kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কূটনীতিতে স্থবিরতা কাটছে

সার্কের বৈঠক ২৪ ও জেসিসি ২৯ সেপ্টেম্বর

মেহেদী হাসান   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সার্কের বৈঠক ২৪ ও জেসিসি ২৯ সেপ্টেম্বর

নভেল করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে গত মাসে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার বাংলাদেশ সফর দুই দেশেই কূটনৈতিক মহলে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছিল। কভিড মহামারির কারণে আন্তর্দেশীয় যোগাযোগ প্রায় বন্ধ। বিদেশের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে মিটিং, সাক্ষাৎ চলছিল ফোন, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। এমন সময় সেই সফর ভারতের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ঝটিকা সফরে ঢাকায় এসেছিলেন হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজার্তো। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরকে অভিহিত করেছেন ‘ব্রেক থ্রো’ হিসেবে। হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তো বটেই, এই কভিড মহামারির মধ্যে কোনো বিদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এটিই ছিল প্রথম ঢাকা সফর। এ জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাহস ও প্রত্যয়ের প্রশংসা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কভিড মহামারির মধ্যে প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনও। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী সোমবার তুরস্কের আংকারায় নবনির্মিত বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন। এই উপলক্ষে আংকারায় যাওয়ার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাবুসওলুও আংকারায় বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, করোনা মহামারির গত ছয় মাসে কূটনৈতিক তৎপরতা, বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ কম ছিল না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, যুদ্ধবিগ্রহের সময়ও কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড থেমে থাকে না। কভিডের সময় উচ্চপর্যায়ে সফর বিনিময় না হলেও প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিদেশি নেতাদের সঙ্গে অনেক বৈঠক, আলোচনা করেছেন। এখন ধীরে ধীরে সফরও শুরু হচ্ছে।

জানা গেছে, এই সপ্তাহে ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নেতৃত্বে যৌথ পরামর্শক কমিশনের (জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশন, সংক্ষেপে জেসিসি) সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেছেন, কভিড মহামারির মাত্রা কমে যাওয়ার পরপরই তিনি বাংলাদেশ সফরে আসবেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কভিডের মাত্রা একেক রকম হওয়ায় সরাসরি যোগাযোগ এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে কূটনীতিক ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ের সফরের ক্ষেত্রে। মন্ত্রীপর্যায়ের সফরের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, চলতি মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ভার্চুয়াল পদ্ধতিতেই অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছর এ মাসের দ্বিতীয়ার্ধে নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। এ বছর জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর সরকারপ্রধান/রাষ্ট্রপ্রধানরা নিজ নিজ দেশ থেকে তাতে অংশ নেবেন। কভিড মহামারির পর থেকে জাতিসংঘের বৈঠকগুলো ভার্চুয়ালি চলছে।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে বিমসটেকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে আগামী বছরের শুরুর দিকে ভার্চুয়ালি বিমসটেকের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক ও শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিবছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে সার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠক করে থাকেন। সেই রীতি অনুসরণ করে এবার নিজ নিজ দেশ থেকেই ভার্চুয়াল বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে সার্কের সদস্য দেশগুলো।

কভিড মহামারির শুরুর দিকে বাংলাদেশের দৃষ্টি ছিল কভিড শনাক্তকরণ, টেস্ট কিট, সুরক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে বিদেশে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনা, প্রবাসী কর্মীদের চিকিৎসাসেবা, বেতন-ভাতা নিয়মিত পাওয়ার ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কাজ করতে হয়েছে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের। এখন সম্ভাব্য কভিড ভ্যাকসিন পাওয়া নিশ্চিত করতে জোর তৎপরতা চলছে।

কভিড মহামারির মধ্যেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সাক্ষাৎ দিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা বলছেন, কভিডের কারণে সৃষ্ট নতুন বাস্তবতার মধ্যেই সব কিছু স্বাভাবিক হওয়ার পথে।

তবে ঢাকায় বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের অনেকেই কভিড মহামারির মধ্যেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার গত কয়েক মাসে ভার্চুয়ালি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ছাড়াও সশরীরে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা সফর করেছেন। যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক বিষয়ক মন্ত্রী লর্ড গোল্ড স্মিথ গত মাসে ভার্চুয়ালি বাংলাদেশ সফর করেছেন।

ঢাকায় বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলো সতর্কতার সঙ্গে সচল আছে। কভিড মহামারির শুরুর দিকে কূটনৈতিক মিশনগুলোর কর্মীরা ‘হোম অফিস’ (বাড়ি থেকে অফিসের কাজ করা) করলেও এখন ধীরে ধীরে অফিসে উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে অনেক মিশন ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। তবে ভিসাব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার আগে বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে হবে। সরাসরি ফ্লাইট চালুর জন্য ভারত ‘এয়ার ট্রাভেল বাবল’ চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশ তা বিবেচনা করছে। এটি সই হলে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সরকারি কাজে যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা