kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

ডিএমপি কমিশনারকে ‘ঘুষ’ দেওয়ার প্রস্তাব

চিঠি ফাঁস নিয়ে তোলপাড়, তদন্তে নামবে কমিটি

জিজ্ঞাসাবাদ করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চিঠি ফাঁস নিয়ে তোলপাড়, তদন্তে নামবে কমিটি

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে (ডিএমপি) ‘ঘুষ’ দিতে চাওয়া যুগ্ম কমিশনারকে দুর্নীতির কারণে বদলি করতে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে কমিশনারের লেখা চিঠির ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সেই চিঠি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় বিব্রত ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, গোপনীয় চিঠি কী করে ফাঁস হলো তা তদন্ত করা হবে। গতকাল শনিবারই এ ঘটনা তদন্তে একজন যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটিও করা হয়েছে। তবে যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এই তোলপাড় সেই যুগ্ম কমিশনার মো. ইমাম হোসেন গতকাল পর্যন্ত বহাল ছিলেন। গতকাল বিকেল পর্যন্ত সেই আলোচিত চিঠি পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছায়নি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে বা অভিযোগ থাকলে কমিশনার কোনো কোনো সময় আইজিকে গোপন চিঠিতে জানান। তবে ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ প্রস্তাবের অভিযোগ এবং সেটি প্রকাশ পাওয়ার ঘটনায় আলোচনা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে ঘটনার ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার মুহা. শাফিকুল ইসলাম ও যুগ্ম কমিশনার ইমাম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত ৩০ মে আইজিপির কাছে একটি চিঠি পাঠান শফিকুল, যাতে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (লজিস্টিকস) মো. ইমাম হোসেনকে ‘দুর্নীতিপরায়ণ’ আখ্যায়িত করে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে বদলির সুপারিশ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, “ডিএমপির বিভিন্ন কেনাকাটায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তিনি ডিএমপির কেনাকাটায় স্বয়ং পুলিশ কমিশনারের কাছে ‘পার্সেন্টেজ’ গ্রহণের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন। ফলে ওই কর্মকর্তাকে ডিএমপিতে রাখা সমীচীন নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে।” তাঁর ওই চিঠি নিয়ে এরই মধ্যে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। 

এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে অফিশিয়াল গোপনীয় এই প্রতিবেদন কিভাবে মিডিয়ার কাছে গেছে, সে ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটি দেখবে কিভাবে এই অফিশিয়াল সিক্রেট আউট হয়েছে।’

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ইমাম হোসেনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

ডিএমপি কমিশনারের চিঠিটি গতকাল পর্যন্ত পুলিশ সদর দপ্তর পায়নি বলে জানিয়েছেন সহকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা। তিনি বলেন, ‘এটি প্রশাসনিক বিষয়। ওই চিঠি এখনো পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছায়নি। যদি আসে, তবে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে গতকাল বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ডিএমপি কমিশনারকে ঘুষের যে প্রস্তাবের কথা বলা হচ্ছে সেটা যদি হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি তিনি আইজিপিকে সরাসরি জানাতে পারতেন। তিনি মন্ত্রণালয়কে জানাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি কেন চিঠি দিতে গেলেন সেটা একটা রহস্য। এ কারণে চিঠির বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ছাড়া ইমাম হোসেন কেন তাঁকে ঘুষ দিতে চেয়েছেন, সে বিষয় জানতে তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ রয়েছে কি না, পুরো ঘটনার সত্য-মিথ্যা যাচাই করা হবে।

এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অফিশিয়ালি কিছু জানি না। গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে, সেগুলো দেখছি। অফিশিয়ালি এলে আমি বলতে পারব।’

মন্তব্য