kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

‘এমন সম্পর্ক বিশ্বে খুব কমই আছে’

বাংলাদেশকে ১০টি রেল ইঞ্জিন দিল ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘এমন সম্পর্ক বিশ্বে খুব কমই আছে’

প্রতীকী হস্তান্তরের পর ভারতীয় লোকোমোটিভ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার দর্শনা রেলস্টেশনে। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ১০টি ব্রড গেজ রেল ইঞ্জিন দিয়েছে ভারত। গতকাল সোমবার দুই দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিদের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এগুলো বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইঞ্জিনগুলো ভারতের গেদে রেলস্টেশন থেকে দর্শনা হয়ে বাংলাদেশে এসেছে।

অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর দেশের জোরালো সম্পর্ক প্রসঙ্গে বলেন, ‘বিশ্বের খুব কম দেশের মধ্যেই আমাদের মতো ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের অংশীদারি আজ এই অঞ্চলে সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে বিবেচিত।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে দুই দেশের সম্পর্কের ‘সোনালি অধ্যায়’ রচনা চলমান বলেও উল্লেখ করেন তিনি। জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমাদের ক্রমবর্ধমান বহুমুখী সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে পর্যটন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুরক্ষা, শক্তি, সংস্কৃতি, পরমাণুবিজ্ঞানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, মহাকাশ ও তথ্য-প্রযুক্তি এবং মানুষে মানুষে শক্তিশালী সম্পর্ক। ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে আপনাদের প্রবৃদ্ধিতে আমরা আনন্দিত।’

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে জয়শঙ্কর বলেন, বাংলাদেশ গত কয়েক বছরে অবিশ্বাস্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং সব আর্থ-সামাজিক সূচকে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।’

কভিড-১৯ মহামারির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশের জনগণকে সহযোগিতার জন্য ভারত প্রস্তুত বলে জানান ড. জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, ‘মহামারির কারণে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থার বাধাগুলো দূর করার লক্ষ্যে আমাদের উদ্ভাবনী সমাধান বের করতে হয়েছে। কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আগরতলা পর্যন্ত কনটেইনার কার্গো পরীক্ষামূলক পরিচালনার সফল সমাপ্তি একটি যুগান্তকারী ঘটনা।’ তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদারের আমন্ত্রণ জানান।

ড. জয়শঙ্কর বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক বছরে এ ধরনের আরো মাইলফলক অতিক্রম করতে চাই; যেমন—আগামী বছর আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ৫০ বছর উদ্যাপন করতে চলেছি। এই অংশীদারি প্রকৃতপক্ষেই অনুকরণীয় হয়ে উঠুক এবং আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধন আরো জোরদার করুক।’

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা পরস্পর সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক উপভোগ করছি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অত্যন্ত মজবুত। এটি অভিন্ন মূল্যবোধ, নীতি ও আস্থার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আগামী দিনগুলোতে এ সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।’

ভারতের রেলপথ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী পিযুশ গয়াল বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে এই অঞ্চলের জন্য ‘রোল মডেল’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে চলা, সবাইকে নিয়ে সমৃদ্ধি অর্জন করা এবং সবার প্রতি বিশ্বাস রাখা’—মোদির ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ নীতির এই মূল বিষয়গুলো বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে প্রতিফলিত হয়েছে।

রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়েকে ভারতের ১০টি লোকোমোটিভ অনুদান দুই দেশের বাণিজ্য ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে উন্নতি করছে। উপমহাদেশে যোগাযোগ ও ট্রান্সশিপমেন্টে বাংলাদেশ হাব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের উন্নতির জন্য বড় বড় পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

রেল ইঞ্জিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, রেল সচিব সেলিম রেজা, রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামান ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের রেল প্রতিমন্ত্রী সুরেশ আংগেদি, পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, রেলওয়ে বোর্ডের চেয়ারম্যান বিনোদ কুমার যাদবসহ ভারতীয় রেলওয়ের কর্মকর্তারা ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান ও বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাসও উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা