউএই। এরপর মুসলিম বিশ্বে এ নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। সূত্র : রয়টার্স, এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা