kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭। ১১ আগস্ট ২০২০ । ২০ জিলহজ ১৪৪১

মৌসুমি ফল

বেড়েছে অনলাইন-টেলিবাণিজ্য

► আমের বিক্রি কম, দাম বেশি
► কাঁঠালের দামে স্বস্তি হলেও বিক্রি কম

রোকন মাহমুদ   

৩ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বেড়েছে অনলাইন-টেলিবাণিজ্য

রাজধানীর বাজারে এখন মৌসুমি ফলের ছড়াছড়ি। দোকানে দোকানে আম, কাঁঠাল, আনারস ও লটকনের সরবরাহ বেড়েছে। অবশ্য করোনাকালে আম ও কাঁঠালের বাণিজ্য বেশি দেখা যাচ্ছে অনলাইন মাধ্যম ও টেলিফোনে। এবার আমের দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি ও লাভের পরিমাণ কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, অনেকেই এবার ফলের ব্যবসায় নেমে পুঁজি হারিয়ে ফিরে গেছেন। পুরনো ব্যবসায়ীরা টিকে থাকলেও লাভ তেমন হচ্ছে না।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার কারণে বিক্রি কিছুটা কমেছে। এ জন্য দাম কম হওয়ার কথা। কিন্তু এবার ফলের, বিশেষ করে আমের উৎপাদন কম। তাই দামও বেশি।

আমের বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বাজারে ভালো মানের আম্রপালি কেজি এখন ১০০-১১০ টাকা। কিছুটা নিম্নমানের আম্রপালি পাওয়া যাচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে। ভালো মানের লেংড়া প্রতি কেজি ১০০-১১০ টাকা। কিছুটা নিম্নমানের লেংড়া বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে। মানভেদে হিমসাগর ৮০-১০০ টাকা কেজি। হাঁড়িভাঙা আম ভালো মানের ১০০-১২০ টাকা কেজি। আর কিছুটা নিম্নমানের বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা কেজি দরে।

অন্যদিকে কাঁঠালের বাজারে দামে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ছোট আকারের কাঁঠাল এখন ৫০-৭০ টাকায় পাওয়া যায়। মাঝারি আকারের ৮০-১২০ টাকা। বড় আকারের কাঁঠাল পাওয়া যায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। আনারস পাওয়া যায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা জোড়া। লটকন এখনো ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, দিন দিন আমের দাম বাড়ছে। কিন্তু ক্রেতাদের সেটা বোঝানো যায় না।

গত বছরের তুলনায় আমের দাম এবার অনেক বেশি। কিন্তু ক্রেতারা দাম শুনেই চলে যায়। পচনশীল হওয়ায় লাভের মুখ দেখা কষ্টকর হয়ে ওঠে।

মুগদা বাজারের আম-কাঁঠাল ব্যবসায়ী জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কাস্টমার বেছে বেছে ভালো আম কিনতে চায়। কিন্তু আমরা আড়তে গিয়ে এত কিছু দেখার সুযোগই পাই না। আড়তে মাল কম, বাজার চড়া। মানুষের আয় কমে যাওয়ায় এত দাম দিয়ে আম কিনতে চায় না। গত বছর সারা দিনে যা বিক্রি করেছি এবার তার থেকে ১০ ভাগ কম হচ্ছে। এটি বিক্রেতা বাড়ার কারণেও হতে পারে।’ তিনি বলছিলেন, কাঁঠালের দাম কিছুটা কম। রয়েছে পর্যাপ্ত।

আমের দাম বেশি বলছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি খাইরুল ইসলামও। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আম্ফানের কারণে অনেক আমবাগান নষ্ট হয়েছে। এতে আমের উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম হবে।’ তিনি বলছিলেন, উৎপাদন কম হওয়ায় এবার আমের দামও গত বছরের তুলনায় গড়ে মণপ্রতি এক হাজার টাকা বেশি। তাঁর দেওয়া তথ্য মতে, গত মঙ্গলবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের হাটে আম্রপালি বিক্রি হচ্ছিল ২০০০-২৫০০ টাকা মণ, যা গত বছর ছিল ১৫০০-২০০০ টাকা। লেংড়া আম বিক্রি হচ্ছিল তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা মণ দরে। গত বছর এর চেয়ে এক হাজার টাকা কম ছিল দাম। হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা মণ, যা গত বছর ছিল দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।

খাইরুল ইসলাম জানান, আগে নিজে খাওয়ার জন্যও অনেকে পাইকারি বাজারে আম কিনতে আসত। করোনার কারণে এবার আর তেমনটি হচ্ছে না। এ ছাড়া চাহিদা কমায় পাইকারদের অর্ডারও কিছুটা কমেছে। সব মিলিয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিক্রি কম। অন্যদিকে টেলিফোনে অর্ডার দিয়ে আম কেনার পরিমাণ ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে পুরনো আড়তদাররা তো আছেনই, এর সঙ্গে নতুন ব্যবসায়ীও যোগ হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রেতারা টেলিফোনে অর্ডার দেয়, আর ব্যাংক বা মোবাইল ফোনে টাকা পাঠায়। আড়তদাররা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পাঠিয়ে দেন। সে কারণে তাঁদের বিক্রি তেমন কমেনি।

খুচরা পর্যায়েও অনলাইন বা টেলিফোনে আমের বিক্রি এবার বেশি। ভোগ্যপণ্য বিক্রয়কারী অনলাইনভিত্তিক প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই এবার আম বিক্রি করছে। এ ছাড়া সুপারশপগুলোর অনলাইন সেবাও রয়েছে। অনেকে শুধু মৌসুমি ফল বিক্রির জন্য ফেসবুক গ্রুপ খুলেছে। সেখান থেকে টেলিফোনে অর্ডার করে ঘরে বসে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রযুক্তিনির্ভর ‘এক শপ’ অ্যাপ চালু করেছে, যার মাধ্যমে সারা দেশের চাষিরা পণ্য বেচাকেনা করতে পারেন। অনলাইনে ও ভ্যানযোগে ছোট ছোট পরিসরে কেনাবেচার জন্য উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা