kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

করোনার সমন্বিত চিকিৎসায় অনন্য ঢাকা মেডিক্যাল

ব্রি. জেনারেল নাসির উদ্দীন, পরিচালক, ঢাকা মেডিক্যাল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার সমন্বিত চিকিৎসায় অনন্য ঢাকা মেডিক্যাল

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় বিশ্বজুড়েই ব্যবহার করা হচ্ছে পুরনো কিছু ওষুধের সঙ্গে নানা রকম থেরাপি। বাংলাদেশে সেই ধারা অনুসরণ করেই এগিয়ে যাচ্ছে করোনা রোগীদের চিকিৎসা। যদিও একমাত্র ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই করোনা রোগীদের জন্য এক ধরনের সমন্ব্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে।

করোনায় গুরুতর অসুস্থদের চিকিৎসায় দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে প্লাজমা থেরাপি। দেশে এই প্লাজমা থেরাপি প্রথম শুরু করে দেশের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞদল। যে কার্যক্রমের সার্বিক সমন্ব্বয় করেন ওই হাসপাতালে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দীন। এ পর্যন্ত ১০০ জনের বেশি করোনা আক্রান্ত রোগীকে এই থেরাপি দেওয়া হয়েছে। এমনকি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা শুরু করার আগেই প্লাজমা থেরাপি কার্যক্রম শুরু হয়। এখন অবশ্য আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই থেরাপি চালু করেছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের প্লাজমা থেরাপি ছাড়াও হৃদরোগ ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত অসুস্থতা, প্রসূতি ও শিশুদের মধ্যে যারা করোনায় আক্রান্ত তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য কোথাও শিশুদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা না থাকলেও ঢাকা মেডিক্যালে করোনা আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। যেখানে বর্তমানে ৯০ জন করোনা আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে। 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সব সময়ই সব কাজে দেশের চিকিৎসাসেবায় এগিয়ে থাকে। এবারও করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় দেশে তারাই প্রথম শুরু করে প্লাজমা থেরাপি। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানকার অন্যান্য রোগীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে শুরু থেকে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরে এগিয়েছি। তবে একটু দেরি হলেও পরে আমরা এখন আউটডোর-ইনডোর মিলিয়ে প্রতিদিন প্রচুর করোনা রোগীর সেবা দিচ্ছি।’

পরিচালক বলেন, তাঁরা মাত্র দুই মাসে ইনডোর ও আউটডোর মিলে প্রায় ১০ হাজার করোনা রোগীর সেবা দিয়েছেন। এর মধ্যে ভর্তি করেছেন প্রায় সাড়ে চার হাজার রোগী। এখনো এই হাসপাতালে প্রায় ৭০০ করোনা রোগী ভর্তি আছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০-৬০ জন করে করোনা রোগী ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। 

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দীন আরো বলেন, ‘আমরা আগেও কখনো কোনো রোগী ফিরিয়ে দিইনি এখনো করোনা আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ নিয়ে আসা কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দিচ্ছি না। এমনকি প্রসূতিদের মধ্যে যাঁদের অপারেশন করতে হয় আমরা সেই অপারেশন এখানে করি। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালু রয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা