kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৭। ৬ আগস্ট  ২০২০। ১৫ জিলহজ ১৪৪১

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি

সেনা টহল লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলি, নারী নিহত আহত শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেনা টহল লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীদের গুলি, নারী নিহত আহত শিশু

বান্দরবানের বাঘমারা বাজারপাড়ায় হামলা চালিয়ে পিসিজেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের ছয়জনকে হত্যার পর গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রোয়াংছড়ি উপজেলায় সেনাবাহিনীর টহলদল লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে সন্ত্রাসীরা। অংগ্যপাড়া এলাকার এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি না হলেও গুলিতে এক নারী নিহত ও তাঁর শিশুসন্তান গুলিবিদ্ধ হয়েছে।

নিহত নারীর নাম শান্তি লতা তঞ্চঙ্গ্যা (২৮)। তাঁর বাড়ি নাইতিং ঝিরিপাড়ায়। স্বামীর নাম রঙিয়া তঞ্চঙ্গ্যা। তাঁদের আহত সন্তান কোয়েল তঞ্চঙ্গ্যাকে (৬) রোয়াংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাঁরা জুমক্ষেত থেকে বাড়ি ফেরার পথে ঘটনাটি ঘটে।

রোয়াংছড়ি থানার ওসি তৌহিদুল কবির জানান, গুলিবিদ্ধ শান্তি লতা তঞ্চঙ্গ্যাকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনীর অ্যাম্বুল্যান্সে করে রোয়াংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

নাইতিংপাড়ার বাসিন্দা অং সিং নু মারমা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর তাঁরা পাশের অংগ্য ঝিরি এলাকায় গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন। এ সময় তাঁদের গ্রামে থাকা সেনাবাহিনীর একটি টহলদল পাল্টা গুলি করতে করতে সেদিকে যায়।

তবে কোন কোন পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে, সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

শান্তি লতার স্বামী রঙিয়া তঞ্চঙ্গ্যা জানান, অংগ্য ঝিরির কাছাকাছি এলাকায় নিজের জুমক্ষেত থেকে ফেরার পথে তিনি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে স্ত্রী-সন্তানের কাছ থেকে পিছিয়ে পড়েন। এ সময় গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়ে তিনি জঙ্গলে লুকান। গোলাগুলি থামলে তিনি অন্ধকারের মধ্যে হাতড়ে বাড়ি ফিরে স্ত্রী-ছেলেকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁদের গায়ে গুলি লেগেছে।

এদিকে সেনাবাহিনীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৭ জুলাই ভোরে বাঘমারা হত্যাকাণ্ডের পর সন্ত্রাসীদের ধরতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তল্লাশিরত সেনাবাহিনীর একটি গ্রুপ অংগ্যপাড়ার কাছাকাছি এসে সন্ত্রাসীদের মুখোমুখি হয়ে পড়ে।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, সেনা সদস্যদের দেখতে পেয়ে আত্মরক্ষার জন্য সন্ত্রাসীরা টহল লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। সেনা সদস্যরা পাল্টা গুলি চালায়। এতে টিকতে না পেরে সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের অন্য পাশ দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তল্লাশি চালাতে গিয়ে সেনা সদস্যরা একজন নারী ও এক শিশুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে মূল সড়কে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে ওই নারী মারা যান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এমএন লারমা গ্রুপ বাঘমারা বাজারপাড়ায় হত্যাকাণ্ডের জন্য পিসিজেএসএস সন্তু লারমা গ্রুপকে দায়ী করে আসছে।

এ ঘটনার পর পুলিশ ও সেনা সদস্যরা আশপাশের এলাকায় তল্লাশি শুরু করেন।

সবশেষ খবর অনুযায়ী, সন্ত্রাসীদের আটক করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের কয়েকটি যৌথ টিম আশপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করেছে।

মন্তব্য