kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

শিপ্রা-সিফাতকে নিয়ে উদ্বেগ

► ক্যামেরা মোবাইল ফোনের হদিস নেই
► নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে সহপাঠীরা

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার ও নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা   

৮ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




শিপ্রা-সিফাতকে নিয়ে উদ্বেগ

নিহত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদের তথ্যচিত্র নির্মাণের সহযোগী শিপ্রা রানী দেবনাথ এক পুরিয়া গাঁজা, এক বোতল দেশি মদ ও দুই বোতল ভদকা উদ্ধারের কথিত অভিযোগের মামলায় এখন কারাগারে। সিনহা রাশেদ গুলিতে নিহত হওয়ার পর তাঁর গাড়ি থেকে এক বোতল বিদেশি মদ ও ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের প্রায় একই রকম অভিযোগে দায়ের করা মামলায় কারাগারে আরেক সঙ্গী সাহেদুল ইসলাম সিফাত। ঘটনার সাক্ষী সিফাতকে নিহত সিনহার বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সহপাঠী ও স্বজনরা বলছেন, এমন সাজানো মামলায় পুলিশ দুজনকে কারাগারে

পাঠালেও তাঁদের ব্যবহৃত ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ জিনিসপত্রের হদিস মেলেনি। আলামত গায়েব করতে সাবেক ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকত ও তাঁদের সহযোগীরা এগুলো সরিয়ে ফেলেছেন বলে সন্দেহ তাদের। সিনহা রাশেদের হত্যা ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন কৌশলে ফাঁসানো সিফাত ও শিপ্রাকে নিয়ে উৎকণ্ঠায় সবাই। দ্রুত এই দুজনের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে তারা। এই দাবিতে গতকাল শুক্রবারও শাহবাগ জাদুঘরের সামনে গণসংহতি সমাবেশ পালন করেছেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি সংহতি প্রকাশ করেছেন। আজ শনিবার স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির সিদ্ধেশ্বরী ক্যাম্পাসের সামনে প্রতিবাদ সভা করবেন শিক্ষার্থীরা।

পুলিশের মামলায় দাবি করা হয়, গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের রামুর হিমছড়ি ফাঁড়ির পুলিশ নীলিমা রিসোর্টে থাকা শিপ্রা দেবনাথের কক্ষ তল্লাশি করে গাঁজা ও মদ জব্দ করে। এ কারণে স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিপ্রার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়। শিপ্রা সেই থেকে কারাগারে রয়েছেন। তবে ওই রিসোর্টে থাকা শিপ্রা ও সিফাতের জিনিসপত্র কোথায় সে ব্যাপারে পুলিশের কোনো ভাষ্য নেই।

বাহারছড়ার পাহাড়ে মেজর (অব.) সিনহা রাশেদের সঙ্গে শুটিং শেষে ফেরার পথে তল্লাশির মুখে পড়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখে পড়েন শিপ্রার সহপাঠী সিফাত। তাঁর চোখের সামনে গুলি ও মৃত্যুর ঘটনার পর তাঁকেও সেই মামলায় আসামি করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও পুলিশের হেফাজতে সিফাত বলেছেন, গুলি করা নয়, রাগারাগি হওয়ার পর লিয়াকত গুলি করেন মেজর (অব.) সিনহা রাশেদকে। তাঁর জবানবন্দির একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়েছে। নিহত সিনহার বোনের করা মামলার প্রধান সাক্ষী সিফাতকে ৫০ পিস ইয়াবা ও এক বোতল মদ রাখার অভিযোগে মামলায় আসামি করেছে পুলিশ। এ কারণে সিফাতের সুরক্ষা চাইছেন সবাই। সিফাতের খালু সংসদ টিভির প্রযোজক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘সিফাতের সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র কোথায় আছে, তা জানা যায়নি। সে আমাদের সঙ্গে অল্প একটু কথা বলতে পেরেছে। সেখানে সে বলেছে, তার সঙ্গে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা এসব ছিল। কোনো মাদক ছিল না।’ স্বজনরা জানান, দুই শিক্ষার্থীর জামিন আবেদন করেছেন তাঁরা। আগামীকাল রবিবার এই আবেদনের শুনানি হতে পারে।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির দুই শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সেখানে তাঁরা চারটি দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো—শিপ্রা ও সিফাতের সার্বিক নিরাপত্তা এবং নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, মেজর (অব.) সিনহা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং মানসিক প্রহসন থেকে মুক্তি দিতে হবে। গতকালও শাহবাগ জাদুঘরের সামনে গণসংহতি সমাবেশে একই দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ফাইজুল কবির রথি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিফাত ও শিপ্রার মুক্তির আগ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমরা সিফাতকে নিয়ে শঙ্কিত। এ ছাড়া সিফাত ও শিপ্রার সঙ্গে রিফাত নূর নামের আরেকজন শিক্ষার্থী ছিল। তার পরিবার আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখছে না, যা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো বিবৃতি দেয়নি। এতেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।’

এদিকে জানতে চাইলে রামু থানার ওসি মো. আবুল খায়ের বলেন, হিমছড়ি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শিপ্রার বিরুদ্ধে মাদকের মামলাটি দায়ের করেন। মেজর সিনহার কক্ষ থেকে প্রাপ্ত মাত্র তিনটি জিনিস রামু থানার পুলিশ পৃথকভাবে জমা রেখেছে। একটি ল্যাপটপ, একটি অস্ত্রের লাইসেন্স ও এক জোড়া জুতা সেখানে রয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে সেসব জিনিস ফেরত দেওয়া হবে।

সিফাতের জিনিসপত্রের ব্যাপারে জানতে গতকাল টেকনাফ থানার ওসি এ বি এম এস দোহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা