kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

পরিকল্পনার অভাবেই এই হাল

ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম

২৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পরিকল্পনার অভাবেই এই হাল

গত দুই দিনে ১৫০ মিলিমিটারের মতো বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বৃষ্টির পানি প্রবাহিত করার মতো নর্দমা ব্যবস্থাপনা নেই ঢাকায়। নানা কারণে ঢাকা শহরের অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো করা যায়নি।

এখন মৌসুমি বন্যা চলছে। ঢাকার চারপাশে নদীগুলোর পানির উচ্চতা বেশি থাকায় স্লুইস গেট বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে পাম্প দিয়ে পানি বের করতে হচ্ছে। কিন্তু বেশি পানিতে পাম্প ঠিকমতো চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা শহরের খালগুলো ছিল রক্তনালির মতো। পানি দ্রুত এসব খাল দিয়ে প্রবাহিত হতে পারত একসময়। ফলে ৩০-৪০ বছর আগেও ঢাকায় বন্যা বা জলাবদ্ধতা খুব একটা দেখা যেত না। ৪৮টি খাল কাগজে-কলমে রয়েছে। কিন্তু ২৪টিও নেই বাস্তবে। এর বাইরে ঢাকায় জলাধার ছিল একসময়। কিন্তু সেসব জলাধার ভরাট হয়ে গেছে। ফলে শহরে পানি আটকে থাকে। অপরিকল্পিত ও দ্রুত নগরায়ণের ফলে মাটি পানি শোষণ করতে পারছে না। এ ছাড়া ঢাকায় উত্পাদিত কঠিন বর্জ্যের মাত্র ৩০ শতাংশ সংগ্রহ করতে পারে সিটি করপোরেশন। বাকিটা নর্দমা ও খালে গিয়ে পড়ে পানি চলাচল অচল করে দেয়।

এ ছাড়া আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে বক্স কালভার্টের যে ধারণা নেওয়া হয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ ভুল। অধিকাংশ বক্স কালভার্ট একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ভেঙে খাল করার কথা ভাবছে ওয়াসা। কিন্তু আদৌ কতটা সম্ভব হবে তা বলা মুশকিল। ঢাকায় নর্দমা ও খাল ব্যবস্থাপনা একেক সংস্থা করে থাকে। এসব সংস্থার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই। সমন্বয়েরও যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এর বাইরে নগর বন্যা সম্পর্কিত কোনো ধরনের পূর্বাভাস দেয় না আবহাওয়া অধিদপ্তর। অথচ পাশের দেশের মুম্বাই শহরেও তা রয়েছে। পূর্বাভাস পাওয়া গেলে পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি দুটিই নেওয়া সহজ হয়। ফলে ভোগান্তি কমে মানুষের।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে সমন্বয়ের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হলে এই জলাবদ্ধতা ও বন্যা দুটিই কমবে।

লেখক : অধ্যাপক, পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট, বুয়েট 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা