kalerkantho

বুধবার । ১৩ মাঘ ১৪২৭। ২৭ জানুয়ারি ২০২১। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘সংক্রমণ চলবে আরো দু-তিন বছর’, দেশে শনাক্ত লাখ ছাড়াল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘সংক্রমণ চলবে আরো দু-তিন বছর’, দেশে শনাক্ত লাখ ছাড়াল

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার বিচারে বিশ্ব ও দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আরো দু-তিন বছর ধরে চলবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি এক, দুই বা তিন মাসে শেষ হচ্ছে না, যদিও সংক্রমণের মাত্রা অনেক হ্রাস পাবে বলে তাঁরা মনে করছেন।

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের নিয়মিত বুলেটিনে অংশ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এমন তথ্য জানান। তিনি জানান, তিনি নিজেও করোনাভাইরাসসৃষ্ট কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং হাসপাতালেও ভর্তি ছিলেন। তবে বেশ কিছুদিন আগে তিনি ফিরে আসেন দপ্তরে এবং কাজ শুরু করেন।

একই অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন শনাক্ত হয়েছে তিন হাজার ৮০৩ জন। গত ৮ মার্চ প্রথম তিনজন শনাক্তের তথ্য দেয় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। গতকাল পর্যন্ত এ সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছে এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন। এক দিনে মোট পরীক্ষা হয়েছে ১৬ হাজার ২৫৯টি এবং এ পর্যন্ত মোট পরীক্ষা হয়েছে পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৩টি। পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৩.৩৯ শতাংশ।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৯৭৫ জনসহ এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে ৪০ হাজার ১৬৪ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৩৯.২৬ শতাংশ। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের। দেশে সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছে এক হাজার ৩৪৩ জন। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার ১.৩১ শতাংশ। মৃতদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ এবং সাতজন নারী। বয়স বিভাজনে ০ থেকে ১০ বছরের মধ্যে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছয়জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুজন। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮ জন, রাজশাহী বিভাগে একজন, খুলনা বিভাগে দুজন, রংপুর বিভাগে একজন, বরিশাল বিভাগে একজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন। হাসপাতালে মারা গেছে ২৪ জন এবং বাড়িতে ১৪ জন।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টিনে গেছে দুই হাজার ৮২১ জন এবং মোট কোয়ারেন্টিনে আছে ৬২ হাজার ৭০৬ জন। একই সময়ে আইসোলেশনে গেছে ৬৭৪ জন। এখন পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে আছে ১১ হাজার ২৬ জন।

এর আগে বুলেটিনে যোগ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, পরীক্ষা বাড়ালে মৃদু ও সুপ্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বের হয়ে আসবে। সে ক্ষেত্রে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা যে কমেছে সেটি বোঝা যাবে না। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি এক, দুই বা তিন মাসে শেষ হবে না। তিনি বলেন, ‘এটি দুই থেকে তিন বছর ধরে চলতে পারে, যদিও সংক্রমণের মাত্রা একই হারে না-ও থাকতে পারে।’

মহাপরিচালক বলেন, দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখলে কর্মহীনতা, আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হওয়া এবং অন্যান্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণেও ব্যাপক অপুষ্টি, রোগবালাই ও মৃত্যু ঘটতে পারে। সে কারণে জীবন ও জীবিকার মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ও পরিস্থিতি সামাল দিতে কী কী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার এবং এখন পর্যন্ত কী কী করা হয়েছে তার একটি তালিকা তুলে ধরেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, দুই হাজার চিকিৎসক ও পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নিয়োগ করা হবে

আবুল কালাম আজাদ বলেন, কভিড পরীক্ষার সুযোগ সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আরো সম্প্রসারিত করা হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় জেলা পর্যায় পর্যন্ত আরটি-পিসিআর পরীক্ষা যত দ্রুত সম্ভব সম্প্রসারিত হবে। আরো নতুন নতুন সহজে করা যায় এমন কভিড পরীক্ষা চালু করা হবে। উপজেলা হাসপাতাল পর্যায়ে এ ধরনের পরীক্ষা চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে আগত কভিড রোগীদের রোগ নির্ণয় এবং রোগের অবস্থা নির্ণয়ের জন্য যন্ত্রপাতি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। সব জেলা হাসপাতালে আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। জেলা হাসপাতালসহ সব সরকারি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর সিপ্যাপ মেশিন দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষার কিট ও পিপিইর যেন অভাব না হয় সে জন্য সুপরিকল্পিত সংগ্রহ ও সরবরাহ পদ্ধতি চালু রাখা হচ্ছে।

মহাপরিচালক জানান, সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে যেন কভিড, নন-কভিড সব রোগীর ভালোভাবে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয় তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালের সেবার বিষয়ে মূল্য নির্ধারণ, তদারকি ও তাদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাত যেন যৌথ দায়িত্ব হিসেবে এই গুরুদায়িত্ব পালন করে সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা