kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

পশু চোরাকারবারি মাঠে, বিজিবির সতর্ক চোখ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পশু চোরাকারবারি মাঠে, বিজিবির সতর্ক চোখ

ঘনিয়ে এসেছে ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদ ঘিরে সব শক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছেন সীমান্তের চোরাচালানিরা। অবৈধ পথে পশু দেশে ঢোকাতে তৎপর হয়ে উঠেছেন তাঁরা। অন্যদিকে কোরবানির পশু সীমান্ত ডিঙিয়ে দেশে যেন ঢুকতে না পারে সে জন্য সরকারও কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। চোরাচালান ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা টহল বাড়িয়েছেন। তাঁরা রয়েছেন সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায়। খামারিরা মনে করছেন, ভারতীয় পশু দেশে ঢুকলে তাঁদের অনেকেই পুঁজিহারা হবেন। এ ব্যাপারে আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

চুয়াডাঙ্গা : ঈদুল আজহা সামনে রেখে জেলার সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানিরা তৎপর হয়ে উঠেছেন। তাঁরা ভারত থেকে গরু ও মহিষ সীমান্ত ডিঙিয়ে চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছেন। গত এক মাসে বিজিবি সদস্যরা কমপক্ষে ১৫টি গরু-মহিষ জব্দ করেছেন। জেলার সীমান্ত এলাকার একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোরবানি ঈদের আগে এক শ্রেণির চোরাকারবারি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যান। এর পর সেখান থেকে গরু কিংবা মহিষ নিয়ে রাতের আঁধারে সীমান্ত অতিক্রম করে চুয়াডাঙ্গার গ্রামে ঢুকে পড়েন। এরপর তা বিক্রি করে দেওয়া হয় গরু ব্যবসায়ীদের কাছে। এভাবে ঝুঁকি নেওয়ার কারণে এর আগে অনেককে প্রাণও দিতে হয়েছে। অনেকে অবৈধ পথে ভারতে ঢুকে গণপিটুনি খেয়ে রক্তাক্ত হয়ে পালিয়েও এসেছেন। এর পরও লোভে পড়ে চোরাকারবারিরা জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছেন। এ বছরও চোরাকারবারিরা ভারত থেকে অবৈধ উপায়ে গরু আনতে মাঠে নেমেছেন।

এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার ৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেন, ‘সীমান্তে আমরা টহল বাড়িয়েছি যাতে কোনোভাবেই চোরাকারবারিরা ভারতীয় পশু আনতে না পারেন। তা ছাড়া এবারের প্রেক্ষাপট আলাদা। করোনার কারণেও আমরা সতর্কতা বাড়িয়েছি। এখন আর কোনো ভারতীয় পশু আসছে না।’

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) : কোরবানি সামনে রেখে ভারতীয় পশু আনার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছেন চোরাকারবারিরা। পাটগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় পশু বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ( বিএসএফ) চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন কৌশলে বাংলাদেশে গরু ঢুকছে। এসব গরু উঠছে লালমনিরহাটের বিভিন্ন পশুর হাটে।

গত বুধবার ভারতীয় গরু আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন মো. তরিফুল ইসালাম নামের এক যুবক। পরে গত রবিবার উপজেলার শ্রীরামপুর সীমান্ত থেকে লাশ উদ্ধার করে বিজিবি ও পুলিশ। এর আগে গত ২৫ জুন ভোরে উপজেলার জগতবেড় সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মিজানুর রহমান মিজান নামের এক বাংলাদেশি গরু ব্যবসায়ী নিহত হন।

এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার বাউরা, বুড়িমারী, জগতবেড়, জোংড়া, শ্রীরামপুর, দহগ্রামসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রায় প্রতিদিন বিএসএফের গুলি উপেক্ষা করে ভারত থেকে কম-বেশি পশু আসছে। ঈদ সামনে রেখে প্রচুর ভারতীয় পশু আমদানি হবে বলে তাঁরা মনে করছেন।

এ ব্যাপারে আঙ্গরপোতা বিওপি ক্যাম্পের কম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার আব্দুস ছামাদ সরকার বলেন, ‘আমরা এই জুলাইয়ে অবৈধপথে আসা চারটি গরু জব্দ করেছি। এবার ঈদ ঘিরে ভারতীয় গরু যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে সে জন্য সীমান্ত এলাকায় আমাদের বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।’

ধামইরহাট (নওগাঁ) : ঈদুল আজহা সামনে রেখে ধামইরহাট সীমান্তে পশুপাচার প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করেছেন। ১৪ বিজিবি পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম নাদিম আরেফিন সুমন বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে কিছু চোরাচালানি ভারত থেকে গরু পাচারের চেষ্টা করছেন। সীমান্ত এলাকায় রাত-দিন টহল দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা