kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

করোনার চেয়ে আতঙ্ক বড় মৃত্যু বেশি অন্য রোগে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার চেয়ে আতঙ্ক বড় মৃত্যু বেশি অন্য রোগে

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) চেয়ে বড় ‘ভাইরাস’ হলো মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে আতঙ্ক। বাংলাদেশের চিকিৎসকরাও করোনা নিয়ে আতঙ্ক নয় বরং সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। করোনা মোকাবেলায় তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও জোর দিয়েছেন।

পরিসংখ্যানও বলছে, বিশ্বে করোনাভাইরাসে যে সংখ্যক মৃত্যু হচ্ছে এর চেয়েও অনেক বেশি মৃত্যু হচ্ছে অন্যান্য রোগে। এক হিসাবে দেখা যায়, গত তিন মাসে করোনাভাইরাসে বিশ্বে মৃত্যু হয়েছে তিন লাখ ১৪ হাজার ৬৮৭ জনের। একই সময়ে সাধারণ ঠাণ্ডায় (কমন কোল্ড) মৃতের সংখ্যা তিন লাখ ৬৯ হাজার ৬০২, ম্যালেরিয়ায় তিন লাখ ৪০ হাজার ৫৮৪। গত তিন মাসে বিশ্বে আত্মহত্যা করেছে তিন লাখ ৫৩ হাজার ৬৯৬ জন। ওই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৯ জনের, এইচআইভিতে দুই লাখ ৪০ হাজার ৯৫০ জনের, অ্যালকোহলে পাঁচ লাখ ৫৮ হাজার ৪৭১ জনের, ধূমপানে আট লাখ ১৬ হাজার ৪৯৮ জনের ও ক্যান্সারে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনা নিয়ে অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক কাটাতে সহায়ক এমন আরো তথ্য-উপাত্তও পাওয়া যায়। যেমন—বিশ্বে এ যাবৎ ৫৯ লাখ ২০ হাজার জন করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। এর মধ্যে বিদেশে সংক্রমিত হয়েছে ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫৬ জন। এর অর্থ হলো সম্প্রতি বিদেশ সফর করে না থাকলে উদ্বেগ ৯৫ শতাংশ কমা উচিত। আর যদি কেউ করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়েই যায় তাহলেও তার আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। করোনা সংক্রমণের ৮১ শতাংশ ঘটনাই মৃদু, ১৪ শতাংশ মাঝারি এবং মাত্র ৫ শতাংশ জটিল হয়। এর অর্থ ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

অনেকে বলে থাকেন, করোনা সোয়াইন ফ্লু ও সার্সের চেয়েও ভয়াবহ। কিন্তু সার্সে মৃত্যুর হার ছিল ১০ শতাংশ, সোয়াইন ফ্লুতে ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে করোনাভাইরাসে ২ শতাংশ। করোনাভাইরাসে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিদের বয়স বিবেচনায় নিলে দেখা যায়, ৫৫ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যু হার মাত্র ০.৪ শতাংশ।

গত ১ মে বিশ্বে করোনাভাইরাসে ছয় হাজার ৪০৬ জনের মৃত্যু হয়। ওই একই দিনে ক্যান্সারে ২৬ হাজার ২৮৩ জন, হৃদেরাগে ২৪ হাজার ৬৪১ জন, ডায়াবেটিসে চার হাজার ৩০০ জন মারা গেছে। ভাইরাসের চেয়ে ২৮ গুণ বেশি মৃত্যু হয়েছে আত্মহত্যায়। মশার কারণে প্রতিদিন বিশ্বে দুই হাজার ৭৪০ জনের মৃত্যু হয়। প্রতিদিন মানুষের হাতে এক হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়। সাপের কামড়ে প্রতিদিন মারা যায় ১৩৭ জন। শার্কের আঘাতে প্রতিবছর বিশ্বে অন্তত দুজন নিহত হয়।

তাই করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক নয়, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দৈনন্দিন করণীয়গুলো করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত।

মন্তব্য