kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

শুভংকরের ফাঁকি ক্রেডিট কার্ডে!

► বিলম্ব ফি মওকুফের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না
► অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা, বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক

জিয়াদুল ইসলাম   

২ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শুভংকরের ফাঁকি ক্রেডিট কার্ডে!

করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ছিল, ১৫ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বিলের বিপরীতে কোনো ধরনের বিলম্ব ফি বা চার্জ নেওয়া যাবে না। তবে এ নির্দেশনা কাগজেই সীমাবদ্ধ, বলছেন ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকরা। তাঁদের দাবি, ব্যাংকগুলো বিলম্ব ফি ও সুদ নিচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, এপ্রিল ও মে এই দুই মাস সব ধরনের ঋণের সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের সুদ আদায় স্থগিত রাখার নির্দেশনা থাকলেও সেটিও মানা হচ্ছে না। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিল পরিশোধ করার পরও সুদ নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ করেও প্রতিকার  পাচ্ছেন না তাঁরা।

তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক পঙ্কজ বিশ্বাস। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো নির্দেশনাই মানছে না। এমনকি ঋণের ক্ষেত্রে দুই মাস সব ধরনের সুদ আদায় স্থগিত রাখার যে নির্দেশনা, তা-ও মানা হচ্ছে না।’

পঙ্কজ বিশ্বাসের সরবরাহ করা একাধিক ব্যাংকের স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মার্চ মাসে ব্যবহারের ওপর ২৩ এপ্রিল একটি ব্যাংক তাঁকে যে বিল পাঠায় সেখানে এক হাজার ৪৪০ টাকা সুদ ধরা হয়েছে। আরেকটি ব্যাংক গত মে মাসের বিলে সুদ ধরেছে ৯৪৫ টাকা। এটি পাঠানো হয়েছে ২০ জুন।

দুটি বেসরকারি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী প্রবাসী কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রাহকদের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধে সুবিধা দিয়ে সার্কুলার জারি করলেও কার্যত ব্যাংকগুলো সেটা মানেনি। উল্টো বিল অপরিশোধিত রাখার কারণে এখন আমরা সুদ গুনছি।’ তিনি বলেন, ‘বিলম্ব ফি ও চক্রবৃদ্ধি সুদ কেন মাফ করা হয়েছে? কারণ করোনার কারণে ব্যাংকে যাওয়া সমস্যা হবে।’ তাহলে মূল বিলের টাকা দিতে ব্যাংকে কিভাবে যেতেন তিনি, প্রশ্ন তোলেন এই গ্রাহক।

কামরুল ইসলামের সরবরাহ করা স্টেটমেন্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, মার্চ মাসে ব্যবহারের ওপর ২৬ এপ্রিল একটি ব্যাংক তাঁকে যে বিল পাঠায় তাতে তিন হাজার ৪১১ টাকা সুদ ধরা হয়েছে। এ ছাড়া এপ্রিল মাসে ব্যবহারের ওপর গত ৫ মে পাঠানো আরেকটি বেসরকারি ব্যাংকের বিল সুদ ধরা হয়েছে  ২০ হাজার ৭৯৬ টাকা। এখানেই শেষ নয়, ৫ মে পাঠানো বিলটি গত ২০ মে নির্দিষ্ট তারিখে ব্যাংকে পরিশোধ করার পরও জুন মাসে কামরুল ইসলামকে যে বিল পাঠানো হয়েছে, সেখানে পাঁচ হাজার ৫৩৬ টাকা সুদ ধরা হয়েছে।

ক্রেডিট কার্ডের আরেক গ্রাহক আবু রাসেল চৌধুরীর কাছ থেকেও চক্রবৃদ্ধি সুদ নিয়েছে আরেকটি ব্যাংক। ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত ব্যবহারের ওপর ব্যাংক যে স্টেটমেন্ট পাঠিয়েছে তাতে তিন হাজার ৩৬৭ টাকা সুদ ধরা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে বক্তব্য জানতে চাইলে তাঁরা তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আবু ফরাহ মো. নাছের বলেন, ‘যদি নিয়মের বাইরে কোনো ব্যাংক সুদ চার্জ করে থাকে এবং এসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘৪৫ দিন পর্যন্ত ক্রেডিট কার্ড মাগনা ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যায়। এ সময়ের মধ্যে বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারলে সুদ গুনতে হয় গ্রাহককে।’

ক্রেডিট কার্ডে বাড়তি কোনো চার্জ না নিতে গত ৪ ও ১৫ এপ্রিল আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেসব ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ১৫ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত, যথাসময়ে ওই বিল পরিশোধ না করলেও কোনো বিলম্ব ফি, চার্জ, দণ্ড সুদ বা যে নামেই হোক, তা নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ আদায় না করার জন্য নির্দেশনাও দেওয়া হয়। আর এপ্রিল ও মে মাসে সব ঋণে সুদ আদায় স্থগিতের নির্দেশনা দিয়ে আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় গত ৩ মে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা