kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

‘রেড জোন’ কক্সবাজার ফের অবরুদ্ধ

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

৬ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘রেড জোন’ কক্সবাজার ফের অবরুদ্ধ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য আবার লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তিন লক্ষাধিক বাসিন্দার শহরটিতে লকডাউন কার্যকর হয়েছে গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা থেকে। বহাল থাকবে আগামী ২০ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত। প্রয়োজনে লকডাউনের মেয়াদ আরো বাড়ানো হবে।

‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা এলাকা থেকে কোনো লোক বাইরে যেতে পারবে না। একইভাবে সেখানে কেউ প্রবেশও করতে পারবে না। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন গতকাল এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে লকডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার জেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, ‘রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকবে। লকডাউন থাকাকালে প্রয়োজনে এসব এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষকে সরকারিভাবে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে।’

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মাত্রা কমাতে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরুরি কাজের সঙ্গে জড়িতরা রেড জোনে সীমিত আকারে আসা-যাওয়া করতে পারবেন। তিনি বলেন, কভিড-১৯ সংক্রমণ কার্যকর ও অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধসংক্রান্ত জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সমগ্র পৌরসভাকে ‘রেড জোনের’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ‘রেড জোনে’ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক বিবেচনায় শুক্রবার মধ্যরাত (৬ জুন) ১২টা থেকে ২০ জুন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত লকডাউন অব্যাহত থাকবে।

এসংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রেড জোন’ এলাকায় সব ধরনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। জনসাধারণ আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ আবাসস্থলে অবস্থান করবে। সব ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী হালকা ও ভারী যানবাহন রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। সব ধরনের দোকান, মার্কেট, বাজার, হাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। শুধু রবি ও বৃহস্পতিবার কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ওষুধের দোকান এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। শুধু কভিড-১৯ মোকাবেলা ও জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলা থাকবে। রবি ও বৃহস্পতিবার ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকবে।

জেলা প্রশাসক বলেছেন, কক্সবাজার পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডের সব কয়টি অতিমাত্রায় করোনা সংক্রমণের কারণে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে কমিটি থাকবে। ওয়ার্ড কাউন্সিলররা কমিটির প্রধান হবেন। প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে যুবক, ছাত্র, সমাজকর্মী নিয়ে একটি করে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হবে। কমিটিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করবে।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৮৮৬ জনের করোনা ধরা পড়েছে। মারা গেছে সরকারি হিসাবে ১৬ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ২০ জন। অন্যদিকে রোহিঙ্গা শিবিরে একজন রোহিঙ্গা মারা গেছে এবং আক্রান্ত হয়ে আরো ৩০ জন চিকিৎসাধীন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা