kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

ওয়ারীতে লকডাউন

অবাধ যাতায়াত ৩ হাসপাতালের রোগীদের বিড়ম্বনা

ওমর ফারুক   

৬ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবাধ যাতায়াত ৩ হাসপাতালের রোগীদের বিড়ম্বনা

বিকেল সোয়া ৩টা। ওয়ারীর লকডাউন করা ওয়্যার স্ট্রিট দিয়ে বেরিয়ে আসেন দুই যুবক। তাঁরা ওই এলাকার বাসিন্দা কি না জানতে চাইলে একজন বলেন, ‘আমরা এই এলাকার না।’ তাহলে কী করতে ভেতরে গেলেন? আপনাকে ঢুকতে দিল? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা ছাত্রলীগ করি। আমাদের জন্য কোনো সমস্যা না। ভেতরে কন্ট্রোল রুমে গিয়েছিলাম।’

বিকেল ৩টা। সায়েদাবাদ এলাকা থেকে র্যাংকিন স্ট্রিটের হেলথ কেয়ার হাসপাতালে যাচ্ছিলেন রাত্রী নামের অসুস্থ এক নারী। তাঁর সঙ্গে আরো চারজন ছিলেন। ওয়্যার স্ট্রিটের মাথায় আটকে দেওয়া হয় তাঁদের। পরে কথা বলে পুলিশ রাত্রীর সঙ্গে দুজনকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেয়। অন্য দুজন বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের একজন খুশি বেগম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রোগীর অবস্থা ভালা না। এ কারণেই তার লগে আইছিলাম। কিন্তু আমাগো ঢুকতে দিল না। অহন এইহানে বইয়া রইছি। তারা ফিরা আইলে চইলা যামু।’

গতকাল রবিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ওয়ারীর লকডাউন করা এলাকায় ঘুরে লোকজনের অবাধ যাতায়াতের পাশাপাশি ভোগান্তির কিছু চিত্রও পাওয়া গেছে। ভোগান্তিতে পড়াদের মধ্যে বেশির ভাগই ওই এলাকার তিনটি হাসপাতালে আসা-যাওয়া করা রোগী ও তাঁদের স্বজন।

জানা যায়, নতুন আসা রোগীদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে পুরনো যেসব রোগী ফলোআপ চিকিৎসা করাতে আসছে তাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

লকডাউন এলাকায় হেলথ কেয়ার ছাড়াও রয়েছে নিবেদিতা হাসপাতাল ও বারডেম হাসপাতালের সহযোগী হাসপাতাল। নিবেদিতা হাসপাতালে শিশুদের চিকিৎসা করা হয়। তিনটি হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও শত শত রোগী আর তাদের স্বজনরা আসা-যাওয়া করেন।

অবশ্য হাসপাতালে যাওয়ার নাম করেও অনেকেই লকডাউন এলাকায় ঢুকছে। বাইরের লোকজনকে অবাধে চলাচল করতেও দেখা গেছে। কোনো কোনো রাস্তায় বাঁশের বেড়ার ফাঁক গলে লোকজনকে আসা-যাওয়া করতে দেখা গেছে।

অবশ্য অন্য চিত্রও দেখা গেছে। দুপুর ২টার দিকে বলধা গার্ডেনের পাশের লকডাউন হওয়া গলিতে দেখা যায় বাঁশের বেড়ার কাছে একটি বড় ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ‘জলদি এক্সপ্রেস’ নামের কেনাকাটার অনলাইন মাধ্যমের সরবরাহকর্মী রনি। তিনি বলেন, ‘মোবাইল ফোনে আমাদের শপিং সেন্টারে লকডাউন এলাকার এক বাসিন্দা বইয়ের অর্ডার দিয়েছিলেন। সেই বইয়ের প্যাকেট নিয়ে ধানমণ্ডি থেকে এসেছি। আমাদেরকে ফোনে অর্ডার করলে বই, পোশাক, খাবারদাবারসহ সব কিছু সরবরাহ করে থাকি।’

একই সময় দেখা যায় আবদুল হামিদ নামের একজন লকডাউনের ভেতরে থাকা এক আত্মীয়কে ফোন করছেন। সেই আত্মীয় তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য আসতে চান; কিন্তু সেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা বসে থাকায় তাঁদের দেখা হওয়ার সুযোগ মেলেনি। হামিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার এই আত্মীয় অসুস্থ। ওষুধ আনার জন্য ফোনে বলেছিল আমাকে। আমি ওষুধ নিয়ে গেণ্ডারিয়া থেকে এসেছি।’

এলাকার লোকজনের অনেকেই লকডাউন মানতে চাচ্ছে না। তারা জোর করে বাড়ি থেকে বের হতে চাচ্ছে। এ কারণে ঝগড়াঝাঁটি হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে। ওয়্যার স্ট্রিটের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন জরুরি কাজের কথা বলে এলাকা থেকে বের হন। তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখানে লকডাউন করে আমাদের কষ্ট দেওয়া হচ্ছে। সমানে বাইরের লোক ভেতরে যাওয়া-আসা করছে। তাহলে এই লকডাউন করে কী লাভ হচ্ছে? আর লকডাউন হলে যদি করোনামুক্ত হয়ে যেত তাহলেও না হয় মানতাম।’

সিটি করপোরেশনের অধীনে দায়িত্ব পালনকারী রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক মো. সাইদ কালের কণ্ঠকে জানান, লকডাউনের কারণে অনেকে খুশি। তাঁরা বাড়ির বাইরে বের হন না। তাঁরা লকডাউনকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু লোক ঝামেলা করে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার থেকে ওয়ারীর লারমিনি স্ট্রিট, ওয়্যার স্ট্রিট, হেয়ার স্ট্রিট, র্যাংকিন স্ট্রিট ও নবাব স্ট্রিটে ২১ দিনের লকডাউন শুরু হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা