kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

জাতির পিতার ছবি টাঙানোতে মানা হচ্ছে না নির্দেশনা

বাহরাম খান   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাতির পিতার ছবি টাঙানোতে মানা হচ্ছে না নির্দেশনা

সংবিধানে যথাযথ মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি (ছবি) সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নির্দেশনা থাকলেও সরকারি দপ্তরে বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। জাতির পিতার সমান্তরালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে তাঁর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনরা। তাঁরা বলছেন, কঠোর সরকারি নির্দেশনা দিয়ে জাতির পিতার ছবির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা উচিত।

জাতির পিতা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের বিষয়ে একাধিকবার সরকারি আদেশ জারি ও প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংবিধানেও করা হয়েছে কিছু সংশোধন। জাতির পিতার প্রতিকৃতি মর্যাদাপূর্ণ ব্যবহারের জন্য সংবিধানে আলাদা অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবিধানের কোথাও প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি ব্যবহারের কথা উল্লেখ নেই। কিন্তু প্রায় সব সরকারি দপ্তরে জাতির পিতার সমান্তরালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতির পিতার প্রতিকৃতির সমান্তরালে কেন সরকারপ্রধানের ছবি টাঙানো হচ্ছে তারও সদুত্তর মিলছে না। বিশিষ্টজনরা বলছেন, জাতির পিতার প্রতিকৃতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি সমান্তরাল থাকতে পারে না। যদি রাখার প্রয়োজন হয়, তাহলে জাতির পিতার প্রতিকৃতির নিচে থাকতে পারে।

লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘জাতির পিতার ছবির সমান্তরালে আর কারো ছবি ব্যবহার করা উচিত নয়। এখন শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী আছেন বলে বিষয়টি তেমন চোখে পড়ছে না। অন্য কেউ প্রধানমন্ত্রী হলে তখন একইভাবে ছবি ব্যবহার করা হলে আমাদের খারাপ লাগবে।’

অন্যান্য দেশেও জাতির পিতার প্রতিকৃতির সমান্তরালে সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি ব্যবহার করা হয় না। ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি থেকে একটু পার্থক্য করে ওপরে টাঙানো হয়। গত বছর তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা থেকে শাহরিয়ার কবির আরো বলেন, সে দেশের সরকারি দপ্তরে জাতির পিতার প্রতিকৃতি ছাড়া আর কারো প্রতিকৃতি ব্যবহারই হয় না।

গণপরিষদ সদস্যদের অন্যতম ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, ‘জাতির পিতার প্রতিকৃতির পাশে অন্য কারোর ছবি ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। না হলে ভবিষ্যতে জাতির পিতার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে।’ তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার ছবির সঙ্গে শেখ হাসিনার ছবি থাকতে সাধারণত কেউ আপত্তি করবেন না। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বিষয়টিতে সিদ্ধান্তে আসা উচিত।’

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘জাতির পিতার প্রতিকৃতির সঙ্গে সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতিকৃতি টাঙাতে হলেও সেটি অন্তত কয়েক ইঞ্চি নিচে টাঙাতে হবে। আমরা বিদেশে দায়িত্ব পালনের সময় তা-ই করেছি।’ কিন্তু সচিবালয়ে একাধিক মন্ত্রীর রুম ঘুরে তেমন চিত্র চোখে পড়েনি। সেখানে জাতির পিতার সমান্তরালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি টাঙানো আছে। অবশ্য কিছু দপ্তরে শুধু জাতির পিতার প্রতিকৃতি রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী সরকারি অফিসে জাতির পিতার ছবি টাঙানো হয়। আরেকটি পুরনো সরকারি আদেশবলে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার করা হয়।’ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (আইন ও বিধি) শফিউল আজম বলেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণের বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জাতির পিতার প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়। ওই আদেশে এসংক্রান্ত পুরনো সব আদেশ বাতিল বলেও উল্লেখ করা হয়। শফিউল আজম বলেন, ‘এসংক্রান্ত’ বলতে এখানে ‘জাতির পিতা সংক্রান্ত’ বোঝানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই ২০০২ সালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিকৃতি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের যে আদেশ ছিল, তা এখনো জীবিত আছে বলেই ধরা যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা