kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

করোনাকালে নিয়মরক্ষার দুই উপনির্বাচন কাল

ভোটার উপস্থিতিই চ্যালেঞ্জ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাকালে নিয়মরক্ষার দুই উপনির্বাচন কাল

করোনাকালে উপনির্বাচন। বগুড়া-১ আসনে প্রচারের শেষ দিনে গতকাল আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাহাদারা মান্নানের জনসংযোগ। সামাজিক দূরত্ব মানা বা মাস্ক ব্যবহারের কোনো বালাই ছিল না এ সময়। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই আগামীকাল মঙ্গলবার বগুড়া-১ এবং যশোর-৬ আসনে নিয়মরক্ষার নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ দুই আসনে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলের প্রার্থীদের এই নির্বাচন নিয়ে তেমন আগ্রহ নেই। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ইসির কোনো তাগিদও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। গতকাল মধ্যরাত থেকেই এ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা বন্ধ হয়ে গেছে। নির্বাচনী এলাকায় যানবাহন চলাচলে জারি হয়েছে বিধিনিষেধ।

উল্লিখিত দুটি আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করার ঘোষণা দিলেও ব্যালট পেপারে দলটির প্রার্থী ও প্রতীক বহাল থাকছে। অন্যদিকে উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের জন্য ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোটাই সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে বগুড়া-১ আসনে ভোটারশূন্য ভোটকেন্দ্রে জোর করে ব্যালট বাক্স ভরানোর আশঙ্কাও করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন থেকে আগেই বলা হয়েছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে করোনাভাইরাস প্রার্দুভাবের মধ্যেই এ নির্বাচন করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোটগ্রহণ করা হবে।

গত ১৮ জানুয়ারি সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মৃত্যুতে বগুড়া-১ এবং ২১ জানুয়ারি সংসদ সদস্য ও সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের মৃত্যুতে যশোর-৬ আসন শূন্য হয়। সংবিধানের ১২৩(৪) ধারা অনুযায়ী সংসদীয় আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে এ দুই আসনে ভোটগ্রহণ করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। কমিশনের হাতে বিকল্প সময় ছিল ‘দৈব-দুর্বিপাকের কারণে’ আরো ৯০ দিন। এ সময় শেষ হচ্ছে আগামী ১৫ ও ১৮ জুলাই।

কমিশন এর আগে গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সঙ্গে এই দুই আসনে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছিল। প্রার্থী চূড়ান্ত করা ও প্রতীক বরাদ্দও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু গত ২১ মার্চ করোনাভাইরাসের কারণে কমিশন এসব নির্বাচনসহ দেশে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিত করে। পরে গত ৪ জুলাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন বাদে বগুড়া-১ ও যশোর-৬ আসনে নির্বাচন সম্পন্ন করার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।

বিএনপি ছাড়াও জাতীয় পার্টি এ নির্বাচন না করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছে। ১৪ জুলাই জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর দিন হওয়ায় এই দিনে উপনির্বাচন না করার অনুরোধ জানায় জাতীয় পার্টি। গতকাল রবিবার সকাল ১১টায় জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনের দিন পরিবর্তনের অনুরোধ জানান।

বগুড়া থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বগুড়া-১ (সোনাতলা-সারিয়াকান্দি) আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মাঠে না থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা গোটা নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়িয়েছেন। অন্য প্রার্থীরাও গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়েছেন।

তবে করোনার কারণে এবং বন্যা পরিস্থিতির জন্য নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই, উত্সবমুখর পরিবেশও নেই। মোদ্দা বিষয় হচ্ছে শেষ মুহূর্তে ভোটের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি  জানান, যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনে প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে গতকাল রবিবার ভোটারদের ভেতর কিছুটা উদ্দীপনা লক্ষ করা যায়। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করতে দেখা যায়। দুই লাখ তিন হাজার ১৮ জন ভোটারের যশোর-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন শাহীন চাকলাদার (নৌকা), আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ) ও হাবিবুর রহমান হাবিব (লাঙল)। আর তিন লাখ ৩০ হাজার ৮৯৩ ভোটারের বগুড়া-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাহাদারা মান্নান শিল্পী (নৌকা), এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির (ধানের শীষ), মোকছেদুল আলম (লাঙল), মো. রনি (বাঘ), নজরুল ইসলাম (বটগাছ) ও ইয়াসির রহমতুল্লাহ ইন্তাজ (স্বতন্ত্র—ট্রাক)।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা