kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ

শিক্ষার্থীদের ঘরবন্দি উচ্ছ্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শিক্ষার্থীদের ঘরবন্দি উচ্ছ্বাস

করোনা পরিস্থিতিতে সারা দেশে কার্যত লকডাউন অবস্থায় গতকাল এসএসসির ফল প্রকাশের পর রাজধানীর রামপুরায় জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর ঘরবন্দি উল্লাস। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই গতকাল রবিবার প্রকাশ হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল। তবে অন্যান্য বছরের মতো ফল পেতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের কোনো ভিড় ছিল না। স্কুল প্রাঙ্গণে ছিল না কোলাহল। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই এসএমএস ও শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফল জেনে নিয়েছে। ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস-আনন্দও ছিল ঘরবন্দি।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের গড় হার ৮২.৮৭ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৮২.২০ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জন, গত বছর যা ছিল এক লাখ পাঁচ হাজার ৫৯৪ জন। সেই হিসাবে এবার পাসের হার ও জিপিএ ৫ দুটিই বেড়েছে।

রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রতিবছর শিক্ষামন্ত্রী বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়ে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন। এবার ছিল ব্যতিক্রম। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেনসহ বোর্ড চেয়ারম্যানরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে এক সংবাদ সম্মেলনে ফলের বিস্তারিত তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত ১০ বছর পরীক্ষা শেষের ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু এবার বৈশ্বিক মহামারি কভিড-১৯-এর কারণে সেই সময়সীমায় ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তবে সারা দেশে গণপরিবহন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও প্রধান পরীক্ষকদের নিরীক্ষিত ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) ডাক বিভাগ বোর্ডগুলোতে পৌঁছে দিয়েছে। আর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঝুঁকি নিয়ে তাঁদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করায় ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেয় ২০ লাখ ৪০ হাজার ২৮ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন। পাসের হার ৮২.৮৭ শতাংশ। শতভাগ পাস করেছে তিন হাজার ২৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। আর একজনও পাস করতে পারেনি এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১০৪টি। ৯টি সাধারণ বোর্ডে পাসের হার ৮৩.৭৫ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৮২.৫১ শতাংশ। তবে পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। তাদের পাসের হার ৭২.৭০ শতাংশ।

বোর্ডওয়ারি পাসের হিসাবে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৮২.৩৪ শতাংশ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৬ হাজার ৪৭ জন, রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৯০.৩৭ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ১৬৭ জন, কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৮৫.২২ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে ১০ হাজার ২৪৫ জন, যশোর বোর্ডে পাসের হার ৮৭.৩১ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৭৬৪ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৮৪.৭৫ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯ হাজার আটজন, বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৭৯.৭০ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে চার হাজার ৪৮৩ জন, সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৭৮.৭৯ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে চার হাজার ২৬৩ জন, দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৮২.৭৩ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে ১২ হাজার ৮৬ জন, ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৮০.১৩ শতাংশ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে সাত হাজার ৪৩৪ জন; মাদ্রাসা বোর্ডে পাসের হার ৮২.৫১ শতাংশ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে সাত হাজার ৫১৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭২.৭০ শতাংশ ও জিপিএ ৫ পেয়েছে চার হাজার ৮৮৫ জন।

এবার বিদেশের ৯টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৩৩৬ শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৩১৮ জন। পাসের হার ৯৪.৬৪ শতাংশ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জিপিএ ৫ নিয়ে আমাদের এক ধরনের উন্মাদনা আছে। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রস্তুতি ও মেধা অনুযায়ী ফল অর্জন করছে। কিন্তু জিপিএ ৫ না পেলে যে জীবন নষ্ট হয়ে যাবে, এটা ঠিক নয়। অভিভাবকদের দায়িত্ব সন্তানদের উৎসাহিত করা, অনুপ্রাণিত করা।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে কত দিন ক্লাস বন্ধ থাকবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে যখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে, তখন ক্ষতি কিভাবে পোষানো যায় সে চেষ্টা আমাদের থাকবে। শিক্ষাবর্ষ বাড়ানো সম্ভব কি না তাও আমাদের বিবেচনায় আছে। বর্তমানে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ক্লাস চলছে। তবে শতভাগ শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। বেতারের মাধ্যমেও ক্লাস প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে দুই সপ্তাহের সময় দিয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু করা হবে।’

আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রীও বলেন, ‘আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাচ্ছি। উদ্দেশ্য, করোনাভাইরাস দ্বারা শিক্ষার্থীরা যাতে আক্রান্ত না হয়। ওরা আমাদের ভবিষ্যৎ। ভবিষ্যৎ তো আমরা ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না। সেই কারণে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখনই উন্মুক্ত করব না। আমরা দেখি, এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারলে পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করব।’

পুনর্নিরীক্ষার আবেদন আজ থেকে : আজ থেকে আগামী ৭ জুন পর্যন্ত এসএসসি ও সমমানের ফল পুনর্নিরীক্ষার আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। টেলিটক মোবাইল থেকে জঝঈ স্পেস বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর স্পেস রোল নম্বর স্পেস বিষয় কোড লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ফি বাবদ কত টাকা কেটে নেওয়া হবে, তা জানিয়ে একটি পিন নম্বর (পার্সোনাল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর) দেওয়া হবে। আবেদনে সম্মত থাকলে জঝঈ স্পেস ণঊঝ স্পেস পিন নম্বর স্পেস যোগাযোগের জন্য একটি মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠাতে হবে।

একই এসএমএসে একাধিক বিষয়ের জন্য আবেদন করা যাবে, এ ক্ষেত্রে বিষয় কোড পর্যায়ক্রমে ‘কমা’ দিয়ে লিখতে হবে। প্রতি পত্রের জন্য ১২৫ টাকা হারে চার্জ কাটা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা