kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

ট্রেন

বাড়তি চাপ থাকলেও স্বস্তি

রফিকুল ইসলাম   

৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাড়তি চাপ থাকলেও স্বস্তি

করোনা পরিস্থিতিতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য যাত্রা নিশ্চিত করার তাড়নায় ট্রেনে যাত্রীদের বাড়তি চাপ রয়েছে। কিন্তু রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীদের হুড়াহুড়ি নেই। যাঁর হাতে টিকিট, তিনিই ট্রেনে চড়ে বসছেন। বিনা টিকিটে আর দাঁড়িয়ে ভ্রমণের জন্য যাত্রী নেই। তাই ট্রেনে দেখা যায়নি গাদাগাদি অবস্থা।

এবার সীমিত পরিসরে ট্রেন চলাচল ও টিকিটের ক্ষেত্রে কড়াকড়ির কারণে মানুষের অভিযোগের মাত্রাও কমে এসেছে বলে জানান রেলওয়ের কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, করোনা মহামারি অর্থনীতির বড় ক্ষতি করলেও ট্রেনের জন্য শাপে বর হয়ে এসেছে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানতে টিকিটের কড়াকড়ি, বিনা টিকিটে ভ্রমণ বাতিল ও স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি বন্ধের কারণে যাত্রী সেবায় গুণগত পরিবর্তন এসেছে। ঈদের পর এই ধারা বিদ্যমান থাকলে ট্রেন ভ্রমণের চিত্র পাল্টে যাবে।

ঈদুল আজহার এক দিন আগে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হয়েছে। মহামারি পরিস্থিতিতে সব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরই কর্মস্থল ত্যাগ না করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। এবার স্টেশনের টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। সব টিকিটই অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে। একজনের টিকিটে আরেকজনকে ভ্রমণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যান্য বছর ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে বাড়তি ট্রেন চালালেও এবার তা করেনি রেলওয়ে। সারা দেশে মাত্র ১৭ জোড়া ট্রেন চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এভাবেই ট্রেন চলবে।

গতকাল কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছিলেন রেল কর্মকর্তারা। জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে টিকিট মিলিয়ে দেখে যাত্রীদের স্টেশনে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল। মাইকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল যে টিকিট ছাড়া কাউকে ট্রেনে উঠতে দেওয়া হবে না। ধরা পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন হুঁশিয়ারিও দেওয়া হচ্ছিল। ফাঁকফোকর গলিয়ে কেউ বিনা টিকিটে স্টেশনে প্রবেশ করলেও স্পেশাল টিকিট চেকিং স্কোয়াড ধরে ফেলছিল।

দুপুর সাড়ে ১২টায় স্টেশনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মানুষ স্টেশনের বাইরে অপেক্ষমাণ। তাদের কারো হাতে কোনো টিকিট নেই। তারা দায়িত্বরত পুলিশ ও রেলকর্মকর্তাদের অনুরোধ করে স্টেশনে প্রবেশ করতে চাইছিল; কিন্তু কড়াকড়ির কারণে কেউ ঢুকতে পারছিল না।

প্রতিবছর যা হয়, এবার আর ট্রেনের সময়সূচিতেও কোনো সমস্যা দেখা গেল না। যথাসময়ে ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছিল গন্তব্যে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদে বাড়তি ট্রেন চালু করা হয়। এবার তা করা হয়নি। মহামারি পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে ট্রেন চলছে। কোনো শিডিউল বিপর্যয় নেই। যাত্রীদের অভিযোগও কম। ব্যবস্থাপনায়ও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।’ তিনি বলেন, যাত্রীসেবায় অনেক উন্নতি হয়েছে। এখন স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি হয় না। আগে বিনা টিকিটেও হুড়াহুড়ি করে যাত্রীরা ট্রেনে উঠত। চাইলেও সামাল দেওয়া যেত না।

ঈদের পর এভাবে ট্রেন চালানো সম্ভব হবে কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যাত্রীসেবা নিশ্চিত করে রেল পরিচালনা করার ব্যাপারে সবাই আগ্রহী। কিন্তু এত দিন চেষ্টা থাকলেও হয়নি। করোনা পরিস্থিতিতে সেটা সম্ভব হয়েছে। আগামীতেও রেল পরিচালায় যাত্রী সেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

স্পেশাল টিকিট চেকিং স্কোয়াডের সদস্য আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, বিনা টিকিটে যেন কেউ স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য কড়াকড়ি রয়েছে। কেউ কেউ ফাঁকফোকর দিয়ে স্টেশনে প্রবেশ করছে। ট্রেন ছাড়ার আগে টিকিট চেকিং স্কোয়াড প্রতিটি বগিতে গিয়ে যাত্রীর টিকিট দেখছেন। কারো কাছে টিকিট না পেলে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রেলে চাকরি করলেও ট্রেন যাত্রার এমন চিত্র আর দেখেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য