kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

উঁচু গলায় কথা বললে কেউ কেউ বিরক্ত হয়

মেহেদী হাসান   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উঁচু গলায় কথা বললে কেউ কেউ বিরক্ত হয়

সীমান্তে প্রাণহানি, বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের ‘কূটনৈতিক শিষ্টাচারবিরোধী কর্মকাণ্ড’সহ বিভিন্ন ইস্যুতে গত প্রায় দেড় বছরে বিভিন্ন সময় সরব থাকতে দেখা গেছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে। কখনো কখনো তিনি অকপটে সমালোচনা করেছেন বিদেশি সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য বা অসম্মানজনক শব্দচয়ন এবং দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়েও। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে প্রভাবশালী দেশগুলো নিয়ে উঁচু গলায় সমালোচনা করার পর ওই দেশগুলোর প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া কেমন হয় জানতে চাওয়া হয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে কোনো সমস্যা হয় কি না তাও ছিল কালের কণ্ঠ’র প্রশ্ন।

জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো সমস্যা হয় না। কোনো সমস্যা হয়নি। বরং তাঁরা প্রশংসা করেন। আমি যখন উঁচু গলায় বলি এবং তাঁদের ভুল ধরিয়ে দিই তখন তাঁরা এসে ‘অ্যাপোলজি’ (ভুল স্বীকার) চান।’

মন্ত্রী বলেন, “আমি সহজ কথায় বলেছি—‘তোমরা অন্য দেশের রাষ্ট্রদূত। এখানে এসে পলিটিক্যাল স্টেটমেন্ট (রাজনৈতিক বিবৃতি) দেওয়ার কোনো অধিকার তোমাদের আছে? আর তুমি আমার দেশে এসে ‘পলিটিক্যাল স্টেটমেন্ট’ দাও!’ তখন তারা চুপসে যায়। আমি তো কোনো অন্যায় কথা বলি না।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যখন আমাকে পত্রিকাওয়ালারা (সাংবাদিকরা) বলল তোমার দেশে (বাংলাদেশে) প্যানডেমিক (মহামারি) হচ্ছে, সে জন্য ভারতীয় আর্মি (সেনাবাহিনী) এসে সাহায্য করবে! আমি ওদের বললাম, আমার কোনো দরকার নেই ভারতীয় আর্মির। আমার যে আর্মি আছে তারা খুব ভালো। দে আর অলরেডি ইনভলভড ইন প্যানডেমিক (তারা এরই মধ্যে মহামারি মোকাবেলায় কাজ করছে)। দে আর সার্ভিং ইফিশিয়েন্টলি অ্যান্ড ইফেকটিভলি (তারা দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে)। আমরা পৃথিবীর প্রায় সব সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে, দুনিয়ার ৩৬টি দেশে আমাদের শান্তিরক্ষী পাঠিয়েছি সংকট সমাধানের জন্য। আমরা ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টে (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়) খুব ভালো। আমাদের অন্য কোনো দেশের সেনা দরকার নেই। তখন আপনারা কেউ কেউ রাগ করলেন এটা নিয়ে। আমি কি ভুল বলেছি?’

ভারত ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সেদিন তারা একটু অসন্তুষ্ট হয়েছেন। সরকার (ভারত সরকার) কিন্তু আমাকে বিরক্ত করেনি। তাদের একটি পত্রিকা বলল, চীন আমাদের ৯৭ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত যে সুবিধা দিয়েছে সেটি খয়রাতি। ‘খয়রাতি’ খুব নিচুমনা শব্দ। যেন ভিক্ষুককে কিছু দিলেন!”

মন্ত্রী বলেন, “আমরা তো ভিক্ষুকের জাতি না। আমাদের আত্মসম্মান আছে। আমি ওই শব্দটি মোটেও পছন্দ করিনি। আমি মনে করি, একজন পরিপক্ব সাংবাদিক এ ধরনের বাজে শব্দ ব্যবহার করবেন না। এটা খুব নিচু মনের পরিচায়ক। তাই আমি এ নিয়ে বলেছি। আমার মনে হয়, আমাদের জনগণও সেভাবেই চিন্তা করেছেন। তারা অবশ্য নিজের অপরাধ স্বীকার করে সেটি ‘উইথড্র’ করেছে।”

“তাতে হয়তো কেউ কেউ রাগ করেছেন যে আপনি ‘ইন্ডিয়ান’ (ভারতীয়) লোককে এত কড়া কথা বললেন কেন? আপনি কি অন্য কিছু বলতেন? নাকি চুপসে যেতেন?”—পাল্টা প্রশ্ন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, আপনি যদি বন্ধু হন, বন্ধু কখনো তার বন্ধুকে গুলি করে মারবে না। আপনি যদি আমার বন্ধু হন তাহলে আমার লোককে কেন সীমান্তে গুলি করে মারবেন? এটা তো বন্ধুত্বের পরিচয় নয়। এটা বলা কি খুব অন্যায় হয়েছে?’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা