kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার : ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনাটি গুরুতর, তবে বিচ্ছিন্ন

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনাটি গুরুতর, তবে বিচ্ছিন্ন

ইউএনওরা ঘরের মধ্যে নিরাপদ না থাকলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনওর ওপর হামলা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। মাঠ প্রশাসন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার পরও অনেক এলাকায় ইউএনওদের উদ্বেগ কমেনি। বিষয়টি নিয়ে কী ভাবছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়? কালের কণ্ঠ’র মুখোমুখি হয়েছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাহরাম খান।

 

কালের কণ্ঠ : ঘোড়াঘাটের ইউএনওর ওপর হামলায় বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে।

ফরহাদ হোসেন : একটা ঘটনা ঘটলে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হয়ই। ঘটনাটি গুরুতর, তবে বিচ্ছিন্ন। দেখতে হবে ঘটনার তদন্তে কী পাওয়া যায়। তদন্ত এখনো শেষ হয়নি, তাই শেষ কথা বলার সময় আসেনি। সরকারের দায়িত্বশীলরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততাই বেরিয়ে আসুক, প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কালের কণ্ঠ : ঘটনাটি ইউএনওদের মনস্তাত্ত্বিক জায়গায় আঘাত করেছে।

ফরহাদ হোসেন : রাতের বেলায় একজন কর্মকর্তার বাসভবনে আক্রমণ হওয়ায় সারা দেশের মানুষই অবাক হয়েছে। কারণ আমাদের আইন-শৃঙ্খলা অত্যন্ত ভালো থাকার সময়ে ঘটনাটি ঘটেছে। তাই এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ইউএনওদের মানসিকভাবে খারাপ লাগারই কথা। তবে এটা সাময়িক, আশা করি কেটে যাবে। কারণ এই পদে যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয় তাঁদের প্রচণ্ড চাপ নিয়ে কাজ করার সামর্থ্য থাকে।

 

কালের কণ্ঠ : প্রকৃত অপরাধীরা ধরা পড়বে কি না অনেকে সংশয় প্রকাশ করছেন। সুষ্ঠু তদন্ত হবে কি?

ফরহাদ হোসেন : প্রধানমন্ত্রী নিজেই জনপ্রশাসনমন্ত্রী। তিনি জাতীয় সংসদে বলেছেন, অপরাধী যেই হোক তাকে ধরা হবে। এরপরও সংশয় প্রকাশের কোনো কারণ নেই। অনেকে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে অপপ্রচার চালাতে পারেন।

 

কালের কণ্ঠ : দলীয় নেতাকর্মীরা দোষী হলে অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা হয়। এ জন্যই সংশয়...

ফরহাদ হোসেন : দলীয় কর্মী এবং অপরাধীর পরিচয় সম্পূর্ণ আলাদা। অপরাধীর পরিচয় অপরাধীই। আমাদের দল কখনো অপরাধীর দায় বহন করে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলেছেন, অপরাধীরা কে কোন দল করে, সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়।

 

কালের কণ্ঠ : ইউএনওর বাসভবনের ভেতরে ঢুকে হামলা কী ইঙ্গিত দেয়?

ফরহাদ হোসেন : দেখুন, বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে না। দেশে আইন-শৃঙ্খলা এমন কোনো খারাপ অবস্থায় ছিল না যে ওই রকম ঘটনা ঘটতেই পারত। ঘটনা ঘটার পর সরকার কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে, সেটাও দেখতে হবে। গত আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মন্ত্রিসভা বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে ইউএনওদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বাইরে পুরো উপজেলা চত্বরের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : করোনাকালে কাজ করে মাঠ প্রশাসন এমনিতেই ক্লান্ত। তার ওপর এই হামলা কাজের গতিতে ছেদ ফেলবে না তো?

ফরহাদ হোসেন : করোনাকাল মোকাবেলায় মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম প্রশংসনীয়। এরই মধ্যে ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। তবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে ইউএনওদের নিরাপত্তায় আনসার সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। আশা করি দ্রুতই তাঁরা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারছেন।

 

কালের কণ্ঠ : ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মীরা তাঁদের বেতন বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন দীর্ঘদিন। আবেদনও করেছেন। কোনো উদ্যোগ আসবে?

ফরহাদ হোসেন : করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আমরা বিষয়টি বিবেচনা করব।

 

কালের কণ্ঠ : সরকারি শূন্যপদ দিন দিন বেড়ে চলছিল, করোনাকাল সেটা আরো বাড়িয়েছে।

ফরহাদ হোসেন : প্রতিনিয়ত সরকারি পদ সৃষ্টি হয়। সৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিয়োগ সম্পন্ন হয় না। দ্বিতীয়ত, চাকরির পদ শূন্য হলে সেখানে নিয়োগ দিতে কিছু সময় লাগে। এখন করোনার কারণেও অনেক নিয়োগ আটকে গেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সব শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই সঙ্গে প্রতিটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে সময় লাগে তা আরো কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। করোনার সময় ডাক্তার, নার্সসহ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত গতিতে হয়েছে। আগামী দিনে এ থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করব আমরা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা