kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদন

ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ভারতের বহুমুখী উদ্যোগ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে ভারতের বহুমুখী উদ্যোগ

চীনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত সংঘর্ষ এখন বাণিজ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সঙ্গে বিপুল অঙ্কের বাণিজ্য কমাতে বিকল্প পথ খুঁজছে ভারত। এ অবস্থায় প্রতিবেশী হিসেবে উভয় দেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে চীন, অন্যদিকে ভারতও ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে বহুমুখী উদ্যোগ নিচ্ছে।

সম্প্রতি ভারতীয় দৈনিক ইকোনমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বেইজিং যখন বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে দেশটিকে কাছে টানার চেষ্টা করছে তখন ভারতও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও ব্যাবসায়িক অংশীদারি বাড়াতে বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করছে। যদিও চীনের বাণিজ্য ছাড় বাংলাদেশকে দ্বিগুণ ঘাটতি ও ঋণের ফাঁদে ফেলতে পারে, সেখানে ভারত বিভিন্ন ধরনের কানেকটিভিটি উদ্যোগ সক্রিয় করছে, যাতে বাংলাদেশি পণ্য দেশটির ভূবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং অন্যান্য অঞ্চলে অব্যাহতভাবে ঢুকতে পারে।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রবন্দর, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন, রেল ও মহাসড়কে কানেক্টিভিটি উদ্যোগ জোরদার করা হবে। এতে ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের বাজারের সঙ্গেও বাংলাদেশ সংযুক্ত হবে। ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশই ১৯৬৫ সালের আগের রেলসহ অন্যান্য কানেক্টিভিটি পুনরায় সচল করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার পরও গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহন ফের চালু হওয়ায় ভারতে বাংলাদেশি রপ্তানি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে দুই দেশের মধ্যে বিশেষ সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া এক দশক আগেই বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি পণ্যে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিয়েছে ভারত। এতে ঢাকার সঙ্গে নয়াদিল্লির বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হচ্ছে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। গত একদশকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ক্রমাগতভাবে বেড়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৯.২১ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে দেশটির আমদানি হয় ১ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে চীন থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আর রপ্তানি করে এক বিলিয়ন ডলারের কম।

বাংলাদেশকে আট বছরে ভারত ৮০০ কোটি ডলার ঋণ (এলওসি) দিয়েছে সড়ক, রেলপথ, নৌপরিবহন ও বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য। ভারতীয় রেয়াতি ঋণের সবচেয়ে বড় গ্রহীতা বাংলাদেশ। আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন, অভ্যন্তরীণ নৌপথের জন্য ড্রেজিং এবং ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন নির্মাণেও সহযোগিতা করছে ভারত।

ঢাকাকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে ক্ষুদ্র উন্নয়ন প্রকল্পগুলো (এসডিপিএস)। ছাত্রদের আবাসিক হল, শিক্ষাভবন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও এতিমখানাসহ বাংলাদেশে ৫৫টি এসডিপিএস প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে ভারত। এ ছাড়া আরো ২৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা