kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

করোনাভাইরাস

ঝুঁকির মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে আসছে সব কিছু

► টানা আট সপ্তাহ একই বলয়ে ঘুরছে সংক্রমণ গতি ও মৃত্যু
► বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ার শঙ্কা

তৌফিক মারুফ   

৬ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝুঁকির মধ্যেই স্বাভাবিক হয়ে আসছে সব কিছু

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে কি না তা নিয়ে সরকারি-বেসরকারি তথ্যগত বিতর্ক আছে। তবে সংক্রমণ যে খুব একটা কমছে না তা একবাক্যে মানছেন সবাই। বিশেষ করে দেশে সংক্রমণের ২২ সপ্তাহের মধ্যে আট সপ্তাহ ধরেই সাপ্তাহিক মৃত্যুর সংখ্যাটা উঠানামা করছে ২৫৮ থেকে ৩০৮-এর মধ্যে। মৃত্যু এক দিন ৩০ জনের নিচে নামছে তো আরেক দিন ৪০ জনের ওপরে উঠে যাচ্ছে। সপ্তাহের হিসাবে শনাক্তের সংখ্যাও ঘুরছে ১৮ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২৫ হাজারের মধ্যে। এর মাঝেই স্বাভাবিক হয়ে আসছে সব কিছু।

সংক্রমণ আর মৃত্যুঝুঁকির এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মধ্যেই উচ্চ আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে সচল হয়ে উঠেছে। শুরুতে কিছুটা সীমিত পরিসরে চালুর কথা বললেও বাস্তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো কিছুই সীমিত থাকছে না। স্বাস্থ্যবিধিও নির্দেশনামতো মানা হচ্ছে না। সচিবালয় থেকে শুরু করে সরকারি সব প্রতিষ্ঠানে দিন দিন ভিড় বেড়ে চলেছে। ঈদের আগেই শপিং মল থেকে শুরু করে নিত্যদিনের হাটবাজারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। খুলে গেছে হোটেল-মোটেলও। রেস্তোরাঁও ফিরছে আগের চেহারায়। ফুটপাতের বেচাকেনা, যানবাহন চলাচল, পথখাবারের পসরা—সর্বত্র অনেকটা আগের চিত্র। ঈদ, বন্যা, আর্থসামাজিক ও আইন-শৃঙ্খলাজনিত নানা ইস্যুতে করোনা থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরে যাচ্ছে—এমনটাও বলছেন অনেকেই।

দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, দেশে করোনাভাইরাসে শনাক্ত ও মৃত্যু আট সপ্তাহ ধরে একই বলয়ে ঘুরছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ কিংবা গাজীপুরে সংক্রমণ আগের তুলনায় কমলেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে তুলনামূলক বাড়ছে। আবার কোরবানির ঈদকেন্দ্রিক অবাধ জনচলাচলের কারণে আগামী দুই-তিন সপ্তাহ সংক্রমণে ঊর্ধ্বগতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তাই এখনই সব কিছু স্বাভাবিক করে দেওয়া সমীচীন হচ্ছে না। এখন আরো নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মানুষ কোনো কিছুই মানছে না, মাস্ক পরার নির্দেশনাও পালন করছে না, দোকানপাট গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকছে। ঝুঁকি মাথায় নিয়ে সব কিছু স্বাভাবিক হতে দিলে ঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে। বিশেষ করে সামনের সপ্তাহ থেকে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েই গেছে।’

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ড. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘সব কিছু স্বাভাবিক হওয়া ভালো। কিন্তু এই মহামারির ঝুঁকি মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো কার্যকর না করলে কিংবা নানা ইস্যুর মুখে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরে গেলে বিপদ আরো বাড়বে। বরং উপযুক্ত মাত্রায় স্বাভাবিকতা ফিরে আসার পথ আরো দুরূহ হয়ে উঠবে। সরকারের হাতে এখনো সময় আছে সামনের ঝুঁকিপূর্ণ দুই-তিন সপ্তাহ পরিস্থিতি ভালোভাবে মোকাবেলায় অবস্থান নেওয়ার।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘জনসচেতনতায় প্রচারে কোনো ঘাটতি থাকছে বলে মনে হয় না। আবার মানুষ পরীক্ষার জন্যও আসছে না। বেশির ভাগ বুথ বা হাসপাতালে ভিড় নেই। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও মানুষ যাচ্ছে না; যদি যেত তবে সেই পরিসংখ্যান পাওয়া যেত।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা